বাংলার জন্য ক্লিক করুন
   শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর 2020 | ,২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৭
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   অপরাধ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
পাহাড়খেকোদের আস্তানায় এসিল্যান্ডের অভিযান, এস্কেভেটর জব্দ

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে প্রভাবশালী পাহাড়খেকোদের আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর হোসেন। এ সময় অভিযানের খবর পেয়ে পাহাড়খেকোরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে একটি এস্কেভেটর জব্দ করা হয়।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসারের নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর হোসেন ২০ নভেম্বর রাতে এ অভিযান চালায়। অভিযানের ফলে পাহাড়খেকোদের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের অন্তত ২০ একরের বিশাল একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড়। 

জানা যায়, চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে ব্যক্তি মালিকানাধীন অন্তত ২০ একরের একটি বিশাল পাহাড় রয়েছে। এটি পর্যায়ক্রমে সাবাড় করতে ইতোমধ্যে সকল পরিকল্পনা সম্পন্ন করে একটি প্রভাবশালী পাহাড়খেকো চক্র।

তারই অংশ হিসেবে পাহাড়খেকো চক্রটি স্থানীয় প্রশাসনের অগোচরে গত কয়েকদিন ধরে পাহাড় কাটার পর গত ২০ নভেম্বর বিকালে বিষয়টি নজরে আসে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসারের। তৎক্ষণাৎ তিনি পাহাড় কাটাস্থলে অভিযান পরিচালনার জন্য চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর হোসেনকে নির্দেশ দেন।

নির্দেশনা পেয়ে ২০ নভেম্বর রাতেই স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তাকে (তহশিলদার) সাথে নিয়ে পাহাড় কাটাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন এসিল্যান্ড। অভিযানের খবর পেয়ে পাহাড়খেকোরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে একটি এস্কেভেটর জব্দ করেন তিনি। পরে এস্কেভেটরটি স্থানীয় চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হয়।  

খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, ব্যক্তি মালিকাধীন বিশাল আকৃতির পাহাড়টি কাটছিলেন চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের শাহ আলমের ছেলে সরোয়ার, মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে এরশাদুর রহমান, হাবিবুর রহমানের ছেলে মনসুর আলম, মাকসুদুল আলমের ছেলে হাসানুল ইসলাম আদর ও উখিয়া উপজেলার ইনানী এলাকার বদিউর রহমানের ছেলে নুরুল হক। তারা এস্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে ডাম্পার (পিকআপ) ভর্তি করে বিভিন্ন জায়গায় মাটি বিক্রি করে আসছিল। গত ২০ নভেম্বর জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাদের সব পরিকল্পনা ভন্ডুল হয়ে যায়।

তবে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সাময়িকভাবে পাহাড় কাটা বন্ধ হলেও আদৌ রাঘববোয়ালদের হাত থেকে পাহাড়টি রক্ষা পাবে কিনা তা নিয়ে তাদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। 

অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর হোসেন বলেন, খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে গত ২০ নভেম্বর রাতে ওই এলাকায় অভিযান চালাই। এ সময় অভিযানের খবর পেয়ে পাহাড়খেকোরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে একটি এস্কেভেটর জব্দ করে পরে তা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিষয়টির ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালককে অবহিত করা হয় বলেও জানান তিনি। 

এ ব্যাপারে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নুরুল আমিন বলেন, খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে পাহাড় কাটার খবর পেয়ে স্থানীয় তহশিলদারকে (ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা) সাথে নিয়ে দু’দফায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। এ সময় স্থানীয়দের সাথে কথা বলে পাহাড় কাটার সাথে জড়িত বেশ কয়েকজন নাম-পরিচয় জানা গেছে। পাহাড় কাটার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে পরবর্তীতে পরিবেশ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পাহাড়খেকোদের আস্তানায় এসিল্যান্ডের অভিযান, এস্কেভেটর জব্দ
                                  

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে প্রভাবশালী পাহাড়খেকোদের আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর হোসেন। এ সময় অভিযানের খবর পেয়ে পাহাড়খেকোরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে একটি এস্কেভেটর জব্দ করা হয়।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসারের নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর হোসেন ২০ নভেম্বর রাতে এ অভিযান চালায়। অভিযানের ফলে পাহাড়খেকোদের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের অন্তত ২০ একরের বিশাল একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড়। 

জানা যায়, চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে ব্যক্তি মালিকানাধীন অন্তত ২০ একরের একটি বিশাল পাহাড় রয়েছে। এটি পর্যায়ক্রমে সাবাড় করতে ইতোমধ্যে সকল পরিকল্পনা সম্পন্ন করে একটি প্রভাবশালী পাহাড়খেকো চক্র।

তারই অংশ হিসেবে পাহাড়খেকো চক্রটি স্থানীয় প্রশাসনের অগোচরে গত কয়েকদিন ধরে পাহাড় কাটার পর গত ২০ নভেম্বর বিকালে বিষয়টি নজরে আসে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসারের। তৎক্ষণাৎ তিনি পাহাড় কাটাস্থলে অভিযান পরিচালনার জন্য চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর হোসেনকে নির্দেশ দেন।

নির্দেশনা পেয়ে ২০ নভেম্বর রাতেই স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তাকে (তহশিলদার) সাথে নিয়ে পাহাড় কাটাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন এসিল্যান্ড। অভিযানের খবর পেয়ে পাহাড়খেকোরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে একটি এস্কেভেটর জব্দ করেন তিনি। পরে এস্কেভেটরটি স্থানীয় চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হয়।  

খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, ব্যক্তি মালিকাধীন বিশাল আকৃতির পাহাড়টি কাটছিলেন চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের শাহ আলমের ছেলে সরোয়ার, মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে এরশাদুর রহমান, হাবিবুর রহমানের ছেলে মনসুর আলম, মাকসুদুল আলমের ছেলে হাসানুল ইসলাম আদর ও উখিয়া উপজেলার ইনানী এলাকার বদিউর রহমানের ছেলে নুরুল হক। তারা এস্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে ডাম্পার (পিকআপ) ভর্তি করে বিভিন্ন জায়গায় মাটি বিক্রি করে আসছিল। গত ২০ নভেম্বর জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাদের সব পরিকল্পনা ভন্ডুল হয়ে যায়।

তবে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সাময়িকভাবে পাহাড় কাটা বন্ধ হলেও আদৌ রাঘববোয়ালদের হাত থেকে পাহাড়টি রক্ষা পাবে কিনা তা নিয়ে তাদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। 

অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর হোসেন বলেন, খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে গত ২০ নভেম্বর রাতে ওই এলাকায় অভিযান চালাই। এ সময় অভিযানের খবর পেয়ে পাহাড়খেকোরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে একটি এস্কেভেটর জব্দ করে পরে তা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিষয়টির ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালককে অবহিত করা হয় বলেও জানান তিনি। 

এ ব্যাপারে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নুরুল আমিন বলেন, খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে পাহাড় কাটার খবর পেয়ে স্থানীয় তহশিলদারকে (ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা) সাথে নিয়ে দু’দফায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। এ সময় স্থানীয়দের সাথে কথা বলে পাহাড় কাটার সাথে জড়িত বেশ কয়েকজন নাম-পরিচয় জানা গেছে। পাহাড় কাটার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে পরবর্তীতে পরিবেশ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ফেঁসে যেতে পারেন পুলিশসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা
                                  

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ফেঁসে যেতে পারেন স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা এবং গভর্নিং বডির বেশ কয়েকজন সদস্য। তাদের অনেকেই প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে নুসরাত হত্যায় জড়িত কিংবা ঘটনা জেনেও কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখেননি।

স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন যথাযথ ভূমিকা নিলে নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা এড়ানো যেত বলে পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত কমিটির প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের অভিমত, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর থেকে নুসরাত হত্যা পর্যন্ত কোনো পর্যায়েই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন দরকারি ভূমিকা পালন করেনি।

