বাংলার জন্য ক্লিক করুন
   সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর 2020 | ,২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৭
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   শেয়ার করুন
Share Button
   নগর - মহানগর
  মেয়রের সামনে দুটি নতুন চ্যালেঞ্জ
  23, September, 2016, 4:47:11:PM

সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম মহানগরের দুটি বড় সমস্যা বা আলোচিত বিষয় হচ্ছে অসহনীয় ও ভয়াবহ যানজট এবং ফুটপাতসহ রাস’া দখলকারী হকারদের বিশৃঙ্খলা। একদিকে রাস্তাঘাট দখল করে হকারদের ব্যবসা, অন্যদিকে নগরীর মোড়ে মোড়ে গাড়ির অবৈধ পার্কিং নগরবাসীর জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এতে করে নষ্ট হচ্ছে কর্মজীবী মানুষের কর্মঘণ্টা।
গত মাসে নগরীর যানজট ও হকারদের বিশৃঙ্খলা নিয়ে চট্টগ্রামের সংবাদপত্রগুলো একযোগে প্রকাশ করেছে অভিন্ন প্রতিবেদন। যা সুধীমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। অনেক সুধীজন এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেছিলেন, অন্তত চট্টগ্রামের সংবাদপত্রগুলো এক হতে পেরেছে। প্রতিবেদনগুলো প্রকাশিত হওয়ার পর কিছুটা হলেও টনক নড়ে প্রশাসনের। নগরীর কিছু কিছু মোড়ে ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত তৎপরতাও দেখা গিয়েছিল। এরপর প্রশাসনের আর কোন তৎপরতা চোখে পড়ছে না।
পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচল ও দুর্ঘটনা রোধে ফুটপাত নির্মাণ করা হয়। কিন’ সেই ফুটপাতের সবটুকুই চলে গেছে হকার বা দোকানদারদের দখলে। রাস্তায়ও অবস’ান করছেন হকাররা। ফলে বাধ্য হয়ে পথচারীরা নামছে রাস্তায়। এতে স্বাভাবিক যানচলাচল ব্যাহত হয়ে নিত্য যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
গ্রিন ও ক্লিন সিটি গড়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নগরীর রাস্তাঘাট মেরামত, আলোকায়ন ও ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহ অগ্রাধিকার দিলেও পরিবহনে ভয়াবহ যানজটের ভার বরাবরই ট্রাফিক বিভাগের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে আসছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। তবে সাম্প্রতিককালে মন্ত্রীর কথায় জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরীতে যানজট নিরসনের মূল দায়িত্বে আছেন মেয়র। কয়েকদিন আগে একটি সভায় যানজট নিরসনে মেয়রকে প্রধান করে মন্ত্রী কর্তৃক গঠন করে দেওয়া কমিটি অনেক সময় পার হলেও কোন বৈঠক না করায় দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন ওবাায়দুল কাদের। নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন সভা-সমাবেশে মেয়র হকারদের শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনতে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, ‘চট্টগ্রামের রাস্তায় কোন হকার থাকবে না। যত্রতত্র ব্যবসা করা এসব হকারকে নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ঈদের পর তাদের একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনার কথা ছিল। রোজার সময় মেয়র বলেছিলেন, ঈদের পরই শুরু হচ্ছে হকারদের শৃঙ্খলা আনয়নের কাজ। কিন্তু রোজার ঈদের প্রায় আড়াই মাস পার হলেও এখনো হকারদের নীতিমালার আওতায় আনতে পারেনি চসিক।
ফলে নগর পরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে মন্ত্রীর দেওয়া দায়িত্ব ও হকারদের নীতিমালার আওতায় আনতে দুটি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। আশার কথা হলো, এ দুটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকসহ বিআরটিএ’র কর্মকর্তাদের পাশে পাচ্ছেন মেয়র। ইতিমধ্যে মেয়র সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরকে বিলবোর্ড মুক্ত করে প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ডোর টু ডোর বর্জ্য অপসারণের জন্য পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগে বাধা দুর হয়েছে। স’ানীয় সরকার বিভাগের সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন হচ্ছে। দ্বিতীয় দফায় ৫৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন পেয়েছেন চসিক। তাই নগরবাসী এখন মেয়রের দিকে তাকিয়ে আছেন, নগর পরিবহনে ও হকারদের শৃঙ্খলায় আনয়নে মেয়র কিভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেন।
গতকাল বুধবার মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন নগরীর যানজট নিরসনে গঠিত কমিটির প্রথম সভা করেন। এর আগে হকারদের একটি নীতিমালায় আনার জন্য বারবার হকার সমিতি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঈদের আগে ও পরে বৈঠকও করেছেন। তবে তাতে কোন ফলাফল আসেনি।
বৈঠকে মেয়র বলেছিলেন, হকারদের বিকেল ৫টা বা ৬টা থেকে রাত ১১ পর্যন্ত ব্যবসা করার সুযোগ দেয়া হবে। অর্থাৎ দিনে কোন হকার সড়ক কিংবা ফুটপাতে থাকবে না। এতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্কুল কলেজ এবং অফিসগামী মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবে। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ভ্যানে করে হকাররা জিনিসপত্র বিক্রি করবে। এরপর মালামাল নিয়ে তারা চলে যাবে। নির্দিষ্ট সময়ের আগে কোন অবস’াতেই রাস্তায় বা ফুটপাতে বসতে পারবে না।’
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেহেতু রাস্তাঘাট ও ফুটপাত দেখাশোনার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের, সেহেতু যানজট নিরসন করতে সিটি করপোরেশন আইনের প্রয়োগ করতে পারে। ফুটপাত দখলমুক্ত করাও সিটি করপোরেশনের কাজ।
যানজট নিরসন ও হকারদের শৃঙ্খলায় আনার বিষয়ে মেয়রের ভূমিকা নিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ সুভাষ বড়-য়া বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহরের যানজট নিরসনের জন্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও মেয়রের সদিচ্ছা প্রয়োজন। শুনেছি মন্ত্রী দায়িত্ব দিয়েছেন মেয়রকে। এখন মেয়র কি সিদ্ধান্ত নেন জানি না। যানজট নিরসনের জন্য প্রয়োজন ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট। মোড়ে মোড়ে পার্কিং বন্ধ করতে হবে। আইনপ্রয়োগ বাধ্যমূলক করতে হবে। এখানে মেয়রের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। এক্ষেত্রে কারো সাথে আপোষ করার প্রয়োজন নেই। কারো সাথে বসার প্রয়োজন নেই। তবে হকারদের সমস্যার কথা শুনতে হবে। পুলিশ দিয়ে হকার তুলে দিলে কোন সুফল আসবে না।’
নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মাসুদ উল হাসান বলেন, ‘গতকাল বুধবার দুটি সভা হয়েছে। যানজট নিরসনে আমরা সিটি করপোরেশনের সাথে এক সঙ্গে কাজ করব।’
এদিকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে যানজট নিরসন ও হকারদের শৃঙ্খলা আনার চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস’ত আছেন বলে জানিয়েছেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। গতকাল সুপ্রভাত বাংলাদেশকে মেয়র বলেন, ‘এ দুটি বিষয়ে চ্যালেঞ্জ নিতে আমি শতভাগ প্রস’ত আছি। আমি মনে করি মানুষের অসাধ্য কিছুই নেই। আমার যোগ্যতার প্রতিফল নির্ভর করবে আমার সদিচ্ছার উপর। প্রধানমন্ত্রী আমার উপর যে আস’া রেখেছেন, তার প্রতিদান আমি জীবন দিয়ে হলেও দেব। আমি কাজ করছি। আরো লম্বা সময় পাড়ি দিতে হবে। আল্লাহ আমাকে ক্ষমতা, যোগ্যতা ও মেধা দিয়েছেন। সেগুলো প্রয়োগ করে এ দুটি ক্ষেত্রে আমি সফল হবো। জীবনে আমার কোন ব্যর্থতা নেই।’
তবে এবারও তিনি যানজট নিরসন সিটি করপোরেশনের এখতিয়ার নয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যানজট নিরসন সরাসারি দায়িত্ব নয়। নগরের একজন হিসেবে পরোক্ষভাবে এ বিষয়ে আমি অবগত আছি। মেয়রের এখতিয়ার কি? কার্যপরিধি কি? ক্ষমতা কি? সব ম্যানুয়েলে নির্ধারিত আছে। তবুও মন্ত্রী মহোদয় যেহেতু আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন, সেহেতু গত বুধবার আমি একটি সভা করেছি। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সভাটি শেষ করেছি। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ-আলোচনা করেছি। কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেছি। সমাধানের পথও শিগগিরই বের করব। মন্ত্রীকে আমি বলেছি, আমার পক্ষে যে পদক্ষেপ নেওয়ার তা আমি নেব।’
হকারদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হকারদের শৃঙ্খলায় আনার ব্যাপারে আমি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছি। হকারদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই হবে। এটা বাস্তবায়ন করা সময়ের ব্যাপার। অন্যান্য অনেক বিষয়ের সাথে এটা সম্পর্কিত। এখানে পুলিশ প্রশাসনের একটি বিষয় আছে। আগামী মাসে আবার হকারদের ডাকব। তাদেরকে একটি সময় নির্ধারণ করে দেব।’
কবে হকারদের নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন জানতে চাইলে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন দিনক্ষণের কথা মেয়র বলতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘শুরু তো করব। পরিকল্পনা তো আছে। মানুষ তো আমি একজন। সব তো আর একসাথে করা যায় না।’
অন্যদিকে, হকার নেতা সাহিন আহমেদ সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, ‘হকারদের নীতিমালা নিয়ে মেয়র খসড়া তৈরি করছেন। খসড়া তৈরির কাজ শেষ হলে তিনি আমাদেরকে নিয়ে আবার বসবেন। তখন একটা সমঝোতা হতে পারে।’
এছাড়া গত মার্চে হকারদের শৃঙ্খলায় আনতে একটি মতবিনিময় সভা করে চসিক। রেজিস্টার্ড হকার সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল প্রকৃত হকারদের একটি তালিকা প্রণয়ন, গুরুত্বপূর্ণ ফুটপাতগুলোতে জনসাধারণের নির্বিঘ্নে চলাচলের পথ রেখে হকারদের বসার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিমাপের ভিত্তিতে জায়গা চিহ্নিত করা, সিটি করপোরেশন এবং হকারদের অর্থে হকারদের দোকানের সংখ্যার ওপর আধুনিক পদ্ধতিতে ভেহিকেল তৈরি, হকারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও ভেহিকেল প্রাপ্তির পর পুলিশ প্রশাসন, ইপিজেড কর্তৃপক্ষ ও নৌবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে হকারদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনার পদক্ষেপ বাস্তবায়ন এবং হকারদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন করা।
নগরীর নিউমার্কেট, স্টেশন রোড, বহদ্দারহাট, ২নম্বর গেইট, মুরাদপুর, চকবাজার, কাজির দেউড়ি, দেওয়ান হাট মোড়, অগ্রাবাদ, আন্দরকিল্লা, নাসিরাবাদ, কর্ণফুলী নতুন ব্রিজ, লালদীঘির দু’পাড়, জুবিলী রোড, আমতলা, তিনপুলের মাথা, বন্দর ফকিরহাট, পতেঙ্গা, ইপিজেড়, বহদ্দারহাট, অক্সিজেন মোড়সহ অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ফুটপাতে হকারদের অবৈধ স’াপনা আছে ফুটপাত-রাস্তা দখল করে।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 729        
   আপনার মতামত দিন
     নগর - মহানগর
দনিয়া ইউনিয়নে ১২৪ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন
.............................................................................................
মেয়রের সামনে দুটি নতুন চ্যালেঞ্জ
.............................................................................................
চট্টগ্রামে সার কারখানায় আগুন
.............................................................................................
ঈদে ৬ দিন মহাসড়কে ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ
.............................................................................................
শিক্ষকতার পেশায় দক্ষতা পাঠদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে : মেয়র
.............................................................................................
চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকা ও সিলেটের ট্রেন চলাচল বন্ধ
.............................................................................................
নগরের চেনা দৃশ্য বদলে দিচ্ছেন মেয়র আনিসুল
.............................................................................................

সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আবদুল মালেক, যুগ্ন সম্পাদক: নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া । সম্পাদক র্কতৃক ২৪৪ ( প্রথম তলা ) ৪ নং জাতীয় স্টেডিয়াম, কমলাপুর, ঢাকা -১২১৪ থেকে প্রকাশিত এবং স্যানমিক প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজেস, ৫২/২ টয়েনবি র্সাকুলার রোড, ঢাকা -১০০০ থেকে মুদ্রিত । ফোন:- ০২-৭২৭৩৪৯৩, মোবাইল: ০১৭৪১-৭৪৯৮২৪, E-mail: info@dailynoboalo.com, noboalo24@gmail.com Design Developed By : Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD