|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * চলমান প্রকল্প দ্রুত শেষ করে নতুন প্রকল্প নেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী   * পূর্ব-পশ্চিম সবার সাথে সম্পর্ককে আরো গভীর করে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী   * চলতি বছরের মধ্যেই ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ শেষ হবে : সেতুমন্ত্রী   * ৫ম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শেখ হাসিনা   * সিইসির জাতির উদ্দেশ্য ভাষণ আজ সন্ধ্যায়   * বিদ্যুৎ উৎপাদন ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে : শেখ হাসিনা   * ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে উত্তরণের প্রত্যয়ে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা   * গাজা যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব অনুমোদনে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের অপেক্ষায় বিশ্ব   * দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কাজ করার আহবান প্রধানমন্ত্রীর   * বাংলাদেশ থেকে এমবিবিএস পাস করা ফিলিস্তিনি চিকিৎসকবৃন্দ এখন ফিলিস্তিনের হাসপাতালে কাজ করছেন - প্রধানমন্ত্রী  

   জাতীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
চলমান প্রকল্প দ্রুত শেষ করে নতুন প্রকল্প নেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতে এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই করে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে যেগুলোর খরচ কম হবে সেগুলো আমাদের দ্রুত শেষ করতে জন্য হবে, কারণ, আমি মনে করি, যত তাড়াতাড়ি আমরা সেগুলো শেষ করতে পারবো তত বেশি সুবিধা পাবো।’
প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনা কমিশনের সভায় সভাপত্বিকালে একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা একটা প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার পর এর ফলাফল পাই, তারপর আরেকটি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করি।’
শেখ হাসিনা প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে দেরি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
সরকার প্রধান বলেন, আপনাদের অনুরোধ করবো, এখন সব থেকে বেশি যেটা দরকার, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেটা আমাদের বেছে নিতে হবে। এগুলো চিহ্নিত করতে হবে, কোন প্রকল্পগুলো সামান্য কিছু টাকা দিলেই আমরা শেষ করে ফেলতে পারবো। প্রকল্পগুলো যত দ্রুত শেষ করে ফেলা যায় ততই ভালো। কারণ, একটি প্রকল্প শেষ হলে তার ফলাফল আসে। আমরা লাভবান হই এবং নতুন প্রকল্প নিতে পারি।
তিনি বলেন, ‘কাজেই এখানে দীর্ঘসূত্রিতা যেন না হয়, বার বার যেন প্রকল্প সম্পন্ন দেরি না হয়- সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’
 শেখ হাসিনা বলেন, প্রকল্পের পিডি (প্রকল্প পরিচালক) নিয়োগের ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেকগুলো প্রকল্পের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে, কিন্তু সেটা করার কোন সুযোগ নেই। সেটা কিন্তু হতে দেওয়া যাবে না। প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়কে সেভাবে নির্দেশ দেওয়া হবে।
তিনি প্রকল্প পরিচালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কারণ, অনেক সময় দেখা যায় অনেককে প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয় যারা কাজটা ঠিকমত বুঝে উঠতে পারেন না বা মনযোগী হন না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন কোন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা হাতে নিই সে সময় খেয়াল রাখতে হবে কোনটা আমার দেশের জন্য প্রযোজ্য এবং প্রয়োজন। অনেক সময় প্রকল্প পরিচালনার জন্য আমরা এডিবি বা বিশ্ব ব্যাংক বা অন্যান্য সংস্থা বা দেশ থেকে থেকে ঋণ নিয়ে কাজ করি। অনেক সময় দেখা যায় অনেক বড় অংকের টাকার প্রকল্প নিয়ে আসা হয়।
সরকার প্রধান বলেন, নতুন প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে আমি আবারো বলবো, অহেতুক একটা প্রস্তাব আসলো বড় আকারের, সেটা তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ না করে প্রতিটি প্রস্তাবের ক্ষেত্রে এটাই মাথায় রাখতে হবে- সেখানে আমাদের কী পরিমান টাকা ব্যয় হবে, আমরা কী পরিমান ঋণ নিচ্ছি এবং সুদসহ কী পরিমান ঋণ পরিশোধ করতে হবে এবং সেটা করার মতো আমাদের সক্ষমতা আছে কি-না এসব যাচাই বাছাই করা একান্তভাবে দরকার।
 শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি যখন তখন যেকোন প্রকল্প গ্রহণ করি না। আগে চিন্তা করে দেখি কোনটা দেশের কাজে লাগবে আর কোনটা লাগবে না। এর থেকে মানুষ কতটুকু পাবে।’
তিনি আরও বলেন, অযথা টাকা ধার করা নয়, কারণ, যা সুদসহ আমাকেই পরিশোধ করতে হয়। তাই, এই বোঝা যাতে আমাদের কাঁধে না পড়ে সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। পাশাপাশি যে প্রকল্প আমরা নেব সেটা আমরা ওই কাজের বা ওই এলাকার জন্য কার্যকর কিনা এবং এর থেকে সাধারণ মানুষ কী পরিমান লাভবান হবে সে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। এছাড়া অর্থনীতিতেও কেমন গতি সঞ্চার হবে তাও দেখতে হবে।
বিশে^ চলমান যুদ্ধপরিস্থির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, আমি জানি যে, যেহেতু অর্থনৈতিকভাবে একটা চাপ আছে, যার জন্য যথাসময়ে অর্থ হয়তো আমরা ছাড় করতে পারিনি। আর এই নির্বাচনের ডামাডোলে সবকিছু একটু ধীর গতিতে চলেছে। নির্বাচন তো সম্পন্ন হয়ে গেছে কাজেই এটা আর ধীরগতিতে চললে হবে না। এখন আরো দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এই নির্বাচনকালীন যে সময় আমাদের নষ্ট হল সেটা আমাদের এখন পূরণ করতে হবে।  
 শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সামনে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ যেটা আসবে ২০২৬ সালে আমাদের গ্র্যাজুয়েশন কার্যকর শুরু হবে। সেখানে আমরা কি কি সুবিধা পাব আর কোনটা আমাদের জন্য সবথেকে বেশি কার্যকর সেটা আমাদের বাছাই করতে হবে। আমরা সেভাবে কাজ শুরু করব। এর সাথে এলডিসি হিসেবে যে সুবিধাগুলো আমরা পেতাম সেগুলো অনেকগুলো কিন্তু আমরা পাব না, যদিও এগুলো প্রস্তাব করেছি-২০৩২ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে। এ বিষয়গুলো আমাদের মাথায় রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রে আমাদের যে চ্যালেঞ্জগুলো আসবে সেগুলো আমরা কীভাবে মোকাবেলা করব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটি দেশের জন্য যুদ্ধের ফলাফল খারাপ। কারণ, মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যায়, অনেক কিছুই আমরা উৎপাদন করি, কিন্তু, যেসব পণ্য আমাদের দেশে উৎপাদন কম হয় বা আমদানী করতে হয় সেসব পণ্যের মূল্য এবং পরিবহণ ব্যয় অত্যাধিক বেড়ে গেছে। তারপর ঋণের সুদ বেড়ে যাওয়া এর একটা বিরাট চাপ আমাদের অর্থনীতির ওপর পড়েছে। এসময় কোভিড-১৯ চলাকালীন বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া থেকে সরকারের কোভিড মোকাবেলার সাফল্যের বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করেন তিনি।
সরকার প্রধান বলেন, প্রবৃদ্ধি অর্জন আমাদের ধরে রাখতে হবে। এখানে মূল্যস্ফীতি একটি বিরাট সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। মূল্যস্ফীতি যদি প্রবৃদ্ধির থেকে কম থাকে তাহলে তার শুভফল মানুষের কাছে পৌঁছায়। মূল্যস্ফীতির কিছুটা আমরা লাগাম টেনে ধরেছি, আমাদের সামনে আরো কমাতে হবে।
 শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেকটা পরিকল্পনার সাথে সাথে আমাদের এই চিন্তাও মাথায় রাখতে হবে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে অর্থ ছাড় বা এর ব্যবহারের ফলে মূল্যস্ফীতি যেন আর না বাড়ে। যে মূল্যস্ফীতি বর্তমানে আছে সেটা আমরা কীভাবে কমিয়ে আনব সে ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

তাঁর সরকার কৃষি, গ্যাস, বিদ্যুৎ-প্রভৃতিতে ভর্তুকি দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ভর্তুকি ও আমাদের ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে হবে। কারণ, এক্ষেত্রে ভর্তুকি অনেকাংশে বাড়িয়ে ফেলায় মূল্যস্ফীতি ও বেড়ে গেছে। এখন আমাদের যেটা করতে হবে একটি সুনির্দিষ্ট সময়ে কত শতাংশ বাড়ালে আমাদের মূল্যস্ফীতিতে চাপ পড়বে না সেটা মাথায় রেখে আমাদের ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে। আমরা চট করে বেশি বাড়াতে পারবো না, সেটা মাথায় রেখে আমাদের চলতে হবে।
‘পাঁচ বছর টাইম ইজ টু শর্ট’ উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, কাজেই পাঁচ বছর আমি কাজ করে যাব দেশের জন্য। আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার ঘোষণা দিয়েছি। সেটা মাথায় রেখেই আমাদের কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করতে হবে। সরকার গঠন করার পরে দ্রুত আমরা বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছি কারণ, নষ্ট করার মত সময় আমাদের হাতে নেই।   
প্রধানমন্ত্রী ভাষণের শুরুতে বলেন, আমি জাতির কাছে ঋণী এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। কারণ, বারবার তারা ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছে। আমি আজকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব পেয়েছি। স্বাধীনতার সুফল এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যেন আমরা ঘরে ঘরে পৌঁছাতে পারি, স্বাধীনতার শুভফল যেন জনগণ পায় সেজন্যই আমাদের পথ চলা।

চলমান প্রকল্প দ্রুত শেষ করে নতুন প্রকল্প নেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী
                                  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতে এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই করে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে যেগুলোর খরচ কম হবে সেগুলো আমাদের দ্রুত শেষ করতে জন্য হবে, কারণ, আমি মনে করি, যত তাড়াতাড়ি আমরা সেগুলো শেষ করতে পারবো তত বেশি সুবিধা পাবো।’
প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনা কমিশনের সভায় সভাপত্বিকালে একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা একটা প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার পর এর ফলাফল পাই, তারপর আরেকটি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করি।’
শেখ হাসিনা প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে দেরি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
সরকার প্রধান বলেন, আপনাদের অনুরোধ করবো, এখন সব থেকে বেশি যেটা দরকার, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেটা আমাদের বেছে নিতে হবে। এগুলো চিহ্নিত করতে হবে, কোন প্রকল্পগুলো সামান্য কিছু টাকা দিলেই আমরা শেষ করে ফেলতে পারবো। প্রকল্পগুলো যত দ্রুত শেষ করে ফেলা যায় ততই ভালো। কারণ, একটি প্রকল্প শেষ হলে তার ফলাফল আসে। আমরা লাভবান হই এবং নতুন প্রকল্প নিতে পারি।
তিনি বলেন, ‘কাজেই এখানে দীর্ঘসূত্রিতা যেন না হয়, বার বার যেন প্রকল্প সম্পন্ন দেরি না হয়- সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’
 শেখ হাসিনা বলেন, প্রকল্পের পিডি (প্রকল্প পরিচালক) নিয়োগের ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেকগুলো প্রকল্পের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে, কিন্তু সেটা করার কোন সুযোগ নেই। সেটা কিন্তু হতে দেওয়া যাবে না। প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়কে সেভাবে নির্দেশ দেওয়া হবে।
তিনি প্রকল্প পরিচালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কারণ, অনেক সময় দেখা যায় অনেককে প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয় যারা কাজটা ঠিকমত বুঝে উঠতে পারেন না বা মনযোগী হন না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন কোন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা হাতে নিই সে সময় খেয়াল রাখতে হবে কোনটা আমার দেশের জন্য প্রযোজ্য এবং প্রয়োজন। অনেক সময় প্রকল্প পরিচালনার জন্য আমরা এডিবি বা বিশ্ব ব্যাংক বা অন্যান্য সংস্থা বা দেশ থেকে থেকে ঋণ নিয়ে কাজ করি। অনেক সময় দেখা যায় অনেক বড় অংকের টাকার প্রকল্প নিয়ে আসা হয়।
সরকার প্রধান বলেন, নতুন প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে আমি আবারো বলবো, অহেতুক একটা প্রস্তাব আসলো বড় আকারের, সেটা তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ না করে প্রতিটি প্রস্তাবের ক্ষেত্রে এটাই মাথায় রাখতে হবে- সেখানে আমাদের কী পরিমান টাকা ব্যয় হবে, আমরা কী পরিমান ঋণ নিচ্ছি এবং সুদসহ কী পরিমান ঋণ পরিশোধ করতে হবে এবং সেটা করার মতো আমাদের সক্ষমতা আছে কি-না এসব যাচাই বাছাই করা একান্তভাবে দরকার।
 শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি যখন তখন যেকোন প্রকল্প গ্রহণ করি না। আগে চিন্তা করে দেখি কোনটা দেশের কাজে লাগবে আর কোনটা লাগবে না। এর থেকে মানুষ কতটুকু পাবে।’
তিনি আরও বলেন, অযথা টাকা ধার করা নয়, কারণ, যা সুদসহ আমাকেই পরিশোধ করতে হয়। তাই, এই বোঝা যাতে আমাদের কাঁধে না পড়ে সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। পাশাপাশি যে প্রকল্প আমরা নেব সেটা আমরা ওই কাজের বা ওই এলাকার জন্য কার্যকর কিনা এবং এর থেকে সাধারণ মানুষ কী পরিমান লাভবান হবে সে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। এছাড়া অর্থনীতিতেও কেমন গতি সঞ্চার হবে তাও দেখতে হবে।
বিশে^ চলমান যুদ্ধপরিস্থির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, আমি জানি যে, যেহেতু অর্থনৈতিকভাবে একটা চাপ আছে, যার জন্য যথাসময়ে অর্থ হয়তো আমরা ছাড় করতে পারিনি। আর এই নির্বাচনের ডামাডোলে সবকিছু একটু ধীর গতিতে চলেছে। নির্বাচন তো সম্পন্ন হয়ে গেছে কাজেই এটা আর ধীরগতিতে চললে হবে না। এখন আরো দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এই নির্বাচনকালীন যে সময় আমাদের নষ্ট হল সেটা আমাদের এখন পূরণ করতে হবে।  
 শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সামনে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ যেটা আসবে ২০২৬ সালে আমাদের গ্র্যাজুয়েশন কার্যকর শুরু হবে। সেখানে আমরা কি কি সুবিধা পাব আর কোনটা আমাদের জন্য সবথেকে বেশি কার্যকর সেটা আমাদের বাছাই করতে হবে। আমরা সেভাবে কাজ শুরু করব। এর সাথে এলডিসি হিসেবে যে সুবিধাগুলো আমরা পেতাম সেগুলো অনেকগুলো কিন্তু আমরা পাব না, যদিও এগুলো প্রস্তাব করেছি-২০৩২ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে। এ বিষয়গুলো আমাদের মাথায় রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রে আমাদের যে চ্যালেঞ্জগুলো আসবে সেগুলো আমরা কীভাবে মোকাবেলা করব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটি দেশের জন্য যুদ্ধের ফলাফল খারাপ। কারণ, মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যায়, অনেক কিছুই আমরা উৎপাদন করি, কিন্তু, যেসব পণ্য আমাদের দেশে উৎপাদন কম হয় বা আমদানী করতে হয় সেসব পণ্যের মূল্য এবং পরিবহণ ব্যয় অত্যাধিক বেড়ে গেছে। তারপর ঋণের সুদ বেড়ে যাওয়া এর একটা বিরাট চাপ আমাদের অর্থনীতির ওপর পড়েছে। এসময় কোভিড-১৯ চলাকালীন বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া থেকে সরকারের কোভিড মোকাবেলার সাফল্যের বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করেন তিনি।
সরকার প্রধান বলেন, প্রবৃদ্ধি অর্জন আমাদের ধরে রাখতে হবে। এখানে মূল্যস্ফীতি একটি বিরাট সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। মূল্যস্ফীতি যদি প্রবৃদ্ধির থেকে কম থাকে তাহলে তার শুভফল মানুষের কাছে পৌঁছায়। মূল্যস্ফীতির কিছুটা আমরা লাগাম টেনে ধরেছি, আমাদের সামনে আরো কমাতে হবে।
 শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেকটা পরিকল্পনার সাথে সাথে আমাদের এই চিন্তাও মাথায় রাখতে হবে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে অর্থ ছাড় বা এর ব্যবহারের ফলে মূল্যস্ফীতি যেন আর না বাড়ে। যে মূল্যস্ফীতি বর্তমানে আছে সেটা আমরা কীভাবে কমিয়ে আনব সে ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

তাঁর সরকার কৃষি, গ্যাস, বিদ্যুৎ-প্রভৃতিতে ভর্তুকি দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ভর্তুকি ও আমাদের ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে হবে। কারণ, এক্ষেত্রে ভর্তুকি অনেকাংশে বাড়িয়ে ফেলায় মূল্যস্ফীতি ও বেড়ে গেছে। এখন আমাদের যেটা করতে হবে একটি সুনির্দিষ্ট সময়ে কত শতাংশ বাড়ালে আমাদের মূল্যস্ফীতিতে চাপ পড়বে না সেটা মাথায় রেখে আমাদের ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে। আমরা চট করে বেশি বাড়াতে পারবো না, সেটা মাথায় রেখে আমাদের চলতে হবে।
‘পাঁচ বছর টাইম ইজ টু শর্ট’ উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, কাজেই পাঁচ বছর আমি কাজ করে যাব দেশের জন্য। আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার ঘোষণা দিয়েছি। সেটা মাথায় রেখেই আমাদের কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করতে হবে। সরকার গঠন করার পরে দ্রুত আমরা বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছি কারণ, নষ্ট করার মত সময় আমাদের হাতে নেই।   
প্রধানমন্ত্রী ভাষণের শুরুতে বলেন, আমি জাতির কাছে ঋণী এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। কারণ, বারবার তারা ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছে। আমি আজকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব পেয়েছি। স্বাধীনতার সুফল এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যেন আমরা ঘরে ঘরে পৌঁছাতে পারি, স্বাধীনতার শুভফল যেন জনগণ পায় সেজন্যই আমাদের পথ চলা।

পূর্ব-পশ্চিম সবার সাথে সম্পর্ককে আরো গভীর করে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
                                  

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘পূর্ব-পশ্চিম সবার সাথে আমাদের যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে, তাকে আরো গভীর করার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। শকুনের দোয়ায় যেমন গরু মরে না, বিএনপি`র অশুভ কামনায়ও দেশের অশুভ হবে না । তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামাত দেশকে বিপদে ফেলার জন্য সব সময় চেষ্টা করেছে। তবে শকুনের দোয়ায় যেমন কখনো গরু মরে না, তেমনি বিএনপি`র অশুভ কামনায়ও বাংলাদেশের অশুভ কোনো কিছু হবে না।’ 
পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত হবার পর মঙ্গলবার সকালে প্রথম চট্টগ্রাম এলে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন হাছান মাহমুদ। এরপর চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে বিমানবন্দরের বাইরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফুলেল সম্বর্ধনা জানানো হয়। সাংবাদিকরা এ সময় ‘বিএনপি-জামাত চাচ্ছে আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেবে, গার্মেন্টস শিল্প বন্ধ হয়ে যাবে, মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে, দেশে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হবে, তারপর তারা ক্ষমতায় আসবে’- এবিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য চাইলে তিনি উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী  সাংবাদিকদেরকে  বলেন, এবারের নির্বাচন যে আন্তর্জাতিকভাবে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে গ্রহণ করেছে, সেটির প্রমাণ হচ্ছে- বহু নির্বাচনী পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এনডিআই, আইআরআই, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সার্ক, ওআইসি ও কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর পর্যবেক্ষক থেকে শুরু করে অন্যান্য বিভিন্ন সংস্থার পর্যবেক্ষকরা বাংলাদেশে এসেছে। তারা সবাই একযোগে মতপ্রকাশ করেছে যে বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনে অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম সহিংসতা হয়েছে। এটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অবজারভার তথ্য-উপাত্তের জন্য নির্বাচন কমিশনে গেছেন’ উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে ড. হাছান বলেন, ‘আমাদের বিদেশি বন্ধুদের আমাদের নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ আছে, সেজন্য নির্বাচন কমিশনে গিয়েছেন। আমি আজকে কাগজে দেখলাম, নির্বাচন কমিশন যে তথ্য উপাত্ত দিয়েছে, এতে তারা সন্তুষ্ট হয়েছেন। দেখুন, জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেশিরভাগ নিবন্ধিত দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। আপনারা জানেন, যেদিন নির্বাচন হয়, সেদিন প্রচন্ড শীত ও কুয়াশা ছিল। সেই কারণে ভোটের হার প্রায় ৪২ শতাংশ, যদি কুয়াশা এবং শীত না থাকতো, তাহলে আরো বেশি ভোট কাস্ট হত।’ তিনি বলেন, আপনারা জানেন এই নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত ও প্রতিহত করার জন্য বিএনপি যেভাবে আগুন সন্ত্রাস করেছে, পাঁচ তারিখ রাতেও যেভাবে অগ্নিসন্ত্রাস চালিয়েছে, এতে করে মানুষকে ভয় লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু মানুষ ভয় পায়নি,  মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে গেছে। 
‘বৃহত্তর চট্টগ্রামের কক্সবাজারে ১৪ লাখ রোহিঙ্গা আছে, আপনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব¡ নিয়েছেন, তাদের ফেরত পাঠানোর জন্য আপনি কি উদ্যোগ নেবেন’ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দেখুন, আমরা সবসময় কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি, আমরা তাদের সাথে আরও এনগেজমেন্ট বাড়াচ্ছি, আমি ন্যাম সামিটে (জোট নিরপেক্ষ সম্মেলন) যাচ্ছি, সেখানে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আমার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আমরা কূটনৈতিকভাবেই এই সমস্যার সমাধান করতে পারব বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।             

চলতি বছরের মধ্যেই ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ শেষ হবে : সেতুমন্ত্রী
                                  

 চলতি বছরের মধ্যেই ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে বনানীস্থ সেতু ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত অংশে যান চলাচল শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত বাকি অংশের কাজ ২০২৪ সালের মধ্যেই সম্পন্ন করা হবে।
পদ্মা সেতুতে দৈনিক ২ কোটি টাকা টোল আদায় হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলাচল থেকে এ পর্যন্ত টোল আদায় হয়েছে ১,২৫২ কোটি টাকা। চলতি বছরে জুনের মধ্যেই গাজীপুরে বিআরটিএ প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন সেতুমন্ত্রী।
এ সময়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি নেতারা এখন মনের সুখের জন্য আবোল তাবোল কথা বলছেন। দেশের সমৃদ্ধি নিয়ে কাউকে ঈর্ষা করা উচিত নয়। দেশের স্বার্থই আগে। যে সরকার উন্নয়ন করে তার প্রশংসা করা উচিত কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে সেটা হয় না।
নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতারা ভয়ে আছে বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা বলেছিল ইলেকশন করতে দেবে না, আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ইলেকশন করেছি। কিছু ঘটনা, সহিংসতা হয়েছে। কিন্তু বিএনপি যেটা ভেবেছিল সেরকম কিছু আসলে হয়নি। নির্বাচনে ভোটের হার ৪১.৮০। অথচ তাদের দাবি জনগণ নির্বাচনে সাড়া দেয়নি। কিন্তু জনগণ তাদের কথায় কান দেয়নি। কেউই মাথা ঘামায়নি। সেজন্য তারা নিজেদের মনের শান্তির জন্য আবোল-তাবোল কথা বলছে।

৫ম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শেখ হাসিনা
                                  

 বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা জাতির পিতার বড় মেয়ে ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আজ পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ৩৭ সদস্যের মন্ত্রিসভা নিয়ে টানা চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠন করেছেন। 
তাঁর মন্ত্রিপরিষদে ২৫ জন মন্ত্রী ও ১১ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।
সন্ধ্যা ৭টা- ৬ মিনিটে বঙ্গভবনের দরবার হলে শেখ হাসিনা ও তাঁর নতুন মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শপথ গ্রহণের পর শেখ হাসিনা শপথ ও গোপনীয়তার শপথে স্বাক্ষর করেন।

শপথ নেওয়া মন্ত্রীরা হলেন- আ ক ম মোজাম্মেল হক (গাজীপুর-১), ওবায়দুল কাদের (নোয়াখালী-৫), নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন (নরসিংদী-৪), আসাদুজ্জামান খান (ঢাকা-১২), ডা. দীপু মনি (চাঁদপুর-(৩), মো. তাজুল ইসলাম (কুমিল্লা-৯), মুহাম্মদ ফারুক খান (গোপালগঞ্জ-১), আবুল হাসান মাহমুদ আলী (দিনাজপুর-৪), আনিসুল হক (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪), ডা. হাসান মাহমুদ (চট্টগ্রাম-৭), মো. আবদুস শহীদ (মৌলভীবাজার-৪), সাধন চন্দ্র মজুমদার (নওগাঁ-১), র আ ম ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩), মো. আব্দুর রহমান (ফরিদপুর-১), নারায়ণ চন্দ্র চন্দ (খুলনা-৫), আব্দুস সালাম (ময়মনসিংহ-৯), মহিবুল হাসান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৯), ফরহাদ হোসেন (মেহেরপুর-১), মো. ফরিদুল হক খান (জামালপুর-২), মো. জিল্লুল হাকিম (রাজবাড়ী-২), সাবের হোসেন চৌধুরী (ঢাকা-৯), জাহাঙ্গীর কবির নানক (ঢাকা-১৩), নাজমুল হাসান (কিশোরগঞ্জ-৬), স্থপতি ইয়াফেস ওসমান (টেকনোক্র্যাট) ও সামন্ত লাল সেন (টেকনোক্র্যাট)।
  প্রতিমন্ত্রীরা হলেন- সিমিন হোসেন রিমি (গাজীপুর-৪), নসরুল হামিদ (ঢাকা-৩), জুনায়েদ আহমেদ পলক (নাটোর-৩), মোহাম্মদ আলী আরাফাত (ঢাকা-১৭), মো. মহিববুর রহমান (পটুয়াখালী-৪), খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (দিনাজপুর-২), জাহেদ ফারুক (বরিশাল-৫), কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা (খাগড়াছড়ি), রুমানা আলী (গাজীপুর-৩), শফিকুর রহমান চৌধুরী (সিলেট-২) ও আহসানুল ইসলাম টিটু (টাঙ্গাইল-৬)।

বঙ্গভবনের আলো-ঝলমলে দরবার হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণ, সংসদ সদস্যগণ, রাজনৈতিক নেতাগণ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, কূটনৈতিক কোরের সদস্যগণ, সাংবাদিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির পত্নী ড. রেবেকা সুলতানা, প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অফ-হোয়াইট শাড়ি পরা শেখ হাসিনাকে দরবার হলে আত্মবিশ্বাসী ও প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল। প্রশস্ত হলটি আমন্ত্রিত অতিথিদের ভিড় যেন উপচে পড়েছিল। 
শেখ হাসিনা সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে দরবার হলে প্রবেশ করলে তাঁকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানানো হয়। কয়েক মিনিট পর রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন দরবার হলে প্রবেশ করেন। প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা ৭টা ৬ মিনিটে শপথ নেন।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
শেখ হাসিনা প্রথমে জাতীয় সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ নেন এবং পরে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষার শপথ নেন। 
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানটি দেখতে প্রায় ১,৪০০ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে ২২২টি আসনে জয়লাভ করে। 
জাতীয় পার্টি ১১টি আসনে, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬২টি এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক দল-ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) একটি করে আসন পেয়েছে। নির্বাচনে একটি আসনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি। 

নতুন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবন থেকে ফেরার পথে রাজউক এভিনিউ ও বঙ্গবন্ধু এভিনিউ মোড়ে সর্বস্তরের হাজারো মানুষের ঢল নামে।
এর আগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে জনগণ মিছিলে জড়ো হয় এবং শেখ হাসিনার নামে স্লোগানে দিতে থাকে।

সিইসির জাতির উদ্দেশ্য ভাষণ আজ সন্ধ্যায়
                                  

 দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।
সন্ধ্যা ৭টায় নির্বাচন কমিশন ভবন থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে তার ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখা থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হয়, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভাষণে সিইসি জনগণকে সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়া এবং সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাবেন।
এরআগে, গত ১৫ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ঐ ভাষণে তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ঐদিন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন থেকে তার ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

facebook sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button
বিদ্যুৎ উৎপাদন ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে : শেখ হাসিনা
                                  

নিরবিচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ উৎপাদন আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন  আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
আজ বুধবার রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহার ঘোষণাকালে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বিদ্যুৎ খাতে আমরা গত ১৫ বছরে যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক উন্নয়ন ঘটিয়েছি। নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত, এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার ও ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। নবায়নযোগ্য ও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য গ্রিড যুগোপযোগী করার কাযক্রম শুরু হয়েছে।
এছাড়াও দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গ্যাস ও এলপিজির সরবরাহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে উত্তরণের প্রত্যয়ে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
                                  

 দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি   শেখ হাসিনা আজ স্থানীয় একটি হোটেলে তাঁর দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। 
ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে উত্তরণের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত স্মার্ট সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে এই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। 
এই উপলক্ষে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার প্রদত্ত ভাষণের পূর্ণ বিবরণ তুলে ধরা হলো- 

“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় দেশবাসী,
উপস্থিত সুধিম-লী,
    আসসালামু আলাইকুম, 
    আপনাদের সবাইকে বিজয়ের মাসের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। 
    দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। টেলিভিশন, রেডিও এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহায়তায় দেশের অভ্যন্তরে এবং বাইরে যাঁরা এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তাঁদেরও শুভেচ্ছা এবং আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
    বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ধারাবাহিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার একটানা ১৫ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। পাঁচ বছর মেয়াদি সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকায় আমরা বাংলাদেশের অভূপূর্ব উন্নতি সাধন করতে পেরেছি। বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে।
    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। তাঁর স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলা। 
    যুদ্ধবিধ্বস্ত, ক্ষুধা-দারিদ্র্যে জর্জরিত একটি দেশের শাসনভার তিনি নিয়েছিলেন। তিনি হাতে সময় পেয়েছিলেন মাত্র ৩ বছর ৭ মাস ৩ দিন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ৯১ মার্কিন ডলার। জাতির পিতা মাত্র ৩ বছরে ১৯৭৫ সালে তা ২৭৭ মার্কিন ডলারে উন্নীত করেন। প্রবৃদ্ধি ৯ ভাগ অর্জন করেন। এই স্বল্প সময়ে ধ্বংসস্তুপ থেকে টেনে তুলে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদায় উন্নীত করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের নির্মম বুলেটে জাতির পিতা নির্মমভাবে নিহত হন। সেই সঙ্গে ঘাতকেরা কেড়ে নেয় বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার সব সম্ভাবনাকে, মহান স্বাধীনতার চেতনা ও আদর্শকে।
    আমি পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শ্রদ্ধা জানাই জাতীয় চার নেতার প্রতি। ৩০ লাখ শহিদ ও ২ লাখ নির্যাতিতা মা-বোনকে শ্রদ্ধা জানাই। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জানাচ্ছি সালাম।      
    অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে স্মরণ করছি- আমার মা বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব, ছোট তিন ভাই- বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা লে. শেখ জামাল, আমার দশ বছর বয়সী ছোট্ট ভাই শেখ রাসেল; কামাল ও জামালের নবপরিণীতা বধুঁ সুলতানা কামাল, পারভীন জামাল, আমার একমাত্র চাচা পঙ্গু বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসের, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল উদ্দীন আহমেদ, পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই সিদ্দিকুর রহমানসহ ১৫ আগস্টে নির্মমভাবে নিহত সকল শহিদকে। আমি তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
সুধিম-লী,
    আজকের এ দিনে আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি এই উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক, গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশসহ আওয়ামী লীগের প্রয়াত সকল নেতৃবৃন্দকে। মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার জন্য যাঁরা অকাতরে জীবন দিয়েছেন সেই ভাষা শহিদদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। 
    স্মরণ করছি, ২০০৪ সালের ২১-এ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহত আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী রহমানসহ ২২ জন নেতা-কর্মীকে।
    স্বাধীনতার পূর্বে এবং স্বাধীনতার পরবর্তীকালে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক এবং ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে যাঁরা নিহত হয়েছেন তাঁদের স্মরণ করছি।  
প্রিয় দেশবাসী,
    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যার সময় আমি এবং আমার ছোটবোন বিদেশে ছিলাম। সে কারণে আমরা প্রাণে বেঁচে যাই। দীর্ঘ ৬ বছর আমরা রিফিউজি হিসেবে প্রবাস জীবন কাটাতে বাধ্য হই। তৎকালীন সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান আমাদের দেশে আসতে বাধা দেয়। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও জনগণের সমর্থন নিয়ে আমি দেশে ফিরে আসি। অবৈধভাবে ক্ষমতাসীন সরকার, জাতির পিতার হত্যাকারী ও ষড়যন্ত্রকারী এবং যুদ্ধাপরাধীদের সকল রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করেই আমি দেশে ফিরে আসি। শুরু করি জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এজন্য বার বার আমার উপর আঘাত এসেছে। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের লক্ষে সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, বার বার গ্রেফতার হয়েছি। আমাকে অন্তত ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আমি দমে যাইনি। অবশেষে মানুষের ভোটের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হই। ১৯৭৫ সালের বিয়োগান্তক ঘটনার ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়লাভের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। অবসান হয় হত্যা, ক্যু ও সামরিক শাসনের। 
    ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন থেকে ২০০১ সালের ১৫ জুলাই - এই ৫ বছর পূর্ণ করে ২৬ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আমরা ধান ও দানাদার শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করি। স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ, বয়স্ক, বিধবা, স্বামী নিগৃহীতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা প্রবর্তন এবং বর্গাচাষীদের বিনা জামানতে কৃষি ঋণ প্রদান করি।
    ২০০১ সালের ১লা আক্টোবরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক সম্পদ গ্যাস বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং নানা চক্রান্তের ফসল হিসেবে বিএনপি জামাত-জোট ক্ষমতার মসনদে আরোহন করে। ক্ষমতায় বসেই চরম দুর্নীতি, দুঃশাসন, হত্যা, নারী ধর্ষণ, হিন্দু-মুসলমান-খ্রিস্টান-বৌদ্ধসহ আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মীর উপর আমানবিক নির্যাতন, লাশ গুমসহ সমগ্র দেশে হত্যা, ত্রাস ও গুমের রাজত্ব কায়েম করে।
    ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে গ্রেনেড হামলা করে ২২ নেতা-কর্মীকে হত্যা এবং ৫০০’র বেশি মানুষকে আহত করে। জেলায় জেলায় বোমা হামলা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি, সেসন জট, ছাত্রছাত্রীদের অনিশ্চিত জীবন ছিল বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময়কার সাধারণ চালচিত্র। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, অস্ত্র চোরাকারবারি, মানি লন্ডারিং, ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ, হাওয়া ভবনের দ্বৈত শাসনে জনজীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছিল।
    মেয়াদ শেষে ২০০৬ সালে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নির্বাচন দেওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নিতে থাকে। নির্বাচনে কারচুপির উদ্দেশ্যে ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটারসমেত ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন গঠন করে। তাদের এসব কর্মকা- বাংলাদেশকে অন্ধকারের পথে ধাবিত করে। যার ফলে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়। সামরিক বাহিনী অন্তরালে থেকে ক্ষমতা দখল করে। ইয়াজুদ্দীন, ফখরুদ্দীন, মইনুদ্দীনের এই সরকার জনগণের অধিকার হরণ করে তাঁদের উপর স্টিমরোলার চালানো শুরু করে। প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোকে ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেয়। আমাকে এবং আমার দলের বহু নেতাকর্মীসহ অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের বন্দি করা হয়। ভিন্ন দল গঠন করার চেষ্টা করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়।
    কিন্তু তাদের এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে সচেতন দেশবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ায়। জনগণের আন্দোলনের মুখে তারা ৯ম সংসদ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। তবে নির্বাচন সংস্কারের যে দাবি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট উপস্থাপন করেছিল সেগুলি থেকে তারা কিছু বিষয় কার্যকর করে- যেমন: ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন, ১ কোটি ২৩ লাখ ভূয়া ভোটার লিস্ট বাতিল, এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার।
    ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৩৩টি আসনে বিজয়ী হয়। আর বিএনপি এককভাবে মাত্র ৩০টি আসনে জয়ী হয়। বাকি আসনগুলি উভয় জোটের শরিকেরা পায়।
প্রিয় দেশবাসী,
    ২০০৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে আমরা রূপকল্প-২০২১-এর ঘোষণা দিয়েছিলাম। দিন বদলের সনদ হিসেবে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করি। এরপর শত বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে ২০১৪ ও ২০১৮ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে আমরা সফলভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছি। 
    গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের রূপান্তর ঘটেছে। আজকের বাংলাদেশ দারিদ্র্যক্লিষ্ট, অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর বাংলাদেশ নয়। আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে পারি, আজকের বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। সম্ভাবনার হাতছানি দেওয়া দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলা দুরন্ত বাংলাদেশ। ছোটখাট অভিঘাত আজ আমাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। করোনা মহামারিসহ নানা অভিঘাত মোকাবিলা করে সেই প্রমাণ আমরা রেখেছি।
    করোনা মহামারির মধ্যেই আমরা ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছি। এ সময়ই জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
    বিএনপি-জামাত জোট সরকারের শেষ বছর ২০০৬ সালে বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ কোথায় ছিল আর আজ বাংলাদেশ কোথায় অবস্থান করছে তার সংক্ষিপ্ত একটি তুলনামূলক চিত্র আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই:
অর্থনীতি
ক্রম    খাত    ২০০৬ বিএনপি-জামাত জোট             ২০২৩ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ             মন্তব্য
১    প্রবৃদ্ধি    ৫.৪০ শতাংশ    ৭.২৫ শতাংশ    
২    মাথাপিছু আয় (নমিনাল)    ৫৪৩ মার্কিন ডলার     ২ হাজার ৭৯৩ মার্কিন ডলার    ৫ গুণ বৃদ্ধি
৩    মাথাপিছু আয় (পিপিপি)    ১ হাজার ৭২৪ মার্কিন ডলার  ৮ হাজার ৭৭৯ মার্কিন ডলার    ৫ গুণ বৃদ্ধি
৪    বাজেটের আকার    ৬১ হাজার কোটি টাকা    ৭ লক্ষ ৬১ হাজার  ৭৮৫ কোটি টাকা    ১২ গুণ বৃদ্ধি
৫    জিডিপি’র আকার    ৪ লক্ষ ১৫ হাজার ৭২ কোটি টাকা    ৫০.৩১ লক্ষ কোটি টাকা    ১২ গুণ বৃদ্ধি
৬    বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি    ২১ হাজার ৫ শত কোটি টাকা    ২ লক্ষ ৭৪ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা    ১৩ গুণ বৃদ্ধি
৭    রপ্তানি  আয়    ১০.০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার    ৫২.৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার    ৫ গুণ বৃদ্ধি
৮    বার্ষিক রেমিটেন্স আয়    ৪.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার    ২৪.০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
    ৬ গুণ বৃদ্ধি
৯    আমদানি ব্যয়    ১৪.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার    ৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার    প্রায় ৬ গুণ বৃদ্ধি
১০    বিনিয়োগ (জিডিপি’র হারে)    ২২.৭৮ শতাংশ    ৩২.০৫ শতাংশ    প্রায় দেড় গুণ বৃদ্ধি
১১    বার্ষিক রাজস্ব আয়    ৩৭ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা    ৫ লক্ষ কোটি টাকা    ২০২৩-২৪ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা।                

মানুষের জীবনমান উন্নয়ন
ক্রম    খাত    ২০০৬ বিএনপি-জামাত জোট    ২০২৩ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ    মন্তব্য
১    দারিদ্র্যের হার    ৪১.৫১ শতাংশ    ১৮.৭ শতাংশ    অর্ধেক কমেছে
২    অতি দারিদ্র্যের হার    ২৫.১ শতাংশ    ৫.৬ শতাংশ    প্রায় ৫ গুণ কমে এসেছে।
৩    মানুষের গড় আয়ু    ৫৯ বছর    ৭২.৮ বছর    
৪    নিরাপদ খাবার পানি    ৫৫ শতাংশ    ৯৮.৮ শতাংশ    ২ গুণ বৃদ্ধি
৫    সেনিটারি ল্যাট্রিন    ৪৩.২৮ শতাংশ    ৯৭.৩২ শতাংশ    ২ গুণের বেশি বৃদ্ধি
৬    শিশু মৃত্যুর হার 
(প্রতি হাজারে)    ৮৪ জন    ২১ জন    ৪ গুণ কমেছে
৭    মাতৃমৃত্যু হার    
(প্রতি লাখে)    ৩৭০ জন    ১৬১ জন    প্রায় আড়াই গুণ কমেছে।

বিদ্যুৎ
ক্রম    খাত    ২০০৬ বিএনপি-জামাত জোট    ২০২৩ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ    মন্তব্য
১    বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা    ৩ হাজার ৭৮২ মেগাওয়াট    ২৮ হাজার ৫৬২ মেগাওয়াট    ৮ গুণ বৃদ্ধি
২    বিদ্যুৎ সুবিধাভোগীর হার    মোট জন সংখ্যার ২৮ শতাংশ    মোট জনসংখ্যার ১০০ শতাংশ    প্রায় ৪ গুণ বৃদ্ধি
স্বাস্থ্য 
ক্রম    খাত    ২০০৬ বিএনপি-জামাত জোট    ২০২৩ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ    মন্তব্য
১    সরকারি হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা    ৩৩ হাজার ৫৭৯    ৭১ হাজার    ২ গুণ বৃদ্ধি
২    সরকারি ডাক্তারের সংখ্যা    ৯ হাজার ৩৩৮
জন    ৩০ হাজার ১৭৩ জন    ৩ গুণ বৃদ্ধি
৩    সরকারি নার্সের সংখ্যা    ১৩ হাজার ৬০২ জন    ৪৪ হাজার ৩৫৭ জন     প্রায় ৩ গুণ বৃদ্ধি
৪    মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের সংখ্যা    ১ হাজার ৯৯৮ জন     ৪৪ হাজার ৩৫৭ জন    ৩ গুণ বৃদ্ধি
৫    নার্সিং কলেজ অ্যান্ড ইন্সটিটিউটের সংখ্যা    ৩১টি      ৯৯টি    ৩ গুণ বৃদ্ধি
৬    কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা    আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ১৯৯৮-২০০১ মেয়াদে মোট ১০ হাজার ৭২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি এসে সকল ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে।    ১৪ হাজার ৯৮৪টি।    কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র হতে বিনামূল্যে ৩০ প্রকার ঔষধ প্রদান করা হয়।

শিক্ষা
ক্রম    খাত    ২০০৬ বিএনপি-জামাত জোট    ২০২৩ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ    মন্তব্য
১    স্বাক্ষরতার হার    ৪৫ শতাংশ                ৭৬.৮ শতাংশ                            ২ গুণ বৃদ্ধি
২    প্রাথমিক শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ    ৫৪ শতাংশ    ৯৮.২৫ শতাংশ    ২ গুণ বৃদ্ধি
৩    কারিগরী শিক্ষায় ভর্তির হার      ০.৮ শতাংশ              ১৭.৮৮ শতাংশ    ২২ গুণ বৃদ্ধি
৪    মাধ্যমিক পর্যায়ে নারী শিক্ষকের সংখ্যা    ৫৯ হাজার ৫৫ জন    ১ লক্ষ ১ হাজার ৮২৮ জন    ২ গুণ বৃদ্ধি
৫    প্রাথমিক বিদ্যালয় সংখ্যা    ৬৫ হাজার ৬৭২টি    ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৮৯১টি    প্রায় ২ গুণ বৃদ্ধি
৬    প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংখ্যা    ৩ লক্ষ ৪৪ হাজার ৭৮৯ জন    ৬ লক্ষ ৫৭ হাজার ২০৩ জন    প্রায় ২ গুণ বৃদ্ধি (২০০৯ হতে ২০২২ পর্যন্ত মোট ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৩১১ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।)
৭    প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মহিলা শিক্ষক সংখ্যা    ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ৪১ জন    ৪ লক্ষ ৩ হাজার ১৯১ জন    ৩ গুণ বৃদ্ধি
৮    কারিগরী  প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)    ৯টি    ১৬৬টি    ১৮ গুণ বৃদ্ধি

কৃষি
ক্রম    খাত    ২০০৬ বিএনপি-জামাত জোট    ২০২৩ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ    মন্তব্য
১    দানাদার শস্যের উৎপাদন    ১ কোটি ৮০ লক্ষ মেট্রিক টন    ৪ কোটি ৯২ লক্ষ ১৬ হাজার মেট্রিক টন    ৪ গুণ বৃদ্ধি
২    সেচের আওতাভুক্ত কৃষি জমি    ২৮ লক্ষ হেক্টর    ৭৯ লক্ষ হেক্টর    ৩ গুণ বৃদ্ধি
৩    মোট মৎস্য উৎপাদন    ২১.৩০ লক্ষ মে. টন    ৫৩.১৪ লক্ষ মে.টন    ২.৫ গুণ বৃদ্ধি
৪    গবাদি পশুর সংখ্যা    ৪ কোটি ২৩ লক্ষ ১ হাজার    ৭ কোটি ৯৮ লক্ষ ৭৮ হাজার    প্রায় ২ গুণ বৃদ্ধি
৫    পোল্ট্রি সংখ্যা    ১৮ কোটি ৬ লক্ষ ২২ হাজার    ৫২ কোটি ৭৯ লক্ষ ১৯ হাজার    ৪ গুণ বৃদ্ধি
৬    চা উৎপাদন    ৩.৯ কোটি কেজি    ৮.১০  কোটি কেজি    ২ গুণ বৃদ্ধি
৭    লবণ উৎপাদন    ৮.৫৪ লক্ষ মে.টন    ২৩.৪৮ লক্ষ মে.টন    ৩ গুণ বৃদ্ধি
৮    কৃষিখাতে ভর্তুকির পরিমাণ    ১ হাজার ১৭০ কোটি টাকা    ২৬ হাজার ৫৫ কোটি টাকা    
৯    সারে ভর্তুকির পরিমাণ
(২০২২-২৩)    -    ২৫ হাজার ৭৬৬ কোটি টাকা    

ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত রাষ্ট্র নির্মাণ
ক্রম    খাত    ২০০৬ বিএনপি-জামাত জোট    ২০২৩ বাংলাদেশ 
আওয়ামী লীগ    মন্তব্য
১    ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পুনর্বাসন    ০    ৮ লক্ষ ৪৭ হাজার ৭১৪ পরিবার (নভেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত)    

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ
ক্রম    খাত    ২০০৬ বিএনপি-জামাত জোট    ২০২৩ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ    মন্তব্য
১    মোট জনগোষ্ঠীর ইন্টারনেট ব্যবহার    ০.২৩ শতাংশ জনগোষ্ঠী    ৭৮.৫৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী    ৩৪২ গুণ বৃদ্ধি
২    সক্রিয় মোবাইল ফোন সিম সংখ্যা    ১ কোটি ৯০ লক্ষ    ১৮ কোটি ৮৬ লক্ষ ৪০ হাজার    ১০ গুণ বৃদ্ধি
৩    ডিজিটাল সেবা সংখ্যা (সরকারি সংস্থা কর্তৃক )    ৮টি    ৩ হাজার ২০০+টি    ৪০০ গুণ বৃদ্ধি
৪    ওয়ান স্টপ সেন্টারের সংখ্যা    ২টি    ৮ হাজার ৯২৮টি    সাড়ে ৪ হাজার গুণ বৃদ্ধি
৫    সরকারি ওয়েবসাইটের সংখ্যা    ৯৮টি    ৫২ হাজার ২০০+টি    ৫৩৩ গুণ বৃদ্ধি
৬    আইসিটি রপ্তানির পরিমাণ    ২১ মিলিয়ন ডলার    ১.৯ বিলিয়ন ডলার    ৯ গুণ বৃদ্ধি
৭    আইটি ফ্রি- ল্যান্সার সংখ্যা    ২০০ জন    ৬ লক্ষ ৮০ হাজার জন    সারা বিশ্বে বাংলাদেশ ২য় স্থানে রয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি
ক্রম    খাত    ২০০৬ বিএনপি-জামাত জোট    ২০২৩ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ    মন্তব্য
১    সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ    ২ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা (মোট বাজেটের ৪.০১%)    ১ লক্ষ ২৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকা (মোট বাজেটের ১৬.৫৮%)    ৫০ গুণ বৃদ্ধি
২    সামাজিক সুরক্ষা সেবার আওতাভুক্ত মোট উপকারভোগীর সংখ্যা    ২১ লক্ষ জন    ১০ কোটি ৬১ লক্ষ ১৪ হাজার জন    ৫০ গুণ বৃদ্ধি

৩    উপবৃত্তি কার্যক্রমের সুবিধাভোগী (শিক্ষা ক্ষেত্রে উপবৃত্তি, বৃত্তি, উচ্চশিক্ষা সহায়তা কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা)    ০    ৩ কোটি ৯৪ লক্ষ ১০ হাজার ৭৫৬ শিক্ষার্থী    
৪    বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহিতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা প্রাপ্ত উপকারভোগীর সংখ্যা    ২১ লক্ষ ১৭ হাজার জন    ১ কোটি ১৩ লক্ষ ১০ হাজার জন    ৫ গুণের বেশি বৃদ্ধি
৫    বিদেশ ফেরৎ প্রবাসী কর্মীদের প্রদত্ত অনুদান (বার্ষিক)    ১ কোটি ৩৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা 
    ২১১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা 
    ১৫৭ গুণ বৃদ্ধি
৬    খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রমের উপকারভোগী (ভিজিএফ, ভিজিডি, ভিডব্লিউবি, টিআর, জিআর, কাবিখা, কাবিটা, ইজিপিপি, ও এমএস খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি কার্যক্রমের সুবিধাভোগী)    ৪ লক্ষ ৩০ হাজার জন    ৪ কোটি ৬১ লক্ষ ১৫ হাজার জন    ১০০ গুণ বৃদ্ধি
৭    হিজড়া জনগোষ্ঠীর উপকারভোগী    ১ হাজার ১২ জন    ৬ হাজার ৮৮৪ জন    ৬ গুণ বৃদ্ধি


যোগাযোগ অবকাঠামো
ক্রম    খাত    ২০০৬ বিএনপি-জামাত জোট    ২০২৩ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ    মন্তব্য
১    জেলা, আঞ্চলিক ও জাতীয় মহাসড়ক    ১২ হাজার ১৮ কিলোমিটার    ৩২ হাজার ৬৭৮ কিলোমিটার    প্রায় ৩ গুণ বৃদ্ধি
২    গ্রাম্য সড়ক    ৩ হাজার ১৩৩ কিলোমিটার    ২ লক্ষ ৩৭ হাজার ৪৪৬ কিলোমিটার    প্রায় ৭৬ গুণ বৃদ্ধি
৩    মোট রেলপথ    ২ হাজার ৩৫৬ কিলোমিটার    ৩ হাজার ৪৮৬ কিলোমিটার    দেড় গুণ বৃদ্ধি
৪    বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা    ১১টি বিমান    ২১টি বিমান    ২০০৬ সালে প্রায় সকল বিমান ছিল অতি পুরাতন ও জরাজীর্ণ, বর্তমানে সেগুলো অত্যাধুনিক বিমান দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

শূন্য থেকে শুরু 
ক্রম    খাত    ২০০৬ বিএনপি-জামাত জোট    ২০২৩ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ    মন্তব্য
১    ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত জেলা    ০    ৩২টি
(নভেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত)    
২    ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত উপজেলা    ০    ৩৯৪টি
(নভেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত)    
৩    ডিজিটাল সেন্টারের সংখ্যা    ০    ৮ হাজার ৯৭২টি    
৪    ইউনিয়ন পর্যায়ে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ     ০    ২ হাজার ৬০০টি ইউনিয়ন     
৫    দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোন ব্র্যান্ডের সংখ্যা    ০    ১৫টি ব্র্যান্ড    
৬    হাইটেক পার্ক, সফটওয়ার টেকনোলজি পার্ক এবং শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার    ০    ১০৯টি    
৭    ফ্যামিলি কার্ড ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা প্রাপ্ত উপকারভোগী (টিসিবি কর্তৃক প্রদত্ত)    ০    প্রায় ৫ কোটি মানুষ    
৮    মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা    ০    ৮৪ লক্ষ জন    
৯    কৃষকদের প্রদানকৃত কৃষি কার্ডের সংখ্যা    ০    ২ কোটি ৬২ লক্ষ কৃষক     
১০    খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা    ০    ৫১ লক্ষ জন    
১১    ‘বর্গা চাষীদের জন্য কৃষিঋণ’ কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা     ০    ২৮ লক্ষ বর্গা চাষী    
১২    সর্বজনীন পেনশন স্কিমের সুবিধাভোগী    ০    ৮ কোটি ৫০ লক্ষ জন    

বিবিধ
ক্রম    খাত    ২০০৬ বিএনপি-জামাত জোট    ২০২৩ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ    মন্তব্য
১    কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা    ৬ কোটি ৭৮ লক্ষ জন    ১২ কোটি ৩৩ লক্ষ জন    স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জীবনমান বৃদ্ধির কারণে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী প্রায় ২ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
২    ওয়ার্কিং ফোর্সে মহিলাদের অংশগ্রহণ    ২১.২%    ৪৩.৪৪%    ২ গুণের বেশি বৃদ্ধি।
৩    বেকারত্বের হার    ৬.৭৭%    ৩.৪১%    অর্ধেক হয়েছে
৪    দেশে মোট কর্মসংস্থান    ৪ কোটি ৩০ হাজার জন     ৭ কোটি ৭ লক্ষ ৩০ হাজার জন    ২ গুণ বৃদ্ধি
৫    শ্রমিকদের নি¤œতম মজুরি    মাসিক ১ হাজার ৪৬২ টাকা    মাসিক ১২ হাজার ৫০০ টাকা    ১২ গুণ বৃদ্ধি
৬    ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কার্যক্রমের উপকারভোগী    ৩ লক্ষ ৭০ হাজার নারী    ১৮ লক্ষ ২০ হাজার নারী    ৫ গুণ বৃদ্ধি
৭    জয়িতা ফাউন্ডেশন        গ্রাম পর্যায়ে জয়িতা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও অনলাইন ব্যবসা প্রশিক্ষণ প্রদান।    

সুধিবৃন্দ,
    দ্বাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা আবারও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারও আমরা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে একটি বাস্তবায়নযোগ্য নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করেছি। ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮-এর নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনাগুলির ধারাবাহিকতা দ্বাদশ নির্বাচনী ইশতেহারেও রক্ষিত হয়েছে।
    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বাদশ নির্বাচনী ইশতেহার পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। এখানে এই স্বল্প সময়ে তা সবিস্তারে তুলে ধরা সম্ভব নয়। আমি সংক্ষিপ্তাকারে কয়েকটি বিষয় আমার লিখিত বক্তব্যে আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি।
৩.১ ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে উত্তরণ
    চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য প্রযুক্তি সক্ষমতা একান্ত প্রয়োজন। এজন্য আমরা ‘স্মার্ট নাগরিক’, ‘স্মার্ট সরকার’, ‘স্মার্ট অর্থনীতি’ ও ‘স্মার্ট সমাজ’ - এই চারটি স্তম্ভের সমন্বয়ে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার ঘোষণা দেই। স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজ করছি। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত স্মার্ট সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবো, ইনশাআল্লাহ।
৩.২ সুশাসন
ক) গণতন্ত্র, নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ
    গণমানুষের দল আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করে আসছে। মানুষের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিতে আমরা সদা তৎপর। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে একটি কার্যকর সংসদই পারে কেবল জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে। 
    আমরা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে রাষ্ট্র পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা আরও সুদৃঢ় করবো। 
খ) আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষা
    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আইনের শাসন ও মানবাধিকারের সপক্ষে সবসময়ই সোচ্চার। সামাজিক বৈষম্য নিরসন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কাঙ্খিত শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য। যেখানে আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা এবং সুবিচার নিশ্চিত হবে।
    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংরক্ষণ ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা হবে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা এবং কার্যকারিতা সুনিশ্চিত করার ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

গ) গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহ
    আওয়ামী লীগ সরকার অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। ১৯৯৬ মেয়াদে আমরাই প্রথম বেসরকারি খাতে টেলিভিশন ও রেডিও উন্মুক্ত করি। 
    বিগত ১৫ বছরে গণমাধ্যমের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে। দেশে পত্রিকার সংখ্যা ৩ হাজার ২৪১টি। ৩৩টি বেসরকারি টিভি চ্যানেল, ২৩টি এফএম বেতার এবং ১৮টি কমিউনিটি বেতার কেন্দ্র বর্তমানে সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সাংবাদিকগণ যাতে নির্যাতন, ভয়ভীতি-হুমকি, মিথ্যা মামলার সম্মুখীন না হন তার ব্যবস্থা করা হবে। ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী ব্যক্তির গোপনীয়তা ও তথ্য সংরক্ষণ করা হবে এবং অপব্যবহার রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। সাংবাদিকদের জন্য দশম ওয়েজবোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া চলমান।  সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় সাংবাদিকদের আর্থিক ও চিকিৎসা সহায়তাকে আরও সম্প্রসারণ করা হবে। 
ঘ) জনকল্যাণমুখী, জবাবদিহিমূলক, দক্ষ ও স্মার্ট প্রশাসন
    নাগরিককেন্দ্রিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, জ্ঞানভিত্তিক, কল্যাণমুখী, সমন্বিত দক্ষ স্মার্ট প্রশাসন গড়ার মাধ্যমে জনগণকে উন্নত ও মানসম্মত সেবা প্রদান ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অঙ্গীকারবদ্ধ। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের মাধ্যমে দক্ষ, উদ্যোগী, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর, দুর্নীতিমুক্ত দেশপ্রেমিক ও জনকল্যাণমুখী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলমান থাকবে।
ঙ) জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গড়ে তোলা
    আওয়ামী লীগ সরকার সবসময়ই তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর, উন্নত, মানবিক ও জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গঠনের লক্ষ্যে কাজ করেছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্মার্ট বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্মার্ট ও আধুনিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
চ) দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ
    আওয়ামী লীগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজ থেকে দুর্নীতির মূলোৎপাটন করতে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব গড়ে তোলার জন্য পাঠ্যক্রমে দুর্নীতির কুফল ও দুর্নীতি রোধে করণীয় বিষয়ে অধ্যায় সংযোজন করা হবে। 
ছ) সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা
    আওয়ামী লীগ সন্ত্রাস দমন, সকল নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাষ্ট্র পরিচালনায় সংবিধানের প্রাধান্য, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্রাসমুক্ত সমাজগঠন সুনিশ্চিত করা হবে। 
    বাংলাদেশ সকল ধর্ম, বর্ণ এবং পেশার মানুষের আবাসভূমি। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ আমাদের কাম্য।
জ) স্থানীয় সরকার
কেন্দ্রীয় বাজেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্তরে স্থানীয় সরকার কর্তৃক বাজেট প্রণয়ন এবং সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে দায়িত্ব বিভাজন অধিকতর স্পষ্ট করা হবে।
ঝ) ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা
    ভূমির স্বল্পতা, ব্যবস্থাপনাগত দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতার কারণে ভূমি ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ সুশাসন নিশ্চিত করার চাহিদা দীর্ঘ দিনের। প্রশাসনিক সংস্কার ও ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে আমাদের সরকার ভূমি সংক্রান্ত সমস্যাদির কার্যকর সমাধানের জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। খধহফ উবাবষড়ঢ়সবহঃ ঞধী গধহধমবসবহঃ ঝুংঃবস এর মাধ্যমে ৩টি পার্বত্য জেলা ব্যতীত ৬১টি জেলায় ১ জুলাই ২০১৯ থেকে শতভাগ ই-নামজারি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ ভূমিসেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে সীমিত পর্যায়ে ঢাকা শহরে বিভিন্ন স্পটে ই-নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
৩.৩ অর্থনীতি
ক) সামষ্টিক অর্থনীতি: উচ্চ আয়, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন
    গত দেড় দশকে বাংলাদেশ একটি গতিশীল ও দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বিশ্বের দরবারে মর্যাদা লাভ করেছে। জাতীয় আয়ের মানদ-ে বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম অর্থনীতির দেশ। এসময়ে দেশের কৃষি, শিল্প ও সেবাখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন পণ্য ও সেবা উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। 
    নির্বাচিত হলে আওয়ামী লীগ সরকার লক্ষ্য ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি-কৌশল গ্রহণ করবে। বাজারমূল্য ও আয়ের মধ্যে সঙ্গতি প্রতিষ্ঠা করা হবে।
মুদ্রা সরবরাহ ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা
    মুদ্রা সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায়-উপকরণ হবে নীতি সুদ হার ব্যবহার। কর্মপোযোগী প্রশিক্ষিত যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ঋণ সরবরাহ সম্প্রসারণ করা হবে। আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে ভারসাম্য ??

দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কাজ করার আহবান প্রধানমন্ত্রীর
                                  

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে কাজ করার জন্য জন্য তার দলের সদস্যদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন যাতে কেউ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে। 
একইসঙ্গে তিনি উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার জন্য তাঁর দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘নৌকা’য় দেশবাসীর ভোট প্রত্যাশা করেন।
তিনি বলেন, “আপনারা আগামী সাধারণ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের জন্য এমনভাবে কাজ করবেন যাতে নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে না পারে।”
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা আজ নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া এক ভার্চুয়াল ভাষণে একথা বলেন।
তিনি আজ বিকেলে আওয়ামী লীগের তেঁজগাও কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই নির্বাচনী জনসভায় যুক্ত হন। যার সাথে পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, নাটোর, পাবনা ও খাগড়াছড়ি সহ ৫টি জেলা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিল। পরে এসব জেলার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মতবিনিময় করেন।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি তাঁর দলের নেতাকর্মীদের আগামী নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বলেছেন যাতে তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারেন।
তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচনে জনগণ ও ভোটারদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। কোন দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বা নিচ্ছে না, তাতে কিছু যায় আসে না।”
তিনি বলেন, ভোট কারচুপির কোনো নিশ্চয়তা না থাকায় বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এদেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করি আর বিএনপির কাজটা কি? জ্বালাও পোড়াও অগ্নি সন্ত্রাস, এটাই তারা ভালো বোঝে এটাই তারা করে।
তিনি বলেন, এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। কেননা সন্ত্রাসী এবং জঙ্গিবাদি সংগঠন হচ্ছে বিএনপি।
শেখ হাসিনা বলেন, ভোট চুরির অপরাধে দুই দুবার এদেশের মানুষ খালেদা জিয়াকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল সেটা নিশ্চয়ই সকলের মনে আছে। ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়েছিল। আর মার্চে খালেদা জিয়া পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ঠিক একইভাবে তারা আবার ভোট চুরি করার চেষ্টা করেছিল ২০০৬ সালে। এক কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার দিয়ে ভোটার লিস্ট করে সে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল। পারে নাই।
কাজেই দু’ দুবার যারা ভোট চুরির অপরাধে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত তাদের মুখে এখন গণতন্ত্রের কথা শুনতে হয়,ভোটের কথাও  শুনতে হয় -এটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্য।
তিনি বলেন, ভোটের অধিকার জনগণকে আওয়ামী লীগই দিয়েছে এবং সেটা অব্যাহত থাকবে। এবারে নির্বাচনে আপনাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এ ধরনের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ করে কোন মানুষের ক্ষতি যেন কেউ না করতে পারে। সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ জানুয়ারি নির্বাচন এবং সে নির্বাচনে জনগণ অবাধে ভোট দেবে। ভোটের মালিক জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার।
“হ্যাঁ আমরা এটা উন্মুক্ত করেছি আমাদের নৌকার প্রার্থীও আছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছে এবং অন্যান্য দলের প্রার্থীও রয়েছে,” বলেন তিনি।
তিনি দলের প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা জনগণের কাছে যাবেন, জনগণ যাকে ভোট দেবে তিনি নির্বাচিত হবেন। কেউ কারো অধিকারে হস্তক্ষেপ করবেন না। এখানে কিন্তু কোন রকমের সংঘাত বা মারামারি, কোন কিছুই আমি দেখতে চাই না।
তিনি বলেন, কোন সংঘাত হলে সংঘাত যদি আমার দলেরও কেউ করে তাদের কিন্তু রেহাই নেই। তাদের বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব। সেটা মনে রাখবেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটাধিকার নির্বিঘেœ প্রয়োগ করবেন। যাকে খুশি বা যাকে পছন্দ তাকে ভোট দেবেন এবং সে জয়ী হয়ে আসবে। কেননা গণতন্ত্রকে আরো সুদৃঢ় করতে হবে।
এর যেন কোন ব্যতয় না ঘটে সেদিকে লক্ষ্য রাখার আহবান জানিয়ে তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নের অভিযাত্রা অব্যাহত রাখার জন্যও এটা জরুরী বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আওয়ামী লীগের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার ওপর নির্মিত একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ ও অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া  এবং উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান তেজগাঁও দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ, প্রার্থী, স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীবৃন্দ সংযুক্ত পাঁচ জেলার ভেন্যুতে উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ:) ও শাহ পরাণ (রহ:) এর মাজার জিয়ারত করে দলের নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
এরপর দুপুর ২টায় নগরীর চৌহাট্টা এলাকার সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগের সিলেট জেলা ও মহানগর শাখা আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন তিনি।
তিনি ২৯ ডিসেম্বর বরিশাল সফর করবেন এবং ওই দিন বিকেল ৩টায় জেলা শহরে একটি নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এরপর ৩০ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ সফর করবেন এবং গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া) আসনের জনসভায় ভাষণ দেবেন শেখ হাসিনা। একই দিন মাদারীপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলাম সেই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়েছি, এখন লক্ষ্য হচ্ছে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সে স্মার্ট বাংলাদেশে প্রত্যেকটি ছেলে-মেয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াবে। আজকে আমাদের ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা ছয় লাখের অধিক। যারা ঘরে বসে আয় উপার্জন করতে পারে। তারা কোভিড- ১৯ এর সময়ও এটা করেছে। 
তিনি বলেন, আমাদের উন্নয়নটা ‘সাসটেইনেবল’  হবে অর্থাৎ যে উন্নয়নটা স্থায়ী হবে এবং যার মাধ্যমে জনগণ সুযোগ পাবে নিজেদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটানোর। উন্নয়নবান্ধব ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের কর্মসূচি আমরা বাস্তবায়ন করব।
তিনি বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েদের অনেক মেধা আছে। যে মেধা অন্বেষণ করে তাকে কাজে লাগিয়ে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাদেরকে প্রযুক্তি জ্ঞান দিয়ে উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে আমরা গড়ে তুলবো। আমাদের অর্থনীতিও উন্নত হবে, স্মার্ট হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাংলাদেশের যে উন্নয়ন আমরা করে যাচ্ছি সেটা যেন অব্যাহত থাকে সেজন্য আমরা উন্নত, উদার, অগ্রসরমান, অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। যেখানে উন্নয়নটা হবে সুষম। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই যেন সুন্দরভাবে সেখানে বাঁচতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আমরা দুর্নীতি মুক্ত এবং সুষম উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কারণ এই দুর্নীতি সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। কিছু লোক হঠাৎ আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়। আর সৎভাবে যারা জীবনযাপন করে তাদের জীবনটা দুর্বিসহ হয়। সেজন্য দুর্নীতির বিরুদ্ধেও ‘জিরো টলারেন্স’ আমরা ঘোষণা দেবো। ন্যায় ও সমতা ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা এবং অর্থনীতিকে সমতা ভিত্তিক করা এবং মানুষের জীবনমান উন্নত করাটাই আমাদের লক্ষ্য। 
তিনি বলেন, “আমরা সর্বস্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই,” 
শেখ হাসিনা বলেন, কাজেই স্মার্ট বাংলাদেশ শুধু একটি শব্দ নয়। এর অন্তর্নিহিত অর্থ হচ্ছে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের উন্নয়নটাকে স্থায়ী বন্দোবস্ত করা যাতে আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম এর সুফলটা ভোগ করতে পারে সে ব্যবস্থা করা। সেজন্য তাঁর সরকার প্রেক্ষিত পরিকল্পনা করেছে। যেমন ২০৪১ সালের বাংলাদেশ কেমন হবে তার রূপরেখা এখনই প্রণয়ন করেছে। 
তিনি বলেন, শতবর্ষ পরে বাংলাদেশের অবস্থান কিরকম হবে? তা বিবেচনা করে ‘ডেলটা মহাপরিকল্পনা - ২১০০’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছি। জলবায়ুর অভিঘাত থেকে বাংলাদেশ কিভাবে মুক্ত থাকবে, তারও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী পাঁচ জেলার উন্নয়নের বিভিন্ন খতিয়ান, এগুলোকে আরো সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার নানা পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁর সরকারের গৃহীত ১০ কোটির বেশি উপকারভোগীর সামাজিক নিরাপত্তা বলয় কর্মসূচি, দেশের সকল গৃহহীণকে ঘর নির্মান ও তাদের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করা, ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আরো জ¦ালা, গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া, শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি-উপবৃত্তি, মাধ্যমিক শ্রেণী পর্যন্ত বছরের প্রথম দিন বিনামূল্যে নতুন বই প্রদান এবং চিকিৎসা সেবাকে জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য সারাদেশে গড়ে তোলা কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবাসহ ৩০ প্রকারের ওষুধ বিনামূল্যে প্রদানের পদক্ষেপের উল্লেখ করেন।
তিনি বর্গা চাষীদের জন্য বিনা জামানতে কৃষিঋণ এবং উদ্যোক্তা তৈরি হবার জন্য ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনা জামানতে ঋণ প্রদানের পাশাপাশি কৃষকদের দোরগোড়ায় সার পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁর সরকারের পদক্ষেপের উল্লেখ করেন। বিএনপি এই সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের উপর গুলি চালিয়ে কৃষক হত্যা করেছিল সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি নির্বাচনে আসবে কিভাবে সে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে কারো কোন প্রশ্ন ছিল না। সেই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ৩০টি আসন পেয়েছিল। আর সেখানে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৩৩ টি আসনে বিজয়ী হয়। এটা সকলকে মনে রাখতে হবে। এখন বড় বড় কথা বলে, তারা ভোটের কথা বলে। 
তিনি বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী, সংবিধান লঙ্ঘনকারী, সেনা আইন লঙ্ঘনকারী এক জেনারেলের পকেট থেকে যাদের জন্ম সেই বিএনপি ভোটের কি বোঝে, সে প্রশ্নও তিনি তোলেন। ক্ষমতায় বসে থেকে একদিকে সেনাপ্রধান এবং অপরদিকে রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে ‘হ্যাঁ’ ‘না’ ভোটের আয়োজন এর মাধ্যমে তার সময়ে বিভিন্ন প্রহসনের নির্বাচনের প্রসঙ্গও তিনি তুলে ধরেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর পকেট থেকে যাদের জন্ম তাদের সকল কাজই অবৈধ, কারণ তারা মানুষকে মানুষ হিসেবে গণ্য করে না।
তিনি সাম্প্রতিক রেলে অগ্নিসংযোগের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, কিভাবে রেলে আগুন দিয়ে তারা মানুষ পোড়ালো। মাতা শিশু সন্তানকে বাঁচানোর জন্য বুকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে সে অবস্থায় জ্বলে পুড়ে অঙ্গার হয়ে গিয়েছে। হেলপার ঘুমিয়ে আছে আগুন দিয়েছে, হেলপার পুড়ে শেষ। ২০১৩ ও ১৪ সালে একই ঘটনা তারা ঘটিয়েছে। ছেলেকে ট্রাকে বসিয়ে রেখে বাবা গেছে মনে হয় পানি আনতে, সেই ট্রাকে  আগুন দিয়েছে, ছেলে পুড়ে শেষ। সন্তান আগুনে ঝলসে যাচ্ছে বাবা কিছুই করতে পারছে না। এভাবেই সারা বাংলাদেশে তারা তান্ডব করেছে। সেই ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর নামে ৫৮২টি স্কুল, ৭০টি সরকারি অফিস, ছয়টি ভূমি অফিস এবং ৩২৫২টি গাড়ি, ২৯টি রেল, নয়টি লঞ্চ তারা আগুন দিয়ে পুড়িয়েছিল। এমনকি জজের এজলাসেও তারা আগুন দেয়। ঝালকাঠিতে বোমা মেরে জজ হত্যা করল। গাজীপুরে আইনজীবীদের উপর বোমা হামলা চালালো, সেখানো আইনজীবীদেরকে তারা আহত করল। এটাই বিএনপির চরিত্র, আর এখন আবার শুরু করেছে অগ্নি সন্ত্রাস।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা বাসে আগুন দিচ্ছে, গাড়িতে আগুন দিচ্ছে, রেলে আগুন দিচ্ছে। মানুষ যেন শান্তিতে চলাচল করতে পারে এজন্য সরকার নতুন রেলের কোচ ক্রয় করেছে, সেখানে আগুন দিচ্ছে।  কারণ মানুষের শান্তি দেখলে ওদের মনে অশান্তি জাগে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘কুলাঙ্গার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এই কুলাঙ্গার ২০০১ সালে হাওয়া ভবন খুলে খাওয়া শুরু  করেছিল। তাকে খাওয়া না দিয়ে কেউ ব্যবসা পেতো না। তার খাওয়ার কোন শেষ ছিল না। খেতে খেতে সে সবই খেয়ে ফেলেছে।  মানি লন্ডারিং, দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারি ও একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার পলাতক আসামি এই তারেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আর রাজনীতি করবে না বলে মুচলেকা দিয়ে  দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল। আর সেখানে বসে এখন নির্বাচন বানচাল করা সহ মানুষ হত্যার হুকুম দিচ্ছে।
তিনি বলেন, তারা বলে তারা নাকি গণতন্ত্র দেবে যাদের জন্মই গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে হয়নি তারা কিভাবে গণতন্ত্র দিতে পারে সে প্রশ্নও তোলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, আজকে বাংলাদেশে দারিদ্রের হার আমরা ৪১ ভাগ থেকে ১৮ দশমিক ৭ ভাগে নামিয়ে এনেছি। মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৭৯৮ মার্কিন ডলারে উন্নীত করেছি, প্রবৃদ্ধি বাড়িয়েছি এমনকি কোভিড-১৯ এর সময় যখন বিশে^র অনেক উন্নত দেশের প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হয়ে পড়েছিল তখনও আমরা ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। দেশের মানুষের উন্নয়নে দিন-রাত পরিশ্রম করেই আমরা একাজগুলো করে যাচ্ছি। রাস্তা-ঘাট, পুল, ব্রীজ সহ দেশের যে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নটা আমরা করেছি সেটা জনগণের মাথায় রাখতে হবে। সেটা মাথায় রেখেই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে হবে এবং জনগণের তথা ভোটারের অংশগ্রহণ থাকতে হবে।
তিনি বলেন,“আর উন্নয়নের ধারাটাকে যদি অব্যাহত রাখতে হয় তাহলে আওয়ামী লীগকেই সরকার গঠন করে জনগণের কল্যাণ সাধন করতে হবে।” 

বাংলাদেশ থেকে এমবিবিএস পাস করা ফিলিস্তিনি চিকিৎসকবৃন্দ এখন ফিলিস্তিনের হাসপাতালে কাজ করছেন - প্রধানমন্ত্রী
                                  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিলিস্তিনের গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) রাষ্ট্রগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওআইসি’র সদস্য দেশগুলোকে গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’ বাংলাদেশে কাতারের রাষ্ট্রদূত সেরায়া আলী মাহদি সাইদ আল-কাহতানি আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি একথা বলেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
করিম বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং কাতারের রাষ্ট্রদূত বৈঠকে গাজা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকে কাতারের রাষ্ট্রদূত শেখ হাসিনার কাছে ৪ থেকে ৬ মার্চ, ২০২৪ তারিখে কাতারে অনুষ্ঠেয় অষ্টম দোহা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স এক্সিবিশন অ্যান্ড কনফারেন্সে (ডিআইএমডিইএক্স) যোগদানের জন্য আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন।
আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে তিনি জয়ী হলে প্রদর্শনীতে যোগ দেবেন।
প্রদর্শনীটি প্রতি দুই বছর অন্তর কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হয়।
গাজা ইস্যু সম্পর্কে সেরায়া আলি মাহদি সাঈদ জানান, এই বছর তার দেশ ১৮ ডিসেম্বর জাতীয় দিবস উদযাপন করেনি এবং জাতীয় দিবসের উৎসব অনুষ্ঠানের বাজেট ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার গাজার জনগণের জন্য পাঠিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ফিলিস্তিনিদের জন্য শুকনো খাবার ও কাপড়সহ ত্রাণ সামগ্রীও পাঠিয়েছে।
তিনি বলেন, এমনকী বাংলাদেশ থেকে এমবিবিএস পাস করা ফিলিস্তিনি চিকিৎসকবৃন্দ এখন ফিলিস্তিনের হাসপাতালে কাজ করছেন।
কাতারের রাষ্ট্রদূত বলেন, কাতারভিত্তিক আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক গাজা ইস্যুতে সংবাদ প্রচার করছে বলে বিশ্ব গাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আশা করেন, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সফর করবেন।
প্রেস সচিব শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘আমরা অতি দ্রুত আমিরকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষায় আছি।’
কাতারের আমির ২০২০ সালের মে মাসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির নিকট থেকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী গাজা ইস্যুতে উদ্যোগ নেয়ার জন্য কাতার কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এম. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

দুদক কর্মকর্তাদের নৈতিকতা প্রদর্শন করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
                                  

 দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে নৈতিকতা প্রদর্শন করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
আজ ‘আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ২০২৩’ ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি’র জাতীয় নাট্যশালা অডিটরিয়ামে  দেয়া এক ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান।
তিনি দুদককে জনগণের নির্ভরতা ও আস্থার স্থলে পরিণত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের ও আদেশ দেন ।
দুদককে একটি আধুনিক, পেশাদার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনার বা আপনাদের কোন ভুল পদক্ষেপে যেন কোন নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।”
রাষ্ট্রপতি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশপ্রেম, সততা ও নিষ্ঠার সাথে দেশ ও জনগণের সেবায় সর্বাত্মক প্রয়াস অব্যাহত রাখুন . . .  দুদককে জনগণের নির্ভরতা ও আস্থার স্থলে পরিণত করতে হবে।”
সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “একজন দুর্নীতিবাজের পরিচয় কেবলই দুর্নীতিবাজ। দুর্নীতিবাজদের কোন দল নেই, নীতি-আদর্শ নেই। তাই দুর্নীতিবাজরা যে দলেরই হোক, দুর্নীতি করলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।”
তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনতে হলে দুদককে আরো কৌশলী হতে হবে, প্রশিক্ষিত ও প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে।
বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে প্রযু্ক্িতগত উৎকর্ষের সাথে সাথে দুর্নীতিবাজদের কৌশলও বদলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য দেশে-বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য দুদককে নির্দেশ দিন রাষ্ট্রপতি।
তিনি  প্রত্যাশা করেন যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে রূপকল্প-২০৪১, শত বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়ন এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে দুদক অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দুদক তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব কোন অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হয়ে নির্মোহ ও নিষ্ঠার সাথে সুষ্ঠুভাবে পালনের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারলেই আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন স্বার্থক হবে।
সংবিধিবদ্ধ স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে জনগণের কাছে দুদকের জবাবদিহি থাকা উচিত মনে করেন রাষ্ট্রপতি।


তিনি বলেন, জনগণ আশা করে দুর্নীতি দমন কার্যক্রমে কমিশনের সকল পর্যায়ের কর্মচারীগণ সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতা প্রদর্শন করবেন।
“দুর্নীতি শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং পৃথিবীর কোনদেশই এর কুপ্রভাব থেকে সম্পূর্ণমুক্ত নয়।  দুর্নীতি সমাজে বৈষম্যের সৃষ্টি করে, অর্থনৈতিক বিকাশ ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করে,” তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, “তাই দুর্নীতি দমন করতে হলে পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে . . .   পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষা এবং ধর্মীয় অনুভূতিও দুর্নীতি রোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।”
তিনি ভবিষ্যত প্রজন্ম যাতে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে সে জন্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বব্যাপী প্রতিরোধ গড়ে তোলারও তাগিদ  দেন।
সাবেক এই দুদক কমিশনার গত ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনে কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পদ্মা সেতু অসত্য কেলেঙ্কারির ঘটনাসহ  বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন।
তিনি বলেন, “তাইতো দুর্নীতি দমন কমিশনের সফলতায় আনন্দিত হই, আবার ব্যর্থতায় ব্যথিত হই।”
রাষ্ট্রপতি দুদকের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে প্রত্যেককে আইন সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
রাষ্ট্রপ্রধান দাপ্তরিক ও আইনী পদক্ষেপের পাশাপাশি দুর্নীতি কমাতে সমাজের সকল স্তরে জনসচেতনতা বাড়ানোর উপর ও গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ মঈনউদ্দিন আবদুল্লাহ সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক ও কমিশনার মোছা. আছিয়া খাতুন এবং কমিশনের সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

 

‘নারীরা স্বাবলম্বী হলে সমাজে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় হয়’
                                  

 সরকার নারীর ক্ষমতায়ন এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে সম্ভব সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “বাংলাদেশ বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছে।”
তিনি বলেন, “আমার সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কারণে নারীরা কোনো সেক্টরেই পিছিয়ে নেই।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৪৩তম জন্ম ও ৯১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বেগম রোকেয়া দিবস ২০২৩’ এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এখানে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার জন্য বাঙালি নারী শিক্ষার অগ্রদূত এবং সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়ার অবদানের স্মরণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগম রোকেয়ার যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্ন বাংলাদেশ পূরণ করতে পেরেছে, অন্তত এইটুকু দাবি করতে পারি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগম রোকেয়া যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সে অনুযায়ী নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে তাঁর সরকার অনেক ব্যবস্থা নিয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছি, তাদের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করেছি।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের জন্য অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
“আমরা সবসময় চেষ্টা করে আসছি, নারীরা যাতে তাদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে যা তাদের ক্ষমতায়িত হতে সাহায্য করবে,” যোগ করেন তিনি।
নারীরা বিচারক ও ব্যারিস্টার হবেন রোকেয়ার স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীরা নিজেদের যোগ্যতা দিয়ে সব সুযোগ কাজে লাগাতে পারায় তার স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার আগে দেশে নারীদের বিচারক হওয়ায় আইনী বাধা ছিল। জাতির পিতার উদ্যোগে এই আইনি বাধা উঠে গেলে নিম্ন আদালতে প্রথম নারী বিচারপতি হন নাজমুন আরা সুলতানা।
তিনি বলেন, তার সরকার পরবর্তীতে নাজমুন আরাকে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রথম নারী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি একজন নারীকে দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, যা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
তিনি বলেন, এখন আমাদের নারীদের বিচরণ সব জায়গায়। যেমন তারা রাজনীতিতেও আছে, অর্থনীতিতে আছে, পররাষ্ট্রনীতিতে আছে, আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ে, সশস্ত্র বাহিনী, সেই সাথে বর্ডার গার্ড সব ক্ষেত্রে কিন্তু নারীদের প্রবেশ সুযোগ আছে এবং তারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে।
“সাংবাদিকতা, তথ্য ও প্রযুক্তি, শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা সকল ক্ষেত্রে এখন মেয়েরা তাদের দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে, বাংলাদেশের জন্য সুনাম নিয়ে আসছে, বলেন তিনি।
 শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা জানেন, এশিয়ার শীর্ষে এখন বাংলাদেশের নারীরা, সেটাই হচ্ছে সবচেয়ে গর্বের বিষয়। জেন্ডার সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে বাংলাদেশ, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে আজ সপ্তম, আমাদের স্বাস্থ্য সেবা কর্মীদের ৭০ শতাংশ নারী, তৈরি পোশাক শিল্পে ৮০ শতাংশের বেশি নারী কর্মী।

তিনি বলেন, আমাদের দেশটাকে আমরা আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, ২০৪১ সালের মধ্যে এই বাংলাদেশ হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। যেখানে নারী পুরুষ সকলকে সমানভাবে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
আমাদের ছেলে মেয়ে উভয়ই যেন সমান ভাবে দক্ষতা অর্জন করতে পারে সেই পরিকল্পনা নিয়েই তাঁর সরকার এগিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আজ তাঁর একমাত্র কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের জন্মদিন হওয়ায় দেশবাসী সকলের কাছে দোয়া প্রত্যাশা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে সমাজ, নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য পাঁচ নারীকে বেগম রোকেয়া পদক-২০২৩ এ ভূষিত করেন।
 বেগম রোকেয়া পদক ২০২৩ প্রাপ্তরা হলেন: খালেদা একরাম (মরণোত্তর), ডা. হালিদা হানুম আক্তার, কামরুন্নেসা আশরাফ দিনা (মরণোত্তর), রণিতা বালা এবং নিশাত মজুমদার।
পুরষ্কারপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে একটি করে স্বর্ণপদক, একটি সার্টিফিকেট ও ৪ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এবং সচিব নাজমা মোবারেক।
পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে নিশাত মজুমদার পুরস্কার জয়ে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি চাই নারী স্বাবলম্বী হোক। নারীরা স্বাবলম্বী হলে পরিবার ও সমাজে তার অবস্থান সুদৃঢ় হয়। সব জায়গায় তার কথার মূল্যায়ন হয়।
নিজের মায়ের স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমার বাবা বেশির ভাগ সময় জেলে ছিলেন। সংসার চালানো, দল সুসংগঠিত করাসহ সব কাজই আমার মা করেছেন।
নারী শিক্ষায় বেগম রোকেয়ার অবদান উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, আমাদের দেশে বাঙালি নারী, বিশেষ করে মুসলিম নারীদের শিক্ষার দ্বার বেগম রোকেয়া উন্মুক্ত করেছিলেন। যে কারণেই হয়তো আজকে আমরা এখানে সমবেত হতে পেরেছি। আমাদের এ উপমহাদেশে নারীরা কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রে সবসময় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা নারীদের অবদান দেখেছি। পাকিস্তান আমলে নারীদের অনেক বাধা ছিল। অনেক কর্মক্ষেত্রে নারীদের সুযোগও দেওয়া হতো না। স্বাধীনতার পরে জাতির পিতা কিন্তু সেই সুযোগটা দিয়েছেন। তিনি বাংলার মুক্তির সংগ্রামেও নারীদের অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, বেগম রোকেয়ার আমলে মুসলমান নারীরা ঘরে অবরুদ্ধ থাকতো। তাদের লেখাপড়া করার কোনো সুযোগ ছিল না। তবে বেগম রোকেয়াকে তার স্বামী ও ভাই সবসময় সহযোগিতা করেছেন। তিনি নিজের প্রচেষ্টায় উর্দু, বাংলা, ইংরেজি এবং আরবি ভাষা শিখেছেন।
ইসলাম ধর্ম সবাইকে সমান অধিকার দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম ধর্মের নাম করে আমাদের মেয়েদেরকে পর্দার আড়ালে রাখার চেষ্টা হোত। আর এখন চিকিৎসা বিজ্ঞান ও সাহিত্যে নারীদের অবদানকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। সৌদি আরবে ওআইসি সম্মেলনে গিয়ে আমি দেখেছি সেখানে তাদের মেয়েদের বিভিন্ন কর্মস্থলে যারা আছে তাদের ছবি প্রদর্শন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবেও নারীদের অধিকার সুনিশ্চিত করা হচ্ছে। তাদেরকে আর পর্দার আড়ালে বন্দি করে রাখা হচ্ছে না। কর্মক্ষেত্রে তাদেরও সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। মেয়েদের অধিকার নিশ্চিত করতে সৌদি আরব এগিয়ে আছে। এখন আর কেউ মেয়েদের পর্দার আড়ালে নিতে পারবে না।
“সুতরাং, ইসলামের নামে কেউ নারীদের ঘরে ফিরিয়ে নিতে পারবে না,” বলেন তিনি।

ইসরায়েলি সৈন্য গাজায় হামাস যোদ্ধাদের সঙ্গে লড়াই করছে
                                  

 অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী তাদের আক্রমণ আরো জোরদার করার পর মঙ্গলবার সৈন্যরা দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় হামাস যোদ্ধাদের সাথে লড়াই করেছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর সতর্কতা জারি, ‘ধ্বংসস্তুপে আটকে পড়া বেসামরিক নাগরিকদের জন্য আরো বেশি নারকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।’
ইসরায়েল প্রাথমিকভাবে ভূখন্ডের উত্তরে তাদের আক্রমণকে কেন্দ্রীভূত করেছিল। কিন্তু সেনাবাহিনী এখন দক্ষিণের কিছু অংশে লিফলেটও ফেলছে। সেখানকার বেসামরিক নাগরিকদের অন্যত্র পালিয়ে যেতে বলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপি’কে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া যান এবং বুলডোজার সোমবার বেসামরিক লোকে পরিপূর্ণ দক্ষিণ গাজায় খান ইউনিস শহরের কাছে দেখা গেছে। যেখানে যুদ্ধের শুরুতে উত্তর গাজা থেকে বেসামরিক লোকেরা তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছিল।
সেনাবাহিনী সোমবার বলেছে, তারা খান ইউনিসে ‘হামাস এবং অন্যান্য সংগঠনের’ বিরুদ্ধে ‘আক্রমনাত্মক’ পদক্ষেপ নিচ্ছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, শহরের উত্তর ও পূর্বের প্রধান সড়ক ‘একটি যুদ্ধক্ষেত্র’।
হামাস টেলিগ্রামের মাধ্যমে দাবি করেছে, তাদের যোদ্ধারা খান ইউনিসের কাছে সেনা বহনকারী দু’টি যান এবং একটি ট্যাঙ্ককে টার্গেট করে হামলা চালিয়েছে।
গাজা থেকে ইসরায়েলি ভূখন্ডের দিকে আবারও রকেট সালভো নিক্ষেপ করা হয়।
যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে  ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে বেসামরিক লোকজন পালিয়ে যাওয়ার জন্য জায়গা ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
ফিলিস্তিনি ভূখন্ডের জন্য জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী লিন হেস্টিংস বলেছেন। ‘গাজায় কোথাও নিরাপদ নয় এবং কোথাও যাওয়ার বাকি নেই।’
হেস্টিংস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সম্ভবত আরও একটি নারকীয় দৃশ্য উদ্ঘাটন হতে চলেছে, যেখানে মানবিক সহযোগিতা কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতা থাকবে না।’
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, হামাসের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েল হামাসকে নির্মূল করার এবং গাজায় আটক সকল জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
গাজায় হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, যুদ্ধে ওই অঞ্চলে প্রায় ১৫,৯০০ লোক নিহত হয়েছে, যাদের প্রায় ৭০ শতাংশ নারী ও শিশু।
মিশরীয় সীমান্তের কাছে রাফাহ শহরের বাসিন্দা আবু জাহার আল-হাজ বলেছেন, তার বাড়ির কাছে একটি বিমান হামলা ‘ভূমিকম্পের মতো’ অনুভূত হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘কংক্রিটের টুকরো আমাদের উপর পড়তে শুরু করেছে।’
আরও উত্তরে দেইর আল-বালাহতে ওয়ালা আবু লিবদা একটি হাসপাতালে আশ্রয় পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, তার চার বছর বয়সী মেয়ে ধ্বংসস্তুপের নিচে আটকে আছে।
জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুসারে গাজার জনসংখ্যার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আনুমানিক ১৮ লাখ লোক বাস্তুচ্যুত। তাদের একজন আবু লিবদা বলেন, ‘আমি জানি না সে মারা গেছে নাকি বেঁচে আছে।’  ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দক্ষিণ গাজায় একটি ত্রাণ গুদাম খালি করতে ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই অঞ্চলে স্থল অভিযানের অযোগ্য করে দেওয়ার আগে অস্বীকার করেছে।
সোমবার, ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসিস এক্স-এ লিখেছেন, তার সংস্থা সেনাবাহিনীর কাছ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি পেয়েছে। সেখানে ‘আমাদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে দক্ষিণ গাজার আমাদের চিকিৎসা গুদাম থেকে সরবরাহ সরিয়ে নিতে বলেছে।’
ইসরায়েল সোমবার বলেছে, তারা ফিলিস্তিনি বেসামরিকদের স্থায়ীভাবে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য করতে চাইছে না, বরং এটি আল-মাওয়াসি নামে গাজার একটি ক্ষুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নত করার জন্য দাতা গোষ্ঠীর সমর্থন চাইছে।
ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্র জোনাথন কনরিকাস বলেছেন, ‘আমরা বেসামরিক লোকদের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে যেতে বলেছি এবং আমরা গাজা উপত্যকার অভ্যন্তরে একটি মনোনীত মানবিক অঞ্চল প্রদান করেছি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলের সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, গাজা উপত্যকায় প্রতিটি মৃত হামাস যোদ্ধার জন্য প্রায় দুইজন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে।
একজন কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধের আসন্ন পর্বে, ‘আশা করি এটা (অনুপাত) অনেক কম হবে।’
কর্মকর্তারা বলেছেন, সেই লক্ষে সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকার অভ্যন্তরে জনসংখ্যার গতিবিধি ট্র্যাক করতে এবং সরিয়ে নেওয়ার আদেশ জারি করতে উচ্চ প্রযুক্তির ম্যাপিং সফ্টওয়্যার ব্যবহার করছে।
এই সিস্টেমটি মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য সংকেত, আকাশ থেকে নজরদারি এবং স্থানীয় উৎস থেকে শব্দ, সেই সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সমগ্র অঞ্চল জুড়ে জনসংখ্যার ঘনত্ব দেখানো একটি ক্রমাগত আপডেট হওয়া মানচিত্র বজায় রাখার জন্য অন্তর্ভুক্ত করেছে।
কিন্তু জাতিসংঘের মানবিক কার্যালয় ওসিএইচএ এমন একটি এলাকায় যেখানে টেলিকমিউনিকেশন এবং বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন সেখানে এই ধরনের একটি টুলের উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ফিলিস্তিনি টেলিকমিউনিকেশন ফার্ম প্যাল্টেল জানিয়েছে, সোমবার, ‘ইসরায়েলি দিক থেকে প্রধান ফাইবার রুট বন্ধ করার কারণে’ গাজা জুড়ে সমস্ত মোবাইল এবং টেলিফোন পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
মঙ্গলবার, গ্লোবাল নেটওয়ার্ক মনিটর নেটব্লকস নিশ্চিত করেছে, গাজার বাসিন্দাদের ‘যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ ক্ষতির’ সম্মুখীন হচ্ছে।
কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি গত শুক্রবার ভেঙ্গে যাওয়ার পর সর্বশেষ এই লড়াইটি শুরু হয়। ফিলিস্তিনি বন্দীদের বিনিময়ে ইসরায়েলি এবং অন্যান্য জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মতে, গাজায় এখনও অন্তত ১৩৭ জন জিম্মি আটক রয়েছে। তবে স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হওয়াা পর্যন্ত হামাস আরও মুক্তির কথা অস্বীকার করেছে।

জাতীয় অধ্যাপক আব্দুল মালিকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
                                  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা, জাতীয় অধ্যাপক ডা. আব্দুল মালিক এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
আজ এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালিক বাংলাদেশের হৃদরোগ চিকিৎসার অন্যতম পথিকৃৎ। মরহুম মালিক একাধারে একজন সফল চিকিৎসক, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও সমাজ সেবক।
মানব হিতৈষী কর্মকান্ডের জন্য তিনি নানাভাবে পুরষ্কৃত এবং প্রশংসিত হয়েছেন।
শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে হৃদরোগ চিকিৎসার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
প্রধানমন্ত্রী ডা.আব্দুল মালিক-এর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শেখ হাসিনার সঙ্গে দুটি ইসলামিক দলের নেতৃবৃন্দের বৈঠক
                                  

 খেলাফত রব্বানী বাংলাদেশ ও নেজামে ইসলামী পার্টির নেতারা আজ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী ও মাওলানা আনোয়ারুল হক নিজ নিজ দলের নেতৃত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি কে এম শাখাওয়াত মুন জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করেন নেতারা। এ সময় শেখ হাসিনা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন এবং নির্বাচনে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করেন। নেতৃবৃন্দ আসন্ন সংসদ নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে শেখ হাসিনার নেওয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়নেরও প্রশংসা করেন তারা।

শ্রম অধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্মারক নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই : মোমেন
                                  

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন আজ বলেছেন, শ্রম অধিকারের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কেননা আমেরিকান ও ইউরোপীয়রা প্রতিযোগিতামূলক দাম এবং গুণমানের কারণেই বাংলাদেশি তৈরি পোশাক কেনে।
তিনি আজ এখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন, ‘এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। আমাদের পণ্যের মান উন্নত ও মূল্য সুলভ এবং তা সময়মতো ডেলিভারি করা হয় বলেই তারা (মার্কিন  যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের পণ্য কেনে।’
গত ১৬ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেমোরেন্ডাম অন অ্যাডভান্সিং ওয়ার্কার এমপাওয়ারমেন্ট, রাইটস, এন্ড হাই লেবার স্ট্যান্ডার্ডস  গ্লোবালি’ 
ওয়াশিংটন বলেছে যে এটি ‘যারা ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ, শ্রম অধিকার রক্ষাকর্তা ও শ্রম সংস্থাকে হুমকি দেয়, ভয় দেখায়, তাদের ওপর আক্রমণ করে, নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্য দ- ও ভিসা বিধিনিষেধের মতো তাদের আয়ত্তাধীন সমস্ত হাতিয়ার ব্যবহার করে তাদের জবাবদিহির সম্মুখীন করতে কাজ করবে।
এরপর ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এক চিঠিতে বলে, স্মারকে শ্রম অধিকার নিয়ে যা বলা হয়েছে তার পেছনে রাজনীতি রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করার চেষ্টা করবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আরএমজি রপ্তানির একটি বড় বাজার। আমাদের বেসরকারি খাত রপ্তানি করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতই বাংলাদেশের পণ্য কিনে থাকে। 
মোমেন আরও করেন, ‘তারা আমাদের পণ্য কিনেন কারণ আমাদের পণ্য উচ্চমানের ও দাম সস্তা এবং তা সময়মতো ডেলিভারি করা হয়।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী সমগ্র শ্রম খাতের উন্নয়নে উদ্যোগ নিলে ঢাকা অবশ্যই স্বাগত জানাবে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দেখতে চায় সব শ্রমিক ভালো জীবনযাপন করছে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে এমন কোনো প্রচেষ্টা বাংলাদেশ দেখতে চায় না।
পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের আজকের বৈঠক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি একটি রুটিন বৈঠক।
মোমেন বলেন, ‘আমরা খুশি যে তিনি (পিটার হাস) ছুটি শেষে ফিরেছেন।’

অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে ইসি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে: সিইসি
                                  

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হয়, সেটি নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের অ্যাম্বাসেডর চার্লস হোয়াইটলিসহ ৭টি দেশের রাষ্ট্রদূত এসেছিলেন। এটাকে আমরা বলি ইইউ ডেলিগেশন। তারা আগেও একাধিকবার এসেছেন। তাদের একটা এক্সপার্ট ইলেকশন পর্যবেক্ষণ টিম আসবেন বলে জানিয়েছেন। এরই মধ্যে চারজন এসেছেন। তারা দীর্ঘসময় আমাদের প্রস্তুতি সম্পর্কে জেনেছেন। আমাদের প্রস্তুতিটা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এটা তারা জানতেন না। তারা আজও এসেছেন, এর মধ্যে আমাদের কী কী অগ্রগতি হয়েছে- সে অগ্রগতিগুলো তাদের জানিয়েছি। আমরা আগের মতোই স্পষ্ট করে জানিয়েছি, নির্বাচন ফ্রি-ফেয়ার, পিসফুল এবং ক্রেডিবল যাতে হয়, সেটি নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
আজ বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কমিশনের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক বৈঠক শেষে সিইসি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদেরকে জানিয়েছি, আমাদের কমিশনাররা বিগত দুই সপ্তাহ ধরে বাইরে বাইরে ঘুরেছেন এবং তারা জনগণ ও প্রশাসনকে বিষয়গুলো অবহিত করেছেন। যাতে করে প্রশাসন স্থানীয়ভাবে তাদের সব শক্তিকে সমন্বিত করে অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনটা নিশ্চিত হয়। তারা আমাদের বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে আমরা সাংবিধানিকভাবে বাধ্য। এটা আমরা খুব স্পষ্ট করে তাদের বুঝিয়েছি। আমার বিশ্বাস, আমাদের যে সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা এটা তারা বুঝতে পেরেছেন।’
কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘ভোট যথাসময়ে হবে, সংবিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা তারা বুঝতে পেরেছেন। কোনো রাজনৈতিক ইস্যুতে যে ইসি হস্তক্ষেপ করতে পারে না, এটা তারা (ইইউ প্রতিনিধিদল) বুঝতে পেরেছেন।’
রাজনৈতিক অঙ্গনে যদি কোনো মতবিরোধ থাকে, বিভেদ-বিভাজন থাকে, সেখানে কোনোভাবেই আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারি না বলেও জানান সিইসি।
বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল ও চার কমিশনার উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের অ্যাম্বাসেডর চার্লস হোয়াইটলির নেতৃত্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেপুটি হেড অব মিশন ব্রেন্ড স্পাইনার, সংস্থাটির পলিটিক্যাল অফিসার সেবাস্তিয়ান রিগার ব্রাউন, সুইডেনের অ্যাম্বাসেডর আলেকজান্ডার বার্গ বন লিন্দে, স্পেনের অ্যাম্বাসেডর ফ্রান্সিসকো ডি আসিস বেনিতেজ সালাস, ইতালির অ্যাম্বাসেডর আন্তোনিও অ্যালেসান্দ্রো, কিংডম অব নেদারল্যান্ডসের অ্যাম্বাসেডর ইরমা ফেন ডুয়েরেন, ডেনমার্কের অ্যাম্বাসেডর ক্রিস্টিয়ান ব্রিক্স মুলার, ফ্রান্সের ডেপুটি হেড অব মিশন গুইলাম অড্রেন ডে কারড্রেল ও জার্মান অ্যাম্বাসির উপ-রাষ্ট্রদূত জ্যান জ্যানোভস্কি।
বৈঠক শেষে ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও তার টিম খোলামেলা আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে জেনেছি। আমরা আশা করি, গণতান্ত্রিক, গ্রহণযোগ্য ও অংগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে। পুরো বিশ্বও এটি দেখতে চায়।’


   Page 1 of 155
     জাতীয়
চলমান প্রকল্প দ্রুত শেষ করে নতুন প্রকল্প নেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
পূর্ব-পশ্চিম সবার সাথে সম্পর্ককে আরো গভীর করে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
.............................................................................................
চলতি বছরের মধ্যেই ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ শেষ হবে : সেতুমন্ত্রী
.............................................................................................
৫ম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শেখ হাসিনা
.............................................................................................
সিইসির জাতির উদ্দেশ্য ভাষণ আজ সন্ধ্যায়
.............................................................................................
বিদ্যুৎ উৎপাদন ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে : শেখ হাসিনা
.............................................................................................
ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে উত্তরণের প্রত্যয়ে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
.............................................................................................
দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কাজ করার আহবান প্রধানমন্ত্রীর
.............................................................................................
বাংলাদেশ থেকে এমবিবিএস পাস করা ফিলিস্তিনি চিকিৎসকবৃন্দ এখন ফিলিস্তিনের হাসপাতালে কাজ করছেন - প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
দুদক কর্মকর্তাদের নৈতিকতা প্রদর্শন করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
.............................................................................................
‘নারীরা স্বাবলম্বী হলে সমাজে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় হয়’
.............................................................................................
ইসরায়েলি সৈন্য গাজায় হামাস যোদ্ধাদের সঙ্গে লড়াই করছে
.............................................................................................
জাতীয় অধ্যাপক আব্দুল মালিকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
.............................................................................................
শেখ হাসিনার সঙ্গে দুটি ইসলামিক দলের নেতৃবৃন্দের বৈঠক
.............................................................................................
শ্রম অধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্মারক নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই : মোমেন
.............................................................................................
অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে ইসি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে: সিইসি
.............................................................................................
মানুষের কল্যাণে ডিএসসিএসসি’র প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির
.............................................................................................
১৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রধানমন্ত্রীর
.............................................................................................
কক্সবাজারের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের রেল সংযোগ স্থাপন করার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর
.............................................................................................
গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবিতে ‘স্ট্যাচু অফ লিবার্টি’ দখল করেছে ইহুদিরা
.............................................................................................
সায়মার মনোনয়ন বাংলাদেশ-চীন স্বাস্থ্য সহযোগিতা বাড়াবে : রাষ্ট্রদূত
.............................................................................................
নারী বিষয়ক সম্মেলনে যোগ দিতে আগামীকাল প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব গমন
.............................................................................................
আগারগাঁও-মতিঝিল অংশের মেট্রোরেল উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
" তারা কোন বাংলাদেশ চান- ধ্বংস স্তুপের না উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ " - জনগনের কাছে প্ৰশ্ন প্রধানমন্ত্রীর
.............................................................................................
আগামীকাল মেট্রোরেলের আগারগাঁও-মতিঝিল অংশ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
গাজার জাবালিয়া শিবিরে চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৯৫ : হামাস
.............................................................................................
হজ প্যাকেজ ঘোষণা ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের
.............................................................................................
সাংবাদিক নির্যাতন ও পুলিশ হত্যার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার আহবান প্রধানমন্ত্রীর
.............................................................................................
ঋণখেলাপিদের হালনাগাদ তথ্য যথাসময়ে দেওয়ার নির্দেশ ইসির
.............................................................................................
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত সায়মা ওয়াজেদ
.............................................................................................
তিন উন্নয়ন প্রকল্পের যৌথ উদ্বোধনকে দু’দেশের বন্ধুত্বের অনন্য নিদর্শন বলে আখ্যায়িত করেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
যথাসময়ে নির্বাচন করতেই হবে, ইসি’র হাতে কোনো অপশন নেই : প্রধান নির্বাচন কমিশনার
.............................................................................................
একনেকে ৫২ হাজার ৬১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৭টি প্রকল্প অনুমোদন
.............................................................................................
ব্রাসেলস সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
এদেশকে আমরা আরো সমৃদ্ধ ও উন্নত করতে চাই - প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ফিলিস্তিনে যুদ্ধ বন্ধ ও সেবাখাত খুলে দেয়ার দাবি উত্থাপন
.............................................................................................
মুক্তিযুদ্ধ ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে শাহজাহান কামাল ও শাহজাহান মিয়া সক্রিয় ছিলেন : প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
‘বাংলাদেশ ও ইইউ তাদের ৫০ বছরের অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার ঘোষণা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।’ -মোমেন
.............................................................................................
সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ আমাদের অভিন্ন শত্রু - ওবায়দুল কাদের
.............................................................................................
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
কাল থেকে শুরু বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা
.............................................................................................
ফিলিস্তিনের ওপর বারবার হামলা আর সহ্য করা যায় না : প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
গাজায় হাসপাতালে হামলার নিন্দা প্রধানমন্ত্রীর
.............................................................................................
ঢাকা দ্ব্যর্থহীনভাবে ইসরাইলের ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক তাদের নিজস্ব মাতৃভূমি থেকে বাস্তুচ্যুত করার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে -পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন
.............................................................................................
‘আমরা কোনো যুদ্ধ চাই না’ - প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
আগামীকাল শহীদ শেখ রাসেলের ৬০তম জন্মদিন
.............................................................................................
মানসম্মত এভিয়েশন সেবার জন্য আইসিএও’র সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
দেশের নদীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে পানির প্রবাহের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
.............................................................................................
২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর গাজা খালি করতে ইসরাইলের আহ্বান
.............................................................................................
আগামী ২৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু টানেল খুলে দেয়ার প্রস্তুতি চলছে
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আবদুল মালেক, সুগ্ম সম্পাদক: মো: জাহাঙ্গীর আলম শাহ। সম্পাদক কর্তৃক ২৪৪ (২য় তলা), ৪নং জাতীয় স্টেডিয়াম, কমলাপুর, ঢাকা-১২১৪
থেকে প্রকাশিত এবং স্যানমিক প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজেস, ৫২/২, টয়েনবি সার্কুলার রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
মোবাইল: ০১৮৪১৭৪৯৮২৪, ০১৮৪১৭৪৯৮২৫ ই-মেইল: ই-মেইল: noboalo24@gmail.com,
bmengineering77@gmail.com, ওয়েবসাইট www.dailynoboalo.com


   All Right Reserved By www.dailynoboalo.com Developed By: Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop    
Dynamic SOlution IT Dynamic POS | Super Shop | Dealer Ship | Show Room Software | Trading Software | Inventory Management Software Computer | Mobile | Electronics Item Software Accounts,HR & Payroll Software Hospital | Clinic Management Software Dynamic Scale BD Digital Truck Scale | Platform Scale | Weighing Bridge Scale Digital Load Cell Digital Indicator Digital Score Board Junction Box | Chequer Plate | Girder Digital Scale | Digital Floor Scale