দীর্ঘ হচ্ছে জড়িতদের তালিকা : নুসরাত হত্যার ঘটনায় জড়িতদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। ঘটনার পরিকল্পনা, কিলিং মিশন বাস্তবায়ন, খুনে অর্থ ব্যয়সহ নানাভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনের সংশ্লিষ্টতা মিলেছে। এ তালিকা আরো বাড়তে পারে। শিগগিরই চাঞ্চল্যকর এ মামলার চার্জশিট দাখিল করবে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সংস্থাটির প্রধান ও ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার জানান, নুসরাত হত্যা মামলার তদন্ত এগিয়ে চলছে। যাদের এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। আর পিবিআই চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান এসপি মোহাম্মদ ইকবাল জানান, নুসরাত হত্যা মামলায় চারজন আসামির জবানবন্দিতে ২৪-২৫ জনের নাম এসেছে। এখন তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব আসামিকে গ্রেফতার করা হবে। এখন পর্যন্ত ১৮ জন গ্রেফতার হয়েছে।

এদিকে পুলিশ সদর দফতরের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ডিআইজি এস এম রুহুল আমিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অধ্যক্ষ সিরাজের চারিত্রিক বিভিন্ন বিষয় তদন্তে উঠে এসেছে। আগেও এ রকম কিছু সমস্যা ছিল। তখন যদি গভর্নিং কমিটি ব্যবস্থা নিত, তাহলে এ ঘটনা ঘটত না। তিনি বলেন, গভর্নিং কমিটির সবাই নয়, কিছু সদস্য নুসরাত হত্যায় জড়িত ছিল। নুসরাত হত্যায় স্থানীয় রাজনীতিও জড়িত। তবে যে-ই জড়িত থাকুক, তাকে গ্রেফতার করা হবে। তদন্ত কমিটি গতকাল সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য নিয়েছে। রুহুল আমিন আরো জানান, ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। নুসরাত হত্যার ঘটনায় ওসির কোনো গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলা থাকলে, অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তদন্ত শেষ হতে তিন-চার দিন সময় লাগবে।

ফেঁসে যাচ্ছেন শিক্ষক, গভর্নিং বডির সদস্যসহ এসপি-ওসিও : নুসরাতের শরীরে আগুন দেওয়ার ঘটনার পরও ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) জাহাঙ্গীর আলম সরকার এবং সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের আচরণ ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তাদের আচরণে পেশাদারত্বের ন্যূনতম ছাপ ছিল না। উল্টো নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনাকে ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রচারের চেষ্টা ছিল তাদের। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ডিআইজি এস এম রুহুল আমিনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা সোনাগাজীতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কমিটির সংশ্লিষ্টরা জানান, যৌন হয়রানির অভিযোগ করার পর ওসি মোয়াজ্জেম যেভাবে নুসরাতকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন, সেটা যথাযথ হয়নি। ভুক্তভোগী নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাটিও নজিরবিহীন। এ ঘটনার যথাযথ তদন্ত শেষে এসপি ও ওসির ভূমিকা এবং স্থানীয় পুলিশের কোনো সদস্যের গাফিলতি ছিল কি না—সে ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত ও প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি এস এম রুহুল আমিন জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত শিক্ষক, গভর্নিং বডি, নুসরাতের পরিবারসহ ১৫ জনের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। বক্তব্যগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজের আরো অনেক অপকর্মের তথ্য মিলেছে। আগে ব্যবস্থা নিলে নুসরাতের ঘটনাটি এড়ানো যেত। মাদরাসা গভর্নিং বডির গাফিলতি আছে। সবকিছুরই তদন্ত হচ্ছে। এসপি ও ওসিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এদিকে নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় একাধিক আসামির জবানবন্দিতে নাম আসা সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনকে আটক করেছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। এ ছাড়া নুসরাত হত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে ঢাকা থেকে সোনাগাজীর উদ্দেশে একটি রোডমার্চের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে যৌন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থী জোট এ রোডমার্চের ঘোষণা দেয়।

বেরিয়ে আসছে অধ্যক্ষ সিরাজের কুকীর্তি : ২০০১ সালের ১ জুন অভিজ্ঞতার জাল সনদ দিয়ে উপাধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় সিরাজের ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অপকর্মের পথচলা। জামায়াতের রোকন থেকে ২০১৬ সালে বহিষ্কৃত হলেও সব আমলেই তার অপকর্ম অব্যাহত রাখেন আজ্ঞাবহ ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে রুহুল আমিন সহসভাপতি হওয়ার পর অধ্যক্ষের অপকর্ম বেড়ে যায়। যৌন নিপীড়নের বিচার চাওয়ায় গত অক্টোবরে এক ছাত্রীর পরিবারকে হয়রানির মুখে পড়তে হয়। আর প্রতিবাদ করায় প্রাণ দিতে হয় নুসরাতকে।

২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর আলিম দ্বিতীয় বর্ষের আরেক ছাত্রীকে নিপীড়ন করেন অধ্যক্ষ সিরাজ। লজ্জা ও অপমানে ওই ছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে ওই ছাত্রীর বাবা মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতির কাছে লিখিতভাবে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। ওই অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও গভর্নিং বডির অন্য সদস্যদেরও দেওয়া হয়। কিন্তু অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশনে যাননি গভর্নিং বডি ও স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। বারবার গুরুতর অভিযোগ উঠলেও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় নুসরাতের ওই পরিণতি হয়েছে।

অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে ১২টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্টদের চিঠি পাঠিয়েছিলেন মাদরাসার ১৬ শিক্ষক। কিন্তু তাদের সেই অভিযোগ আমলে আসেনি কখনো। উল্টো ওইসব শিক্ষককে নানাভাবে হয়রানি করেছেন অধ্যক্ষ সিরাজ। অভিযোগে উঠে আসে, কোনো শিক্ষকের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ব্যাপারে মতানৈক্য হলেই সঙ্গে সঙ্গে ওই শিক্ষককে শোকজ, বেতন কর্তন, চাকরিচ্যুত করার হুমকি দিতেন অধ্যক্ষ। বিভিন্ন শ্রেণিতে ছাত্রছাত্রী ভর্তি, ফরম পূরণ, উপবৃত্তিসহ আর্থিক সব লেনদেন নিজেই করতেন তিনি। এসবের প্রতিবাদ করলে শিক্ষককে বহিষ্কারের ঘটনাও ঘটেছে। বিভিন্ন সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতেন যেন তার অপকর্ম ধরা না হয়। মাদরাসায় আসা মানতের ও লিল্লাহ বিভাগের পশু বিক্রি করে সে টাকাও নিজের পকেটে ভরতেন। কোনো আয়-ব্যয়ের হিসাবও দিতেন না তিনি। এসব কাজে গভর্নিং বডির পূর্ণসহায়তা পেয়েছেন তিনি। আর তাই নির্বিঘ্নে হরিলুট করেছেন অধ্যক্ষ সিরাজ।

গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। কয়েকজন তাকে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত। এর আগে ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। এদিকে নুসরাত হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ১৮ জনকে। এদের মধ্যে এজাহারভুক্ত আটজনই গ্রেফতার হয়েছে। আর আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে চারজন। সবশেষ গতকাল সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদরাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি রুহুল আমিনকেও আটক করা হয়।

রিমান্ডে থাকা মণিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পিবিআই : ফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় সহপাঠী কামরুন্নাহার ওরফে মণিকে নিয়ে ঘটনাস্থল ও বোরকার দোকান পরিদর্শন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতকাল শুক্রবার দুপুরে পিবিআইয়ের একটি দল রিমান্ডে থাকা মণিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে।

পিবিআইয়ের দলটি সোনাগাজী মাদরাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেখানে নুসরাতকে কীভাবে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তার বিবরণ দেন মণি। মো. শাহ আলম আরো বলেন, গ্রেফতার হওয়া মণির কাছ থেকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া পুরুষদের গায়ে থাকা বোরকাগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি, পাক হাইকমিশনারকে তলব
                                  

পাকিস্তানের ওয়েবসাইটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তির জেরে ঢাকায় দেশটির ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার শাহ ফয়সাল কাকারকে তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি এবং অপপ্রচারের প্রতিবাদে তাকে তলব করা হয়।

মঙ্গলবার বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাক হাইকমিশনার শাহ ফয়সাল কাকারকে তলব করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। তাকে তলব করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক তারিক মোহাম্মদ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পাকিস্তানের একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আপত্তিকর তথ্য প্রচার করেছে দেশটি। বিষয়টি নজরে আসায় মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার শাহ ফয়সাল কাকারকে তলব করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।

ফালু দম্পতির সম্পত্তি জব্দ
                                  

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী ফালু ও তার স্ত্রী মাহবুবা সুলতানার সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদেশে তাদের সম্পত্তি জব্দ করা হয় বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালতের এই আদেশের ফলে তারা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর করতে পারবেন না। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চালাতে কোনো বাধা থাকবে না।

মোসাদ্দেক আলী ফালুর জব্দ করা সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে- রাজধানীর উত্তরখানে দুটি স্থানে মোট ৬৭ শতাংশ জমি, বড় মগবাজারের পাঁচ স্থানে ৪৫ শতাংশ জমি, বঙ্গবন্ধু এভিউনিউতে দুটি দোকান, কাকরাইলের দুই জায়গায় ১৮ শতাংশ জমি, বাউনিয়া সাড়ে ৮২ শতাংশ নিচু জমি, তেজগাঁও শিল্প এলাকায় সাড়ে ছয় শতাংশ জমি ও দক্ষিণ শাহজাহানপুরে একটি ফ্ল্যাট।

এছাড়া ফালুর মালিকানাধীন ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশন চ্যানেল লিমিটেড (এনটিভি), রোজা এ্যাগ্রো  লিমিটেড, রোজা প্রোপার্টিজ লিমিটেড ও স্টার পোরসিলিন প্রাইভেট লিমিটেডের শেয়ারও জব্দ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ফালুর স্ত্রী মাহবুবা সুলতানার জব্দ করা সম্পদের মধ্যে রয়েছে- গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এলাকায় ছয়তলা বাড়ি এবং তার নামে থাকা ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশন চ্যানেল লিমিটেড (এনটিভি), রোজা এ্যাগ্রো  লিমিটেড ও এমএএইচ সিকিউরিটিজ লিমিটেডের সকল শেয়ার।

দুদকের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৭ সালে করা পৃথক দুই মামলার তদন্তের স্বার্থে গত সেপ্টেম্বরে আদালত থেকে ওই জব্দের নির্দেশনা দেওয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ আহমেদের আবেদনের পরিপ্রক্ষিতে ওই আদেশ দেয় আদালত।

এর আগে গত ২১ জানুয়ারি প্রায় ২২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ফালু ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয় দুদক।

ফালুর বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ১৫ মে রমনা থানায় এই মামলা করে দুদক। মামলায় ফালুর বিরুদ্ধে ১৭ কোটি ৮৬ লাখ ৬৮ হাজার ৩৯৮ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।

অপরদিকে একই বছরের ১০ অগাস্ট ফালুর স্ত্রী মাহবুবা সুলতানার বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৩ লাখ ৮৮ হাজার ৪৭২ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক।

ভারতে পাচারকালে বেনাপোলে ৯ বাংলাদেশি উদ্ধার
                                  

বাংলাদেশের বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত দিয়ে আজ শুক্রবার ভারতে পাচালকালে নয় বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তাদের মধ্যে পাঁচজন নারী ও দুজন শিশু। তাদের বাড়ি ফরিদপুর, নড়াইল ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

৪৯ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার আরিফুল হক বলেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিজিবির একটি দল সকালে সাদিপুর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে নয়জনকে উদ্ধার করে। তাদের বেনাপোল বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

অভিযানকালে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।-ইউএনবি

রাজধানীতে ছিনতাই হওয়া স্কুটি উদ্ধার ॥ ছিনতাইকারী আটক
                                  

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া এভিনিউতে শাহানাজ নামে এক নারীর ছিনতাই হওয়া স্কুটি (মোটর বাইক) উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের রঘুনাথপুর গ্রাম থেকে ছিনতাইকারী জোবায়দুল ইসলাম জনিকেও গ্রেফতার করেছে। তাকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে চালানোর বাহানায় জনি নামের এক দুর্বৃত্ত স্কুটিটি ছিনতাই করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
আজ বুধবার পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনারের (ডিসি) কার্যালয়ে স্কুটি উদ্ধারে বিস্তারিত তথ্য জানাতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার বলেন, শাহানাজ বাদী হয়ে স্কুটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় জনিকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করার পর পুলিশের একটি টিম কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জনির নম্বর ট্রেস করে তার বোনের মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়। এরপর তার বোনের কাছ থেকে নারায়ণগঞ্জের একটা ঠিকানা নিয়ে সে অনুযায়ী রাতেই নারায়ণগঞ্জের রঘুনাথপুর গ্রাম থেকে জনিকে গ্রেফতার এবং স্কুটিটি উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, জনি নিজেকে অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিংয়ের রাইডার হিসেবে পরিচয় দিলেও তার আসল উদ্দেশ্য বাইক চুরি করা। সে আর কোনো চুরির সঙ্গে জড়িত রয়েছে কিনা, তা যাচাই করে দেখতে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এসময় ওই সংবাদ সম্মেলনে আবেগআপ্লুত শাহনাজ আক্তার পুতুল পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পুলিশ চেষ্টা করলে সবই পারে, এটা আবারও প্রমাণিত হলো ।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া এভিনিউতে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে স্কুটিটি ছিনতাই হয়। এদিন রাতেই শাহানাজ বাদী হয়ে জনিকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ব্যাংকের ১৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেফতার ৩ কর্মকর্তা
                                  

চট্টগ্রামে প্রায় ১৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পূবালী ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে ব্যাংকের চকবাজার শাখা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- পূবালী ব্যাংকের চকবাজার শাখার ব্যবস্থাপক এনামুল করিম চৌধুরী, জুনিয়র অফিসার ইকরামুল রেজা রিজভী এবং কম্পিউটার অপারেটন চন্দন দে। 

এর আগে রোববার ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক এবং চট্টগ্রামের আঞ্চলিক মহাব্যবস্থাপক মনজুরুল ইসলাম মজুমদার বাদি হয়ে গ্রেফতার তিন ব্যাংক কর্মকর্তা এবং একজন গ্রাহকসহ মোট সাতজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যাংকের ১২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। 

চকবাজার থানার ওসি নিজাম উদ্দিন জানান, গত ৭ জানুয়ারি মো. হারুনর রশিদ নামের এক গ্রাহক চারটি চেক দিয়ে তার অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করার অনুরোধ করেন। তার সঙ্গে যোগসাজশে ওই ব্যাংক কর্মকর্তারা ক্লিয়ারেন্স ছাড়াই অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করেন এবং হারুনর রশিদ সব টাকা তুলে নেন। পরে দেখা যায়, ওই চার চেকের অ্যাকাউন্টে কোনো টাকাই নেই। আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে টাকা আত্মসাৎ করেছেন অভিযোগ করে ব্যাংকের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। হারুন বহদ্দারহাট এলাকায় রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী। পূবালী ব্যাংকের চকবাজার শাখার পুরনো গ্রাহক তিনি। তাকেসহ মামলায় অভিযুক্ত আরও চারজনকে ধরতে অভিযান চলছে।

গণমাধ্যমের ওয়েবসাইট নকলকারী এনামুল গ্রেপ্তার
                                  

রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকা থেকে পিএইচডি গবেষক এনামুল হককে আটক করেছে র‌্যাব-২। শনিবার সকাল ৭টায় তাকে বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে।

র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আনোয়ারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এনামুল দেশের বিভিন্ন অনলাইন নিউজপোর্টালের ওয়েবসাইট ক্লোন (কপি) করতেন। বেশির ভাগ সময় হুবহু কপি করে নিউজ দিলেও মাঝে-মধ্যে নিজের ইচ্ছেমতো সরকার বিরোধী লেখা সেসব সাইটে প্রচার করতেন।’

এর আগে গত বুধবার রাতে আশকোনার একটি বাসা থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে বের হওয়ার পর তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি। এনামুলের দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার কথা ছিল।

এনামুলের গ্রামের বাড়ি পাবনায়। তার বাবার নাম ফজলুল হক। এক পুত্র সন্তানের বাবা এনামুল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা শেষ করে বৃত্তি নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কিওংপুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (কেএনইউ) পিএইচডি করছেন। 

পরিবার ও স্বজনরা জানান, ২২ অক্টোবর এক মাসের ছুটিতে বাংলাদেশে আসেন এনামুল। গত বুধবার রাত ১টার দিকে তার কোরিয়া যাওয়ার কথা ছিল। বুধবার সকালে শ্বশুরবাড়ি টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় এসে আশকোনায় এক বন্ধুর বাসায় ওঠেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বন্ধুর বাসা থেকে বেরিয়ে রিকশায় করে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওয়ানা হন। রাত ১১টা পর্যন্ত মোবাইলে বন্ধুদের সঙ্গে তার কথা হয়। কিন্তু ১১টার পরে মোবাইল ফোন বন্ধ পেলে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পরদিন বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ‘অপহরণকারী’ পরিচয়ে আসে ফোন। শুক্রবার ভোর ৬টার মধ্যে দেড় লাখ টাকা দাবি করা হয়। তার পরিবার কথিত অপহরণকারীদের দেওয়া নম্বরে এক লাখ টাকা পাঠিয়েও তাকে ফেরত পায়নি। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

যুবক খুনের ঘটনায় একজন গ্রেফতার
                                  

নগরীর পাহাড়তলীতে ছুরিকাঘাতে বিশু কুমার ধর (২৮) নামে এক যুবক খুনের ঘটনায় জড়িত ‘একমাত্র’ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পাহাড়তলী থানা পু্লিশ।

আজ শুক্রবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের সামনে থেকে শিমুল ধর প্রকাশ বাবু (৩০) নামে ওই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। বাংলানিউজ

শুক্রবার বিকেলে পাহাড়তলী থানায় সংবাদ সম্মেলন করে শিমুল ধরকে গ্রেফতারের বিষয়টি জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম।

শিমুল ধর দক্ষিণ কাট্টলী বণিকপাড়া এলাকার গোপালকৃষ্ণ ধরের ছেলে। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, রক্তমাখা পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) সদীপ কুমার দাশ।

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি পুলিশকে স্বীকার করেছে শিমুল ধর।

বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাহাড়তলী থানার সাগরিকা শিববাড়ি মোড়ে ছুরিকাঘাতে খুন হন বিশু কুমার ধর। তিনি পাহাড়তলী থানার দক্ষিণ কাট্টলী বণিকপাড়ার মিলন ধরের ছেলে।

মহেশখালীতে পুলিশের সাথে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি
                                  

কক্সবাজারের মহেশখালীর হোয়ানকের পাহাড়ি এলাকায় গভীর রাতে পুলিশের সাথে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় পুলিশ মো. ইউনুস (৫০) নামের এক সন্ত্রাসীকে অাটক করে। পরে তার স্বীকারোক্তি মতে ৩টি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও ১০ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

আজ বুধবার (১০ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের পূর্ব পূঁইছড়া গ্রামের লাল মোহাম্মদ ফকিরের কাটা নামক এলাকায় এঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত সন্ত্রাসী ইউনুস উক্ত গ্রামের মৃত লাল মোহাম্মদ ফকিরের পুত্র।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, বুধবার দিবাগত রাতে থানার এসঅাই রাজু অাহমদ গাজী ও এসঅাই দীপক বিশ্বাস উপজেলার হোয়ানক ইউপিস্থ পাহাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইউনুসকে গ্রেপ্তার করে এবং তার দখলে থাকা ৩টি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও ১০ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে।

তাকে ধরতে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার সঙ্গীয় সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। পুলিশও পাল্টা ২০ রাউন্ড গুলি ছুড়ে। ইউনুসের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, পুলিশের উপর হামলা, অস্ত্র অাইন ও মারামারি সহ ৬টি মামলা রয়েছে। সে ওই এলাকার চিহ্নিত অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসী। তাদের অত্যাচারে এলাকার লোকজন পাহাড়ি জায়গা-জমি ও পান বরজ ভোগ করতে পারে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে।

মহেশখালীতে পুলিশের সাথে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি
                                  

কক্সবাজারের মহেশখালীর হোয়ানকের পাহাড়ি এলাকায় গভীর রাতে পুলিশের সাথে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় পুলিশ মো. ইউনুস (৫০) নামের এক সন্ত্রাসীকে অাটক করে। পরে তার স্বীকারোক্তি মতে ৩টি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও ১০ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

আজ বুধবার (১০ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের পূর্ব পূঁইছড়া গ্রামের লাল মোহাম্মদ ফকিরের কাটা নামক এলাকায় এঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত সন্ত্রাসী ইউনুস উক্ত গ্রামের মৃত লাল মোহাম্মদ ফকিরের পুত্র।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, বুধবার দিবাগত রাতে থানার এসঅাই রাজু অাহমদ গাজী ও এসঅাই দীপক বিশ্বাস উপজেলার হোয়ানক ইউপিস্থ পাহাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইউনুসকে গ্রেপ্তার করে এবং তার দখলে থাকা ৩টি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও ১০ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে।

তাকে ধরতে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার সঙ্গীয় সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। পুলিশও পাল্টা ২০ রাউন্ড গুলি ছুড়ে। ইউনুসের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, পুলিশের উপর হামলা, অস্ত্র অাইন ও মারামারি সহ ৬টি মামলা রয়েছে। সে ওই এলাকার চিহ্নিত অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসী। তাদের অত্যাচারে এলাকার লোকজন পাহাড়ি জায়গা-জমি ও পান বরজ ভোগ করতে পারে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে।

সিনহার ৪ কোটি টাকার জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে দুদক
                                  

ফারমার্স ব্যাংক থেকে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ব্যাংক হিসাবে ৪ কোটি টাকা লেনদেনের ঘটনায় জালিয়াতির তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার বিকেলে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ এ কথা জানান।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ কারও নাম উল্লেখ না করে বলেন, ফারমার্স ব্যাংকের দুটি অ্যাকাউন্ট থেকে ৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা নামে দুই কথিত ব্যবসায়ী অবৈধভাবে ৪ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছিলেন। সেই টাকা অন্য আরেক ব্যবসায়ী হয়ে এস কে সিনহার বাড়ি বিক্রিবাবদ তার ব্যাংক হিসাবে ঢুকেছে বলে অভিযোগ পাওয়ার পর তার তদন্তে নামে দুদক।

দুদক প্রথম থেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’র আড়ালে বিচারপতি সিনহার নাম উহ্য রাখলেও দুদকে জিজ্ঞাসাবাদের পর কথিত দুই ব্যবসায়ীর আইনজীবী বিচারপতি সিনহার সঙ্গে লেনদেনের কথাই বলেন।

ক্ষমতাসীনদের রোষের মুখে এক বছর আগে বিদেশে গিয়ে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেওয়া বিচারপতি সিনহার লেখা বই সম্প্রতি প্রকাশ হওয়ার পর তাকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই তাকে দুদকের তদন্তের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘ফারমার্স ব্যাংকের দুটি অ্যাকাউন্ট থেকে ৪ কোটি টাকা ঋণের ব্যাপারে আমরা তদন্ত করেছি। তদন্ত শেষ হয়ে গেছে। এতে অনেকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বা চিহ্নিত করা হয়েছে। এখানে ঋণ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। আমরা সেগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করছি।’

তদন্তে পাওয়া বিষয়বস্তু তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দুটি অ্যাকাউন্ট থেকে ঋণপ্রক্রিয়া এবং এই টাকা মানি লন্ডারিং বা বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া, নগদ উত্তোলন- এসব বিষয়ে অনেক কিছু এসেছে।’

ঋণ অনিয়মের সঙ্গে সাবেক প্রধান বিচারপতি জড়িত কিনা- এ প্রশ্নে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি থাকুক আর যেই থাকুক। যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বা যাবে, তাদের বিরুদ্ধেই আমরা ব্যবস্থা নেব।’

 

১ লাখ ৭০ হাজার ইয়াবাসহ নারী মডেল গ্রেফতার
                                  

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া উপজেলায় একটি প্রাইভেটকার তল্লাশি চালিয়ে ১ লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৭। এ ঘটনায় একজন নারী মডেলসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার শান্তিরহাট এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- শরীফ (৩২), অর্পণ দাস (৩০) ও মডেল সুমাইয়া আক্তার (১৯)।

র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের সিনিয়র সহকারি পরিচালক (মিডিয়া) মিমতানুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি কক্সবাজার থেকে একটি প্রাইভেট কারে করে ইয়াবা পাচার হচ্ছে। এরপর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ার শান্তিরহাট এলাকায় চেকপোস্ট বসায় র‌্যাব।

তিনি আরো বলেন, একপর্যায়ে একটি প্রাইভেট কার থামিয়ে সেখানে তল্লাশি করা হয়। এ সময় ১ লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। ওই কারে থাকা তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সুমাইয়া আক্তার নামের একজন নারী মডেল আছেন। এ ঘটনায় পটিয়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

খাগড়াছড়িতে ব্রাশফায়ারে নিহত ৬
                                  

খাগড়াছড়িতে প্রতিপক্ষের ব্রাশফায়ারে ইউপিডিএফপ্রসীতসমর্থিত ৩ পিসিপি নেতাসহ ৬জন নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৮ টায় খাগড়াছড়ি জেলা সদরের স্বনির্ভর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীদের গুলিতে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপিখাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি তপন চাকমাপিসিপি সহ সভাপতি এলটন চাকমাগণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা পলাশ চাকমা নিহত হন । এসময় তিন পথচারীও নিহত হন। পথচারী ৩ জন হলেন হলেন সরকারি চাকরিজীবী মহালছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী ও উত্তর খবং পুড়িয়া এলাকার বাসিন্দা জীতায়ন চাকমাএকই গ্রামের কান্দারা চাকমার ছেলে রুপম চাকমা ও প্রকৌশলী ধীরাজ চাকমা। আঞ্চলিক সংগঠনের বিরোধে এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না স্বজনরা। এই ঘটনার জন্য প্রতিপক্ষের আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস(এমএন লারমাও ইউপিডিএফ(গণতান্ত্রিক)কে দায়ী করেছে প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ। সম্প্রতি রাঙামাটির নানিয়াচরে ব্রাশফারের ৫ জন নিহত হওয়ার পর এটিকে সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা হিসেবে দেখছে সচেতন মহল। আশংকা করা হয়েছে আঞ্চলিক দলের বিরোধে আবারো রক্তাক্ত হবে পাহাড়। এই ঘটনায় জনমনে আতংক বিরাজ করছে। পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা দপ্তর সম্পাদক সমর চাকমা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়হামলার প্রতিবাদে আগামী সোমবার (২০ আগস্টখাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক অবরোধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাহাড়ি ছাত্র পরিষদগণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন খাগড়াছড়ি জেলা শাখা এ অবরোধের ডাক দেয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় জেলা সদরের স্বনির্ভর বাজার এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা বাজারের প্রবেশমুখে প্রথমে গুলি চালায়। পরে বাজারের ভিতর ইউপিডিএফ কার্যালয়ের দিকে যায়এসময় ইউপিডিএফ কার্যালয়ের সামনেই পিসিপি সভাপতি তপনএলটন ও পলাশ চাকমাকে গুলি করে হত্যা করে তারা। জানা যায়,খাগড়াছড়ির শিববাড়ি এলাকায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ ছিল। পিসিপির সভাপতি তপনসহ অন্যান্য নেতাকর্র্মীরা সমাবেশ যোগ দিতেই স্বনির্ভর বাজারের ইউপিডিএফ কার্যালয়ের সামনে একত্রিত হয়েছিল। হত্যাকান্ড নিশ্চিত করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। সন্ত্রাসীদের ছোড়া এলোপাথারি গুলিতে পথচারীরা নিহত হন। ঘটনার পরপর স্বনির্ভর এলাকার দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

নিহত পথচারী স্বাস্থ্য সহকারী জীতায়ন চাকমার স্ত্রী প্রভাতি চাকমা ও মেয়ে জুলি চাকমা জানানশনিবার সরকারি বন্ধ হওয়ায় অফিসে যাননি জীতায়ন চাকমা। সকালে নাস্তা করতে বাজারে গিয়েছিলেন তিনি। এসময় সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ঘটনাস্থলে তিনি মারা যান। তারা অভিযোগ করেনস্বনির্ভর বাজার এলাকায় এত নিরাপত্তা থাকার পরও প্রকাশ্যে বাজারে কীভাবে এত লোককে খুন করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়?

সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে আহত হয়েছেন পিসিপি খাগড়াছড়ি সদর থানা শাখার সভাপতি সোহেল চাকমাখাগড়াছড়ি সরকারী কলেজের ছাত্র দ্বিতন চাকমাবেলতলি পাড়ার বাসিন্দা ফেরেস্টার ত্রিপুরা(৩৫), খাগড়াছড়ি সদরের পশ্চিম নারাঙহিয়ে গ্রামের বাসিন্দা ও পদ্ম চাকমার ছেলে চিজি মনি চাকমা(২৫)

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডানয়নময় ত্রিপুরা জানানঘটনাস্থলেই ছয়জন নিহত হয়েছে। এসময় আরো তিনজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

এই ঘটনায় ইউপিএিফ এর ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)-এর খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সংগঠক উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমাগণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি অংগ্য মারমাবৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি)-এর সভাপতি বিনয়ন চাকমা ও শ্রমজীবী ফ্রন্ট(ওয়ার্কার্স ফ্রন্ট)-এর সভাপতি সচিব চাকমা সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত এক যুক্ত বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে হামলাকারী সংস্কারনব্য মুখোশ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে এই ঘটনায় নিজেদের সংশ্লিষ্টতা অস্বাকীর করে জেএসএস (এমএন লারমাএর কেন্দ্রীয় সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত জানানএই হামলার ঘটনার সাথে আমরা জেএসএস (এমএন লারমাকোনভাবেই জড়িত নই। এরা অহেতুক আমাদের দোষারোপ করে।

এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে ইউপিডিএফ এর কেন্দ্রীয় সংগঠক মাইকেল চাকমা মুঠোফোনে জানানস্বর্নিভরের মত একটি বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে হামলা করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেছে। জেএসএস (এমএন লারমা ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিকএই ঘটনা ঘটিয়েছে। মিঠুন চাকমাকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে ঠিক একই কায়দায় সন্ত্রাসীরা আজকের এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।

এদিকে এক প্রেস বিবৃতিতে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিকএর কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার বিভাগ থেকে প্রেরিত ইমেইল বার্তায় জানানো হয়,এই হত্যাকান্ডে ইউপিডিএফ(গণতান্ত্রিককেনভাবেই জড়িত নয় । বরং তাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকে এই হত্যাকান্ড হতে পারে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে খাগড়াছড়ি সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসিসাহাদাত হোসেন টিটো জানানসকাল সাড়ে ৮টায় এই ঘটনা ঘটে। এটি আঞ্চলিক সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনা হতে পারে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয় । ঘটনার পর পর স্বনির্ভর এলাকায় অতিরিক্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে 

বড়পুকুরিয়ায় কয়লার ঘাটতি পেয়েছে দুদক
                                  

দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কোল ইয়ার্ড থেকে প্রায় এক লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা গায়েব হওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ ঘটনার পর দিনাজপুর দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি দল খনি এলাকা পরিদর্শন ও অফিসিয়াল কাগজপত্র সংগ্রহ করেছে।

ঘটনা তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, পেট্রোবাংলাকে খনি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে উত্তোলন করে রাখা এক লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা গায়েব হয়ে গেছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য ২২৭ কোটি টাকার ওপরে। এ কারণে কয়লা সঙ্কটে দেশের একমাত্র কয়লাভিক্তিক দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট তাপ বিদুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন রোববার রাত ১০টা ২০ মিনিটে বন্ধ হয়ে গেছে।

এই ঘটনায় সোমবার বিকেল ৩টায় দিনাজপুর দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক ব্যানার্জীর আহমেদের নেতৃত্বে একটি দল বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে প্রবেশ করে। তারা বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত খনি এলাকা পরিদর্শন করেন এবং খনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে কাগজপত্র যাচাই করেন। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেন।

দিনাজপুর দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক ব্যানার্জীর আহম্মেদ এ সময় খনি গেটে অপেক্ষায় থাকা সাংবাদিকদের জানান, খনির কোল ইয়ার্ডে মাত্র ২ হাজার টন কয়লা রয়েছে।

এর আগে ঘটনা তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। দুদকের উপ-পরিচালক শামছুল আলমের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, দুই সহকারি পরিচালক এ এস এম সাজ্জাদ ও তাইজুল ইসলাম।

ক্ষমতার অপব্যবহার, জাল জালিয়াতি ও বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উদ্দীন আহমেদ ও সংশ্লিষ্টরা কয়লা খনির এক লাখ ১৬ হাজার টন কয়লা খোলা বাজারে বিক্রির মাধ্যমে আনুমানিক ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরই ভিত্তিতে সোমবার এই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দুদক।

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা সরবরাহে বাংলাদেশ তৈল ও গ্যাস কর্পোরেশন বা ‘পেট্রোবাংলা’র তদারকিতে ঘাটতি ছিল বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

তিনি বলেছেন, কয়লা সরবরাহে ‘পেট্রোবাংলা’র তদারকিতে ঘাটতি ছিল। তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে যারাই খনিতে দায়িত্বে ছিলেন, তারাও তদন্তের আওতায় আসবেন। সোমবার প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পেট্রোবাংলাকে খনি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বড়পুকুরিয়া খনির উপর নির্ভর করে খনির পার্শ্বে কয়লাভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ও ১২৫ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। কেন্দ্রটি পূর্ণ উৎপাদনে থাকলে প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার ২শ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হয়। ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার ১নং ইউনিটটি বড় ধরনের (জেনারেল ওভারহোলিং) মেরামতের জন্য কয়েকমাস ধরে বন্ধ রয়েছে। ২নং ইউনিটটি কয়লা সংকটের কারণে গত ২৯ জুন বন্ধ করে দেয়া হয়। কয়লা সংকটের কারণে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩নং ইউনিটটি কয়েকদিন ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চললেও অবশেষে গত রাতে সেটিরও উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে খনির এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

একরামের মেয়েদের সামনে দাঁড়িয়ে বলুন এটা ‘সামান্য ভুল’
                                  

পুলিশের দাবি তারা ৬৪ জেলার ৩৬০০ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে। এই ৩৬০০ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা নাকি তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নথিপত্র, তথ্যপ্রমাণ, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মতামত এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায়। পুলিশের আরো দাবি, তাদের তৈরি এই তালিকা একদম নিখুঁত, শতভাগ খাঁটি। কয়েক বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম, নিরলস খাঁটুনি, অনলস সন্ধান এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা নিয়ে যে তালিকা তারা করলেন এবং সেই তালিকার নাম ধরে ধরে যাদের, তাদের ভাষায় বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করলেন সেই যুদ্ধের প্রায় প্রথম দিকে শহীদ হলেন একজন নিরপরাধী নিরীহ মাদকবিরোধী যোদ্ধা। এই তবে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ! শুধু তাই নয়, তথাকথিত দুর্মুখেরা বলেন, মাদকের ব্যবসা আগে যেমন ছিল এখনো তেমনই আছে। পার্থক্য কেবল এই, আগে যে দামে ইয়াবা পাওয়া যেত এখন তার তিনগুণ বেশি দামে কিনতে হয়। অতএব পুলিশের ঘুষ নেয়ার পরিমাণও বেড়েছে তিনগুণ। ঘাটে ঘাটে চাঁদার পরিমাণও বেড়েছে তিনগুণ। এভাবেই চলছে ‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ অভিযান। খোদ কারাগারই হয়ে উঠেছে মাদকের স্বর্গরাজ্য। কীভাবে কারাগারের মধ্যে মাদক সংরক্ষণ, সেবন এবং বন্দিদের মধ্যে মাদক পাচার হচ্ছে তা সবিস্তার প্রকাশ হয়েছে সংবাদ মাধ্যমে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসামি এবং কারারক্ষী মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কারাগারে যে মাদক ব্যবসায়ীদের বড় একটি সিন্ডিকেট রয়েছে এ তথ্য পুরনো। নতুন জানা যাচ্ছে কীভাবে শরীরের সঙ্গে স্কচটেপ সেঁটে, জুতার মধ্যে, মলদ্বারে এবং মুখের মধ্যে গাঁজা এবং ইয়াবা ব্যবসা চলছে। প্রচার আছে, কাশিমপুর কারাগার এখন আর কারগার নয়। এখন তা সংশোধনাগার। সেই সংশোধনাগারে কীভাবে বহাল তবিয়তে মাদকের কারবার চলছে তার বিস্তারিত বিভিন্ন ওয়েব পেজে দেয়া আছে। তবে কারাগার নিয়ে, বাইরে নানা জাঁকজমকপূর্ণ প্রচারণা আছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার নাকি এতই জৌলুসময়, শোনা যায়, সেই জেলে নাকি এয়ারকন্ডিশনও রয়েছে। পাঠক অবশ্য সরকারি তথ্য বিবরণী এবং প্রেসনোটে দেয়া তথ্যের ৮০ ভাগ অসত্য বলে ধরে নেয়। কারাগার সম্পর্কিত সরকারি তথ্য বিবরণী বা প্রেসনোটকেও সেভাবেই পড়ে পাঠক।

দুই
মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে পুলিশ বাহিনী ২৭ মে হত্যা করেছে মাদকবিরোধী যোদ্ধা এবং টেকনাফ যুবলীগের সাবেক সভাপতি এবং তিনবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর একরামুল হককে। হত্যা করেছে আরো ১৬২ জনকে। যাদের নামের তালিকা কোনো সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়নি। কারা এরা? জনগণ জানতে চায় মাদক নির্মূল অভিযানের নামে প্রকৃতপক্ষে কাদের হত্যা করা হচ্ছে? পুলিশ বাহিনী যদি মনে করে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরাই কেবল বন্দুকযুদ্ধে মারা যাচ্ছে তাহলে সংবাদ মাধ্যমে তাদের নামের তালিকা প্রকাশ করতে সমস্যা কোথায়? ঠিকানা প্রকাশ করতেই বা অসুবিধা কী? তাদের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ ছিল, কী কী মামলা ছিল, সে বিষয়েও জানার অধিকার জনগণের আছে। যার হাতে ক্ষমতা আছে, ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে মেলামেশা আছে, যারা ক্ষমতাসীনদের তোষামোদ করে চলেন তারা চাইলেই ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে যে কোনো নিরীহ মানুষকে ফাঁসিয়ে দিতে পারেন এই আশঙ্কার কথা আমরা আগেই লিখেছি। ভাগ্যিস একরামুল হক বিরোধী দলের রাজনীতিক নন। হলে তাকে এতক্ষণে বদির চেয়েও বড় মাদক সম্রাট বানিয়ে ফেলতে পুলিশের কোনো অসুবিধা হতো না। অবশ্য মাদক সম্রাট হলেই বোধহয় রেহাই পাওয়া যায়। ধরা পড়ছে, হত্যার শিকার হচ্ছে চুনোপুঁটিরা। রাঘববোয়াল হলে রেহাই মেলে। আধা রাঘব-বোয়ালদেরও মুক্তি মেলে আর মাদকের বাদশাহ হলে তো কথাই নেই। ডানে বামে শিষ্য সাগরেদ পরিবেষ্টিত হয়ে সসম্মানে তিনি যান ওমরাহ পালন করতে। বিনা বাধায়। এর উত্তর হলো তার হাতে তো আর মাদক পাওয়া যায়নি।

মতিউর রহমান নিজামী কিংবা আলী আহসান মুজাহিদের বিচার না করলে যেমন যুদ্ধাপরাধীর বিচার হয়ে যায় প্রহসন তেমন বদির বিচার ছাড়া মাদক নির্মূল অভিযানও প্রহসন। মাদকের কারবারিতে সর্বোচ্চ পারঙ্গমতা দেখানোয় ইতোমধ্যে যিনি ‘মাদকের আইনস্টাইনে’ পরিণত হয়েছেন তাকে বিচারের আওতায় না এনে মাদকবিক্রেতা, মাদকসেবী, মাদকের ক্যারিয়ারদের হত্যার নামে যে মাদক নির্মূল অভিযান চলছে তাকে কোনোভাবেই সমর্থন করার সুযোগ নাই। যার মধ্যে এক ফোঁটা বিবেক আছে তার পক্ষে সম্ভব নয়। বিচারবহির্ভূত এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে ইতোমধ্যে সরকারের অতি ঘনিষ্ঠ দশজন বুদ্ধিজীবী বিবৃতি দিয়েছেন আর দুর্মুখেরা তো অনেক আগেই দিয়েছেন। ধন্যবাদ এই দশজনকে। দুর্মুখদের বিবৃতির তো কোনো মূল্যই নেই। তাদের কাজ নাকি সব ব্যাপারে সমালোচনা করা। দুর্মুখেরা তো সরকারের সমালোচনা করবেই। সরকারের শ্রেষ্ঠ সব কাজেরও তারা সমালোচনা করবে। কঠিন সময় পার করছে বাংলাদেশ। সরকারের অন্যায় কোনো সিদ্ধান্তের সমালোচনা মোটেও সহজ কাজ নয়। অনেক চাপের মুখে, অনেক ঝুঁকি নিয়ে যারা তা করেন তারাই কেবল জানেন কতশত হ্যাপা তাদের পোহাতে হয়। টেলিফোন ট্যাপিং, সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার ‘নেকনজরে’ থাকা, সরকারের প্রেস গোয়েন্দাদের তোপের মুখে থাকা…। অন্যদিকে প্রশংসাকারীরা পান হাজারো এনাম। নজরানার লোভ ও টোপ এড়িয়ে সমস্ত ক্ষমতাসীন সরকারের অন্যায় সিদ্ধান্তের যারা সমালোচনা করেন তাদের সম্ভ্রম বাঁচানোই মুশকিল হয়ে পড়েছে। সমালোচনা করতে কারোরই ভালোলাগার কথা নয়। অন্যায়, অবিচার, জুলুম এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কঠিন। কোনো আরাম নেই এতে। আছে কেবল তিরস্কার, অপমান, অপবাদ। এসব সহ্য করেই কেউ কেউ প্রশ্ন করেছেন কোনো স্বাধীন এবং গণতান্ত্রিক দেশে এভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে কিনা? উত্তরে পুলিশ যা বলেছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ধরে নিচ্ছি মানবাধিকারের ধারণা এনাদের কাছে অস্পষ্ট অথবা স্পষ্ট হলেও তা তাদের বিপক্ষে যাবে জন্য বলতে নারাজ। ঠিক আছে। পুলিশের প্রেসনোট সম্পর্কে তো জনগণের ধারণা আছেই। তৃণমূল এবং মেজ, সেজ, নোয়া নেতারা নিজের দলের পক্ষে সাফাই গাইবেন এমনকি যদি তা মানবাধিকারবহির্ভূত হয় তবুও বলবেন, সেটাও অজানা নয়। কিন্তু ওবায়দুল কাদের সাহেব তো মেজ, সেজ নেতা নন। দ্বিতীয় শীর্ষনেতা।

তিনি বলেছেন, কোনো মহৎ কাজ করতে গেলে দু’একটি ভুল হতেই পারে। হ্যাঁ, জুনের ২ তারিখে ঢাকা মহানগরীতে নারীদের জন্য দোলনচাঁপা বাস উদ্বোধন শেষে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এমনটাই বলেছেন। ওবায়দুল কাদের সাহেব কি এই ভুলকে সামান্য ভুল ভাবছেন? ওবায়দুল কাদের সাহেবের বক্তব্য দেখে একবার ভাবলাম ভুল দেখেছি বোধহয় আবার ভেবেছি প্রিন্টিং মিসটেক নয় তো? কিন্তু না। সব পত্রিকা তো আর একযোগে ভুল ছাপতে পারে না। তাছাড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতার বক্তব্য ভুল ছাপা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী এমন ভুল হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পরও যখন সেই দলের সাধারণ সম্পাদক ‘এমন দু’একটি ভুল হতেই পারে’ বলেন তখন চামড়ায় চিমটি কেটে অনুভব করে দেখতে হয় এটা বাস্তব নাকি পরাবাস্তব কোনো ঘটনা? আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কথা শুনে বাস্তব পরাবাস্তবের দোলায় দুলতে হয় আর নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কথা শুনলে সেই দোদুল্যমানতাও থাকে না। তাদের কথা শুনলে মনে হয় সাক্ষাৎ পরাবাস্তব জগতে আছি। এমন নিরাপত্তা বিশ্লেষক আছেন বলেই জনগণের নিরাপত্তার এমন বেহাল দশা!

তিন
বিচারবহির্ভুত এসব হত্যাকাণ্ডকে পরোক্ষভাবে সমর্থন করে ‘চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে’ অভিযানকে যারা প্রশংসার বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছেন, বন্দুকযুদ্ধকে জায়েজ করে নিচ্ছেন প্রকৃতপক্ষে তারা স্বীকার করে নিয়েছেন দেশের বিচার ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার চিত্রকে। কেবল ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি বিচারের জন্য আসা মোট ফৌজদারি মামলার ৮১ শতাংশ মাদকের। এর মধ্যে নাকি ২৪ বছরের পুরনো মামলাও আছে। অতএব এটা পরিষ্কার যে, নিয়মানুগভাবে মামলা নিষ্পন্ন হতে ২০৪১ সাল পেরিয়ে গেলেও শেষ হবে না। অতএব ধরো তক্তা মারো পেরেক। কিন্তু পেরেক মারা হচ্ছে দুর্বলতম তক্তার ওপর। মেহগনি, সেগুন, বার্মাটিকের তক্তারা থেকে গেলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। থেকে যাবেনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই দফা ‘চুনোপুঁটি ক্যারিয়ার’ নির্মূল হওয়ার পর মাদকসম্রাটরা নিজেদের প্রয়োজনে আবার চুনোপুঁটি তৈরি করবেন। প্রশ্ন হলো. ‘মাদার অব হিউম্যানিটির’ দেশে কেন ফিলিপাইন মেক্সিকো বা কলম্বিয়ান কায়দায় মাদক নির্মূল হবে?

‘মাদার অব হিউম্যানিটির’ দেশে মাদক নির্মূল হতে হবে নিয়মিত বিচার পদ্ধতির মাধ্যমে। কেন মাদক মামলার আসামিদের চার্জশিটে উল্লিখিত সাক্ষীদের স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানায় অজামিনযোগ্য পরোয়ানা পাঠানোর পরও সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে আসে না? উত্তর, পুলিশ ঘুষ খেয়ে তাদের উধাও করে দেয়। নিয়মিত বিচার পদ্ধতিতে মাদক মামলার আসামিদের বিচার করতে গেলে পুলিশকে সৎ হতে হয়। সৎ হওয়ার চেয়ে সোজা কাজ বন্দুকযুদ্ধে মেরে ফেলা। যাদের সঙ্গে টাকা-পয়সায় বনিবনা হয় না তাদের হত্যা জায়েজ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে টাকা খেলেও জায়েজ আর পুলিশের ব্যক্তিস্বার্থে আঘাতকারীকে মাদক মামলার আসামি সাজানো ডাবল জায়েজ। পুলিশ বাহিনী এবং প্রশাসনকে ঘুষ দিয়ে যে হাজার কোটি টাকার মাদক ব্যবসা এতদিন চলে আসছে কয়েক শ’ মলাঢেলা মেরে তা নির্মূল করা যাবে এমন বিশ্বাস করা কঠিন। মাদক নির্মূলের নামে নিরীহ মানুষ হত্যা হচ্ছেÑ কিছু মানুষ যখন এই কথা বলেছে তখন অতি উৎসাহীরা বলেছিলেন নিন্দুকের মুখে ছাই। অমন অভিযোগ তো জঙ্গি দমনের সময়ও তারা করেছিলেন। কে জঙ্গি, কে নয় তা নির্ধারণের মানদণ্ডের ওপর যখন শ্রদ্ধা থাকে না তখন জঙ্গি দমনাভিযানও প্রশ্নবিদ্ধ হয় বৈকি। একরামুল হক হত্যার মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে নির্মূল অভিযান, তা সে মাদকই হোক কিংবা জঙ্গিই হোক, বিচারের বাইরে কিছুই হওয়া উচিত নয়। কেউ কি বলতে পারবেন জঙ্গি দমন অভিযানে একজন নিরীহ মানুষও মারা যায়নি? কার ঘাড়ের ওপর দুই মাথা যে এ কথা বলবে? এমনকি নিজের সন্তানও যদি জঙ্গি দমন অভিযানে জঙ্গি পরিচয় পেয়ে হত্যা হয়, তবুও বলবে না। কারণ তার আরো সন্তান থাকতে পারে। পরিবার এবং স্বজনদের চিন্তাও করতে হয়। একরামুল হকের মেয়েদের সামনে দাঁড়িয়ে বলুন তো দেখি এমন দু’একটি ভুল হতেই পারে। দেখতে চাই ক্ষমতা মানুষকে কতখানি অন্ধ করে।
লেখক : কলাম লেখক

মানবকণ্ঠ/সংগৃহীত


   Page 1 of 17
     অপরাধ
পাহাড়খেকোদের আস্তানায় এসিল্যান্ডের অভিযান, এস্কেভেটর জব্দ
.............................................................................................
ফেঁসে যেতে পারেন পুলিশসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি, পাক হাইকমিশনারকে তলব
.............................................................................................
ফালু দম্পতির সম্পত্তি জব্দ
.............................................................................................
ভারতে পাচারকালে বেনাপোলে ৯ বাংলাদেশি উদ্ধার
.............................................................................................
রাজধানীতে ছিনতাই হওয়া স্কুটি উদ্ধার ॥ ছিনতাইকারী আটক
.............................................................................................
ব্যাংকের ১৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেফতার ৩ কর্মকর্তা
.............................................................................................
গণমাধ্যমের ওয়েবসাইট নকলকারী এনামুল গ্রেপ্তার
.............................................................................................
যুবক খুনের ঘটনায় একজন গ্রেফতার
.............................................................................................
মহেশখালীতে পুলিশের সাথে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি
.............................................................................................
মহেশখালীতে পুলিশের সাথে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি
.............................................................................................
সিনহার ৪ কোটি টাকার জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে দুদক
.............................................................................................
১ লাখ ৭০ হাজার ইয়াবাসহ নারী মডেল গ্রেফতার
.............................................................................................
খাগড়াছড়িতে ব্রাশফায়ারে নিহত ৬
.............................................................................................
বড়পুকুরিয়ায় কয়লার ঘাটতি পেয়েছে দুদক
.............................................................................................
একরামের মেয়েদের সামনে দাঁড়িয়ে বলুন এটা ‘সামান্য ভুল’
.............................................................................................
‘মাদকবিরোদী অভিযান চলবে, সব আখড়া ধ্বংস করা হবে’
.............................................................................................
ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ, দুদকের দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত
.............................................................................................
বিপুল ইয়াবাসহ ৪ ব্যবসায়ী গ্রেফতার
.............................................................................................
সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন
.............................................................................................
শাহজালালে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জুতায় সাড়ে ৪ কেজি সোনা!
.............................................................................................
৪ সাংবাদিকের ওপর হামলা: ভূমিমন্ত্রীর ছেলে তমাল কারাগারে
.............................................................................................
সৌদি রিয়ালসহ যাত্রী আটক
.............................................................................................
পাবনায় ‘ভূমিমন্ত্রীর ছেলের’ নেতৃত্বে সাংবাদিকদের মারধর
.............................................................................................
৭০০ ভরির পাঁচ ভরি উদ্ধার, সাতজন গ্রেফতার
.............................................................................................
রাবির ছাত্রী অপহরণে মামলা, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
.............................................................................................
২১ আগস্ট হামলায় গ্রেনেড সরবরাহ করে পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন
.............................................................................................
রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িতরা চিহ্নিত
.............................................................................................
প্রতারক ছিনতাইকারীদের টার্গেট চকবাজারের কোচিংপাড়া
.............................................................................................
মেয়ের ধর্ষণকারীকে দৌঁড়ে ধরলেন বাবা
.............................................................................................
ফেনীতে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় বিএনপি নেতাকর্মীরাই গ্রেপ্তার
.............................................................................................
রাজধানীতে মা-ছেলে খুন
.............................................................................................
মনোহরগঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
.............................................................................................
জিসান হত্যাচেষ্টা : কারাগারে গ্রেপ্তারকৃত আসামি
.............................................................................................
সেনাবাহিনীর হাতে ১৭ লাখ টাকাসহ ৭ ডিবি আটক
.............................................................................................
আপন জুয়েলার্সের মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
.............................................................................................
৭৫-এর ১৫ আগস্ট ও ২০০৪-এর ২১ আগস্ট হত্যাকান্ড একই সূত্রে গাথা : সৈয়দ রেজাউর
.............................................................................................
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ২৮৮টি গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে
.............................................................................................
কাবুলে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ৩০
.............................................................................................
গোপন ক্যামেরায় এয়ারপোর্টে ব্যাগ থেকে চুরির দৃশ্য (ভিডিও)
.............................................................................................
ফরিদপুরে সাজেদা চৌধুরীর গাড়িবহরে হামলা
.............................................................................................
নারী মাদকাসক্ত : ‘অর্ধেকের বেশি’ ইয়াবা সেবনে
.............................................................................................
আত্মসমর্পণ করলেন খাদিজা
.............................................................................................
মনোহরগঞ্জে হত্যার ঘটনায় মামলা, আটক ৪
.............................................................................................
চুরি হয়েছে রাজ্জাকের বাড়ির নেমপ্লেট
.............................................................................................
সাগর হত্যা : প্রধান আসামি আক্কাস গ্রেফতার
.............................................................................................
সরিষাবাড়ির নিখোঁজ পৌর মেয়র শ্রীমঙ্গলে উদ্ধার
.............................................................................................
‘মিয়ানমারের সেনারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে’
.............................................................................................
চুরির অভিযোগে কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা
.............................................................................................
রোহিঙ্গা বসতিতে এখনও জ্বলছে আগুন : অ্যামনেস্টি
.............................................................................................

সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আবদুল মালেক, যুগ্ন সম্পাদক: নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া । সম্পাদক র্কতৃক ২৪৪ ( প্রথম তলা ) ৪ নং জাতীয় স্টেডিয়াম, কমলাপুর, ঢাকা -১২১৪ থেকে প্রকাশিত এবং স্যানমিক প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজেস, ৫২/২ টয়েনবি র্সাকুলার রোড, ঢাকা -১০০০ থেকে মুদ্রিত । ফোন:- ০২-৭২৭৩৪৯৩, মোবাইল: ০১৭৪১-৭৪৯৮২৪, E-mail: info@dailynoboalo.com, noboalo24@gmail.com Design Developed By : Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD