বাংলার জন্য ক্লিক করুন
   রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর 2020 | ,২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৭
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   কৃষি -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
নতুন সুগন্ধি আমন মন কেড়েছে চাষিদের

মেহেরপুরে চলতি রোপা আমন মৌসুমে ৭০ ও ৭৫ নতুন জাতের সুগন্ধি ধানের আবাদ করে সফল হয়েছে চাষিরা। ভালো ফলনের পাশাপাশি ভালো দামের আশা চাষিদের। নতুন জাত হিসেবে চাষিদের মন কেড়েছে এই ধানে। কৃষি বিভাগের কাছে আগামী মৌসুমে এই জাতের ধানবীজের প্রত্যাশা করেছে চাষিরা। মেহেরপুর কৃষি অধিদফতরের হিসাবে জেলায় চলতি আমন মৌসুমে এই ধানের আবাদ হয়েছে  ২৫ হাজার ৭২১ হেক্টর জমিতে। তবে মেহেরপুরে বিভিন্ন জাতের আমন আবাদ হলেও এবার প্রথম নতুন জাত হিসেবে কৃষি বিভাগ থেকে ২৫ জন চাষিকে প্রদর্শনী প্লটে আবাদের জন্য বীজ বিতরণ করে। প্রদর্শনী প্লটে এই ধানের আবাদ করে চাষিরা খুব খুশি। যাদবপুর গ্রামের চাষি গাজী কবির আলম বলেন, অন্যান্য ধানের চেয়ে এই জাতের ধানের গোছা ও শিষ হয়েছে খুব ভালো। তাছাড়া এই ধানটা সুগন্ধি যা কাটারীভোগ ধানের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। রাধাকান্তপুর গ্রামের চাষি ওমর ফারুক বলেন, অন্যান্য ধানের পরে এই ধানের চারা রোপণ করে আগে ঘরে তুলবে এবং ২০-২২ মণ ফলন পাবে বলে আশা চাষিদের।

চাষিদের দাবি আগামীতে যেন এই বীজটা কৃষকদের মাঝে পর্যাপ্ত দেওয়া হয়।  তাহলে কৃষকরা লাভবান হবে। চাঁদবিল গ্রামের চাষি এনামূল মিয়া বলেন, অন্য জাতের সঙ্গে ৭৫ ধানটা সুগন্ধি এবং ধানটার জীবনকাল খুবই কম। একসঙ্গে ধান লাগিয়ে এখন এই ধান কাটা যাবে। ধান পেকে গেছে। কিন্তু অন্য ধান ঠিকমতো শিস বের হয়নি। এত কম বয়সে আশা করি ওই সব ধান থেকে ফলন বেশি পাব এবং বেশি দামে বিক্রয় করতে পারব। ৭৫ জাতের ধানটা এসেছে এটা একটা ম্যাজিক, সবার শেষে লাগানো হলো। কিন্তু এটা সবার আগে পেকে গেছে বা সবার আগে কাটা হলো। এই ধানটা কাটার পরে আবার আমরা আর একটি আবাদ পাচ্ছি। এই ধানের বীজ যদি আমরা পাই পর্যাপ্ত পরিমাণে তাহলে আমাদের খুব ভালো হবে। এই ধানটা কৃষি বিভাগ থেকে এসেছে। আর এই ধানের ফলন খুব ভালো মনে হচ্ছে। কারণ একজন কেটেছে এই ধান সব ধানের থেকে ৫-৭ মণ বেশি বলে মনে হচ্ছে। আগামী বছর যদি এই ধানের বীজটা পাই তাহলে আমরা লাগাব। মেহেরপুর সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, কৃষি বিভাগও চাচ্ছে এই জাতের ধানের আবাদ জেলায় ছড়িয়ে পড়ুক। এই ধানটা খুবই সুন্দর জাতে ৭০। খুবই সুন্দর এর শিস। দেখতে খুব ভালো। আমার মনে হয় ২০-২২ মণ হারে ধান হবে। আগামীতে এই বীজ যদি পাই তাহলে আমরা সবাই লাগাব। এবার আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে এই নতুন ধানের বীজ দিয়েছি। তার মধ্যে আছে ৭০ এবং ৭৫ দুটা। তবে ৭১ও দিয়েছি। এটি সুগন্ধি। সবাই এই ধান দেখে অভিভূত। সবাইকে এই ধানের যত্ন নেওয়ার জন্য বলেছি। কৃষকরা দলে দলে দেখতে আসছে। এই ধানটি যদি সবাই লাগাই তবে সুগন্ধি ধানের অভাবটা পূরণ হবে।

নতুন সুগন্ধি আমন মন কেড়েছে চাষিদের
                                  

মেহেরপুরে চলতি রোপা আমন মৌসুমে ৭০ ও ৭৫ নতুন জাতের সুগন্ধি ধানের আবাদ করে সফল হয়েছে চাষিরা। ভালো ফলনের পাশাপাশি ভালো দামের আশা চাষিদের। নতুন জাত হিসেবে চাষিদের মন কেড়েছে এই ধানে। কৃষি বিভাগের কাছে আগামী মৌসুমে এই জাতের ধানবীজের প্রত্যাশা করেছে চাষিরা। মেহেরপুর কৃষি অধিদফতরের হিসাবে জেলায় চলতি আমন মৌসুমে এই ধানের আবাদ হয়েছে  ২৫ হাজার ৭২১ হেক্টর জমিতে। তবে মেহেরপুরে বিভিন্ন জাতের আমন আবাদ হলেও এবার প্রথম নতুন জাত হিসেবে কৃষি বিভাগ থেকে ২৫ জন চাষিকে প্রদর্শনী প্লটে আবাদের জন্য বীজ বিতরণ করে। প্রদর্শনী প্লটে এই ধানের আবাদ করে চাষিরা খুব খুশি। যাদবপুর গ্রামের চাষি গাজী কবির আলম বলেন, অন্যান্য ধানের চেয়ে এই জাতের ধানের গোছা ও শিষ হয়েছে খুব ভালো। তাছাড়া এই ধানটা সুগন্ধি যা কাটারীভোগ ধানের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। রাধাকান্তপুর গ্রামের চাষি ওমর ফারুক বলেন, অন্যান্য ধানের পরে এই ধানের চারা রোপণ করে আগে ঘরে তুলবে এবং ২০-২২ মণ ফলন পাবে বলে আশা চাষিদের।

চাষিদের দাবি আগামীতে যেন এই বীজটা কৃষকদের মাঝে পর্যাপ্ত দেওয়া হয়।  তাহলে কৃষকরা লাভবান হবে। চাঁদবিল গ্রামের চাষি এনামূল মিয়া বলেন, অন্য জাতের সঙ্গে ৭৫ ধানটা সুগন্ধি এবং ধানটার জীবনকাল খুবই কম। একসঙ্গে ধান লাগিয়ে এখন এই ধান কাটা যাবে। ধান পেকে গেছে। কিন্তু অন্য ধান ঠিকমতো শিস বের হয়নি। এত কম বয়সে আশা করি ওই সব ধান থেকে ফলন বেশি পাব এবং বেশি দামে বিক্রয় করতে পারব। ৭৫ জাতের ধানটা এসেছে এটা একটা ম্যাজিক, সবার শেষে লাগানো হলো। কিন্তু এটা সবার আগে পেকে গেছে বা সবার আগে কাটা হলো। এই ধানটা কাটার পরে আবার আমরা আর একটি আবাদ পাচ্ছি। এই ধানের বীজ যদি আমরা পাই পর্যাপ্ত পরিমাণে তাহলে আমাদের খুব ভালো হবে। এই ধানটা কৃষি বিভাগ থেকে এসেছে। আর এই ধানের ফলন খুব ভালো মনে হচ্ছে। কারণ একজন কেটেছে এই ধান সব ধানের থেকে ৫-৭ মণ বেশি বলে মনে হচ্ছে। আগামী বছর যদি এই ধানের বীজটা পাই তাহলে আমরা লাগাব। মেহেরপুর সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, কৃষি বিভাগও চাচ্ছে এই জাতের ধানের আবাদ জেলায় ছড়িয়ে পড়ুক। এই ধানটা খুবই সুন্দর জাতে ৭০। খুবই সুন্দর এর শিস। দেখতে খুব ভালো। আমার মনে হয় ২০-২২ মণ হারে ধান হবে। আগামীতে এই বীজ যদি পাই তাহলে আমরা সবাই লাগাব। এবার আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে এই নতুন ধানের বীজ দিয়েছি। তার মধ্যে আছে ৭০ এবং ৭৫ দুটা। তবে ৭১ও দিয়েছি। এটি সুগন্ধি। সবাই এই ধান দেখে অভিভূত। সবাইকে এই ধানের যত্ন নেওয়ার জন্য বলেছি। কৃষকরা দলে দলে দেখতে আসছে। এই ধানটি যদি সবাই লাগাই তবে সুগন্ধি ধানের অভাবটা পূরণ হবে।

সাতক্ষীরায় মৎস্য ঘেরে মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষে বিপ্লব ঘটেছে
                                  

সাতক্ষীরায় মৎস্য ঘেরে মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষে বিপ্লব ঘটেছে। এ পদ্ধতিতে লাউ, কুমড়া ও করলার বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে কৃষকের আয় যেমন কয়েক গুণ বেড়েছে তেমনি দেশে সবজির চাহিদা মেটাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারছে।
সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের মিঠাবাড়ি বিলে গিয়ে দেখা গেছে, শত শত বিঘা জমির মৎস্য ঘেরে মাচা পদ্ধতিতে লাউ, কুমড়া ও করলার চাষাবাদ করা হয়েছে। মাচায় ঝুলছে লাখ লাখ করলা, হাজার হাজার লাউ ও কুমড়া। একই সাথে ঘেরের বেড়িতে লাগানো হয়েছে পুঁইশাক ও ঢেড়স।
তালা উপজেলার মিঠাবাড়ির কৃষক মমিনুর রহমান জানান, তিনি তার ৬ বিঘা জমির ঘেরে মাচা পদ্ধতিতে লাউ, কুমড়া ও করলার চাষাবাদ করেছেন। মাঘ মাস পর্যন্ত এভাবেই মাছের পাশাপাশি সবজি উৎপাদন চলবে। তারপর পানি শুকিয়ে গেলে রোপণ করা হবে ধান। তার ৬ বিঘা ঘেরে নেট, বাঁশ ও কট সুতা দিয়ে মাচা তৈরিতে আট হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু বাম্পার ফলনে ইতোমধ্যে লাখ টাকা ছাড়িয়েছে আয়। আরও আয় হবে।
১০ বছর যাবৎ মাচা পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনকারী মমিনুর রহমান আরও বলেন, মাচা তৈরির খরচ প্রতিবছর হয় না। দুই-তিন বছর পরপর মাচা তৈরি করতে হয়। শুধু মমিনুর রহমানের ঘের নয়, পার্শ্ববর্তী কৃষক বাক্কার সরদার, আজিবার মোড়ল, জাহিদ হোসেনের ঘেরসহ যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। প্র্রত্যেকের ঘেরের মাচায় ঝুলছে করলা, লাউ ও কুমড়া। এ যেন সাফল্যের ফসল। শুধু তালা উপজেলা নয়, জেলার কালিগঞ্জ, কলারোয়া, দেবহাটা ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলায়ও ঘেরে মাচা পদ্ধতিতে চাষাবাদ কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি করেছে।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী আব্দুল মান্নান জানান, সাতক্ষীরায় যে পরিমাণ সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে তার ৩০ শতাংশ উৎপাদিত হয় মৎস্য ঘেরের আইলে অথবা মৎস্য ঘেরে মাচা পদ্ধতিতে। যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হয়। মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষ লাভজনক হওয়ায় জেলায় এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ দিন দিন বাড়ছে।

তরমুজ ফুলের মৌ
                                  

মৌমাছি প্রকৃতির পরিবেশের নানা ফুলের থেকে মধু আহরণ করে গাছের ডালে মৌচাকে জমা করে সে মধু। বাংলাদেশের সুন্দরবন দেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক মধু সংগ্রহের শীর্ষে।

তবে এই প্রাকৃতিক পদ্ধতির বাইরে দেশে কৃত্রিমভাবে মধুচাষ ব্যাপক প্রসার পাচ্ছে। এসব চাষিরা দল বেধে বিভিন্ন ফলের বা ফসলের মৌসুমে সেসব ফুলের মধু সংগ্রহের জন্য ছুটে যায় ক্ষেত বা বাগানের কাছে।

এরকমই দাকোপের বাজুয়া ইউনিয়নের কচা গ্রামে পালন করা মৌমাছি তরমুজের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করছে। চারিদিকে মাঠে সবুজে লতানো তরমুজের গাছ। তরমুজ হয়েছে বিভিন্ন সাইজের। গাছের উপরে ফুটে আছে লক্ষ লক্ষ ফুল। রাস্তার পাশে একটি ছোট ফাঁকা ভিটেয় অনেকগুলো কাঠের বাক্স। বাক্সের দিকে তাকিয়ে গাড়ি থামাতেই মাথার চারপাশে মৌমাছির গুন-গুনাগুন শব্দ। প্রথমে ভয় পেয়ে স্থান ত্যাগ করার কথা ভাবতেই মৌমাছির চাক হাতে একজন বলে উঠল ভয় নেই এদিকে আসেন। সামনে যত এগুচ্ছি চারিদিকে মৌমাছির সংখ্যা তত বাড়ছে। দেখলাম ২ জন যুবক মৌমাছির পরিচর্যা করছেন।

একজনের নাম মো. মান্নান অন্যজন আবু হানিফ। মান্নান জানান তাদের বাড়ি বাগেরহাট ষাট গম্বুজ এলাকায়। তরমুজ ফুলের মধু সংগ্রহের জন্য ২ শত বাক্স মৌমাছি নিয়ে এসেছেন। ২৪ ঘণ্টা বাক্সের মুখ খোলা থাকে। সারাদিন মধু সংগ্রহ করে রাত্রে মৌমাছি বাক্সে চলে আসে। কোনো স্থানে যাওয়ার সময় বাক্সের মুখ আটকে নেওয়া হয়। প্রতি বাক্সে একটি করে রানী মৌমাছি এবং হাজার হাজার শ্রমিক মৌমাছি থাকে। রানী মৌমাছির আকার সবার থেকে বড় তাই বাক্সটি এমনভাবে তৈরি করা হয় অন্য মৌমাছি বাক্সে যেতে আসতে পারবে কিন্তু রানী মৌমাছি বের হতে পারবে না। সব মৌমাছি রানী মৌমাছিকে অনুসরণ করে তাই সময়মত সব মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে বাক্সে চলে আসে।

মান্নান বলেন, ১৫ দিন অন্তর চাক থেকে মধু সংগ্রহ করা হয় এবং প্রতি বাক্স থেকে ২ থেকে ৩ কেজি মধু সংগ্রহ করা যায়। হানিফ বলেন, বাগেরহাট বিসিক থেকে প্রপাইটর ফয়সাল মোল্ল্যা মৌমাছি পালনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তার থেকেই আমরা শিখেছি। তিনি জানান বর্তমানে প্রতি কেজি মধু ৩ শত টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তাঁরা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করে থাকেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মান্নান বলেন, এখানে তারা ৩ জন দুই মাস থাকবেন তরমুজের মধু সংগ্রহের জন্য। থাকাকালীন সময়ে তাঁদের ব্যয় হবে প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা। মধু সংগ্রহ করতে পারবেন প্রায় দেড় লাখ টাকার। তাঁরা বলেন, মৌমাছি পালন একটি লাভজনক প্রকল্প। যে কেউ প্রশিক্ষণ নিয়ে এটা করতে পারেন এবং লাভবান হতে পারেন।

৩৪ টাকায় চাল, ২৪ টাকায় ধান কিনবে সরকার
                                  

চলতি বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ১৫ লাখ মেট্রিক টন ধান ও চাল কিনবে সরকার। সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি চালের ৩৪ টাকা ও ধানের ২৪ টাকা। এ ছাড়া ২৮ টাকা কেজি দরে গম কিনবে সরকার। কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি এই ধান, চাল ও গম কেনা হবে।

আজ রোববার সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।

বৈঠক শেষে খাদ্যমন্ত্রী জানান, এবার মোট সংগ্রহের মধ্যে ৭ লাখ টন থাকছে ধান, যা কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি কেনা হবে। এবং ৮ লাখ টন বোরো চাল কেনা হবে। আগামী ২ মে থেকে শুরু হয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান চলবে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘৮ লাখ টন বোরোর মধ্যে এক লাখ টন আতপ চাল। আতপ চালের প্রতি কেজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ টাকা।’

গত বছর বোরোতে ১৩ লাখ টন ধান-চাল সংগ্রহ করে সরকার। এরমধ্যে ৭ লাখ টন ধান ও ৬ লাখ টন চাল সংগ্রহ করা হয়। সংগ্রহ মূল্য ছিল প্রতি কেজি চালের ৩২ টাকা ও ধানের ২৩ টাকা।

এছাড়া এক লাখ টন গম সংগ্রহ করা হবে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি কেজি গমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ টাকা। আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত গম সংগ্রহ করা হবে।’

খাদ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বরেন্দ্র অঞ্চলে মাল্টা চাষে সফলতা
                                  

মাল্টা অন্যতম জনপ্রিয় ফল। সারাবিশ্বে উৎপাদিত সাইট্রাস ফসলের দুই তৃতীয়াংশ হলো মাল্টা। ভিয়েতনাম, উত্তর পশ্চিম ভারত ও দক্ষিণ চীন মাল্টার আদি উৎপত্তি স্থল। বাজারে বিদেশ থেকে আমদানি করা সবুজ ও কমলা রঙের মাল্টা বিক্রি হয়।

তবে বাংলাদেশেই এখন মাল্টার চাষ হচ্ছে। কমলার তুলনায় এর অভিযোজন ক্ষমতা বেশি হওয়ায়, পাহাড়ি এলাকা ছাড়াও দেশের অন্যান্য এলাকায় সহজেই চাষ করা যায়। গ্রীষ্ম ও শীতকাল কম বৃষ্টি হলে মাল্টা চাষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী। বায়ুম-লের আদ্রতা ও বেশি বৃষ্টিপাত মাল্টা ফলের গুণাগুণকে প্রভাবিত করে।

বাতাসে অধিক আদ্রতা ও বৃষ্টিপ্রবণ এলাকায় মাল্টার খোসা পাতলা হয় এবং ফল বেশি রসালো ও নিম্ন মানের হয়। শুষ্ক আবহাওয়ায় ফলের মান ও স্বাদ উন্নতমানের হয়। আদ্র জলবায়ুতে রোগ ও ক্ষতিকর পাকার আক্রমণ বেশি হয়। মাল্টা গাছ আলো পছন্দ করে এবং ছায়ায় বৃদ্ধি ও ফলের গুণগত মান কমে যায়।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ‘বারী মাল্টা- ১’ নামে ২০০৩ সালে মাল্টার একটি উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে। এটির পাকা ফল দেখতে সবুজ ও খেতে সুস্বাদু। ফল গোলাকার ও মাঝারি (১৫০ গ্রাম) আকৃতির। পাকা ফলের রং সবুজ। ফলের খোসা মধ্যম পুরু ও শাসের সঙ্গে যুক্ত। শাস হলুদ, রসালো, খেতে মিষ্টি ও সুস্বাদু। গাছ প্রতি ৩০০-৪০০ ফল ধরে। হেক্টর প্রতি ফলন ২০ টন।

দেশের সব অঞ্চলে চাষের উপযোগী। চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলে মাল্টা চাষে সফলতা পেয়েছেন চাষিরা। উৎপাদন খরচ কম এবং ফলটির স্বাদ ও ঘ্রাণ অতুলনীয় হওয়ায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে চাষের সম্ভাবনা। এরই মধ্যে মাল্টা চাষ করে লাভবান হয়েছেন চাষিরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখানে উৎপাদিত মাল্টার স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বিদেশ থেকে আমদানিকৃত মাল্টার চেয়ে অনেক বেশি। আর আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণ অনুকূলে থাকায় মাল্টা চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের জামতলা এলাকায়, সর্বপ্রথম ২০১৩ সালে দুই বিঘা জমিতে তিন বছর বয়সী বারি-১ জাতের এই মাল্টা বাগানের মালিক মতিউর রহমান। ছোট বেলা থেকেই তার ছিল কৃষির প্রতি দুর্বলতা। অন্যের জমি লিজ নিয়ে তাই গড়ে তোলেন এই মাল্টা বাগান।

প্রথম দিকে ব্যর্থ হলেও সঠিক পরিচর্যা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের পর আসে কাক্সিক্ষত ফল। আর সবুজ সেই মাল্টায় জীবনে নতুন করে আলোর দিশা দেখতে পান মতিউর রহমান। আর ছোট ছোট গাছে ঝুলছে থোকা থোকা মাল্টা। গাঢ় সবুজ রঙের মাল্টাগুলোয় এসেছে হলুদাভাব। আর বাগানে ঢুকতেই মাল্টার শোভা দেখে মন ভরে যায়। কেবল শোভা নয় এই বাগানের মাল্টা স্বাদেও বেশ মিষ্টি।

মাল্টা চাষি মতিউর রহমান জানান, তার এই সফলতা দেখে এখন অনেকেই শুরু করেছেন মাল্টার চাষ। চলতি বছর জেলায় ১৫০ বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ হয়েছে। পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানও। ব্যক্তি পর্যায়ে বৃক্ষরোপণে অবদান রাখায় এ বছর পান প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার পান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যান প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. জহুরুল ইসলাম জানান, শীতকালে লেবু জাতীয় দেশি ফল থাকে না বললেই চলে। সেক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনাময় বারি মাল্টা-১ লেবু জাতীয় ফলের উৎপাদনের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

বিশ্বের প্রায় ৯০ ভাগ জ্যাম জেলি ও কমলার জুস মাল্টা থেকে আসে; তাই এই ফলের চাহিদা অপরিসীম উল্লেখ করে জহুরুল ইসলাম বলেন, দেশে অধিক হারে মাল্টা চাষের সম্প্রসারণ করা গেলে বিদেশ থেকে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক অর্থের সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে অনেকের কর্মসংস্থানও হবে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক ড. মো. সাইফুর রহমান জানান, মাল্টা আমদানি নির্ভর একটি ফল। দেশে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টার চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কমবে এ ফলের আমদানি, তেমনি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রফতানি কওে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।

শস্যের বহুমুখীকরণে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে এক সঙ্গে কাজ করার আহ্বান : মতিয়া চৌধুরী
                                  

কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী শস্যের বহুমুখীকরণের জন্য এক সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এবং অন্যান্য স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের কৃষি বিজ্ঞানীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রাইস রিচার্চ ইনিস্টিটিউট (বিআরআরআই) এবং ইন্টারন্যাশনাল রাইস রিচার্চ ইনিস্টিটিউট (আইআরআরআই) অধিক পানি ও খরা সহিষ্ণ শস্য বহুমুখীকরণে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি আজ রাজধানীর বিএডিসি ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন। বিএডিসির ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
কৃষিমন্ত্রী খাদ্য শস্য উৎপাদনে কৃষকদের সহায়তায় বিএডিসির ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রণীত নীতির আলোকে বিএডিসিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বিএডিসিকে আরো শক্তিশালী করবে,যাতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উল্লেখ যোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন এবং কৃষি সচিব মইনউদ্দিন আব্দুল্লাহ বক্তব্য রাখেন।

বর্তমান সরকার ৪২৫ কোটি টাকার ঋণের সুদ মওকুফ করেছে
                                  

 বর্তমান সমবায় বান্ধব সরকার ১৩৫ কোটি টাকার কৃষি ঋণের সুদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সমবায়ীদের ৪২৫ কোটি টাকা সুদ মওকুফ করায় প্রায় ৫ লাখ সমবায়ী উপকৃত হয়েছেন।
আজ রাজধানীর দিলকুশা সমবায় ফেডারেশন ভবনে বাংলাদেশ জাতীয় পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনা পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
ফেডারেশনের সভাপতি মোঃ ইসরাফিল আলম এমপির সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে এলজিআরডি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মোঃ মসিউর রহমান রাঙ্গা অংশ নেন। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন বিআরডিবি’র মহাপরিচালক মোঃ আবদুল কাইয়ুম ও ফেডারেশনের সহ-সভাপতি খন্দকার বিপ্লব মাহমুদ উজ্জল।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি গতিশীল ও দেড়কোটি কৃষক সমবায়ীদের জীবন মানোন্নয়নে আবর্তক ঋণ খাতে ৩শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি বলেন ৪৭৭টি উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির (ইউসিসিএ) মিলনায়তনগুলো আধুনিকায়ন করে গ্রামীণ সমবায়ীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ হতে ইতোমধ্যে ইউসিসিএ’র কর্মচারীদের বেতন ভাতার শতকরা ৭০ ভাগ প্রদানের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দরিদ্র, ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মাঝারি শ্রেণির কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে সমবায় খাতকে বিকশিত করেন। তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দারিদ্র্য শূন্য ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন।
তিনি বাংলাদেশ জাতীয় পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশনের ১০ দফা দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

নরসিংদীতে অমৃতসাগর কলা চাষের ওপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত
                                  

জেলায় অধিক পুষ্টি ও সুগন্ধি অমৃতসাগর কলা চাষের ওপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর এলাকার সুলতানপুর গ্রামে এই মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের (ডিএই) সহযোগিতায় ‘পূর্বাঞ্চলীয় সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় উপজেলা কৃষি কার্যালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ডিএই নরসিংদীর উপ-পরিচালক লতাফাত হোসেনের সভাপতিত্বে ঢাকার খামারবাড়ির অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল আজিজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ডিএই’র জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোহিথ কুমার দে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ ও কৃষক নজরুল হোসেন বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বেশি করে অমৃতসাগর কলার চাষ করার জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করেন।
তিনি বলেন, দেশে ও বিদেশে এই জাতের কলার চাহিদা রয়েছে।
অতিরিক্ত পরিচালক জানান, পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর এলাকায় অমৃতসাগর কলা চাষকে জনপ্রিয় করার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে পেঁপে, থাই পেয়ারা ও তেজপাতা মিশ্র বাগান করে সফল হয়েছেন শরবত আলী
                                  

জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলায় কৃষি ফসলের পাশাপাশি পেঁপে, থাই পেয়ারা ও তেজপাতা চাষ করে সফল হয়েছেন শরবত আলী (৩৫)। এসব চাষ করে তিনি জেলায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
এছাড়াও তিনিই জেলায় প্রথম বাণিজ্যিকভাবে নিজের জমিতে মিশ্র ফল বাগানে পেঁপে, থাই পেয়ারা চাষে এক সফল চাষী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি ৫ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন। আর কয়েকদিনের মধ্যে ২ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করতে পারবেন।
কৃষক শরবত আলী জানান, দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিনি পেঁপে, থাই পেয়ারা ও তেজপাতার মিশ্র বাগান করেন ২৫ বিঘা জমিতে এবং একক ফসলের বাগান হিসেবে ২২ বিঘায় থাই পেয়ারা ও তেজপাতার চাষ করেন। ৭ হাজার রেডলেডি জাতের পেঁপে, ৭ হাজার থাই পেয়ারা ও ৫ হাজার তেজপাতার চারা রোপণ করেন তিনি এ বছরের প্রথম দিকে। এসব চারা রোপণ, জৈবসার, জমি প্রস্তুত ইত্যাদি খাতে তার খরচ হয়েছে ৩ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে তিনি ৫ লাখ টাকার শুধু পেঁপে বিক্রি করেছেন।
এখন তার বাগানে অসংখ্য পেঁপে রয়েছে। প্রতিটি গাছে ২০/২৫ টি পেঁপে শোভা পাচ্ছে। একেকটি পেঁপের ওজন ২ থেকে আড়াই কেজি। প্রথমবারের মতো পেঁপে চাষ করে সফলতা পাওয়ায় কৃষক শরবত ভারী খুশি। তার এই সফলতা দেখে গ্রামের অন্য কৃষকরাও পেঁপে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
কৃষক শরবত আলী আরো জানান, তিনি এ বাগান থেকে পেঁপে বিক্রি করে ১০ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন। থাই পেয়ারাও বাজারজাত করতে পারবেন মাস দুয়েকের মধ্যে ।
দেবীগঞ্জ কৃষি অফিস জানান, পেঁপে একটি লাভজনক ফসল। এটির চারা রোপণের মাত্র ৩ মাসের মধ্যেই ফল ধরে। ১৫/২০ দিন পর পর পেঁপে বিক্রি করা যায়। পেঁপে চাষ করে কৃষকরা বেশি লাভবান হতে পারেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল-আল-মামুন জানান, গজপুরী গ্রামের শরবত আলী কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে মিশ্র বাগান করেছেন। পেঁপে, থাই পেয়ারা ও তেজপাতার চাহিদা বাজারে সব সময় বেশি থাকে এবং মূল্যও পাওয়া যায় ভালো। তার দেখাদেখি ওই এলাকার আরও অনেক চাষী আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে এগিয়ে এসেছেন। তিনি জমিতে ফসল ফলিয়ে নিজের ভাগ্য বদলানোর পাশাপাশি এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছেন। তাই কৃষকদের কাছে শরবত আলী একজন সফল চাষীর মডেল।

ধানক্ষেতে আম বাগান তৈরী হিড়িক
                                  

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা জুড়ে ধানক্ষেতে আম বাগান তৈরীর প্রতিযোগিতা চলছে। রোদের তাপদাহ আর বৃষ্টির প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে ধান, বেগুন, কপি, করলাসহ নানা জাতীয় ফসল আবাদ করে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষক ধানক্ষেতে আম বাগান তৈরীর উদ্যোগ নিয়েছে। উত্পাদিত ধান ও রবি শস্যের ন্যায্য মূল্য না পেলেও আম চাষ করে লাভজনক হবে বলে তারা ধারণা করছেন।কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এই উপজেলায় ধানের যে আবাদ হয় তা কাহারোলের চাহিদা পূরণ করে বাইরের জেলা গুলোতে পাঠানো হয়। তবে ফসলি জমিতে এভাবে ফলজ গাছ লাগাতে থাকলে ভবিষ্যতে ধান উত্পাদনের কোনো আশা করা যায় না। কান্তনগর গ্রামের ধান চাষী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ১ একর জমিতে এবার আম্রপালী গাছ লাগিয়েছেন।তিনি বলেন, ধান চাষ করে লাভের মুখ দেখতে না পেয়ে উর্পযোপুরী লোকসানে হিসাব গুণতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। সরকার ন্যায্য মূল্য ধান কেনার ঘোষণা দিলেও আমরা সেখানে ধান বিক্রির কোন সুযোগ পাই না। ধানের ন্যায্য মূল্যের সব টাকা চলে যায় কিছু জনপ্রতিনিধি ব্যক্তি সহ সুবিধাভোগীদের পকেটে, তাই লোকসানের বোঝা না বাড়িয়ে ধানের জমিতে লাভজনক আম বাগান তৈরী করেছি। উপজেলা প্রত্যান্ত এলাকা জুড়ে একই দৃশ্য দেখা যায়। ধানক্ষেতে আম বাগান করা চাষীরা বলেন, বর্তমানে ধান ও রবি শস্য আবাদ করে শুধু লোকসানের বোঝা টানতে হচ্ছে, আমরা ক্ষতির স্বীকার হতে চাই না। আমের চাষ বেশ লাভজনক। তাই আমরা আমবাগান করার উদ্যোগ নিয়েছি। অনেক চাষী বলেন অল্প জমিতে আগামীবার শুধু বাড়ির চালের জন্য কিছু জমি ধান চাষ করব। উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ আশঙ্খা করছেন। ধানী জমিতে এভাবে আমবাগান তৈরী হয়ে থাকলে আবাদী জমি কমে গিয়ে ধান, ভুট্টা, গম, আলু, বেগুন সহ নানা জাতীয় ফসলের উত্পাদন কমে যাবে। এতে করে উপজেলায় খাদ্য ঘাটতি দেখা দিলে, অন্য জায়গা হতে বাড়তি দামে ধান কিনতে হবে। তাতে দ্রব্যে মূল্য বৃদ্ধি পাবে। সুধিমোহল মনে করেন, সরকারি সুযোগ সুবিধা সঠিক ভাবে কৃষকদের দোড় গোড়ায় না পৌঁছালে ফসলি জমিতে বাগান করা থেকে কৃষক কে ফেরানো সম্ভব হবে না। বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ শামীম হোসেন বলেন, উপজেলায় প্রায় ৪ শ হেক্টর জমিতে নতুন ভাবে আম বাগান তৈরী করা হচ্ছে ধান ও রবি শস্যের জমি সহ উচু ও অনাবাদী জমি গুলোতে আম বাগান করার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রি-পেইড সেচকার্ড প্রবর্তন, খুশি রাজশাহীর চাষীরা
                                  

রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলের চাষীরা গত কয়েক বছর ধরে সেচে প্রি-পেইড কার্ড ব্যবস্থা গ্রহণ করে খুশি এবং এ পদ্ধতি তাদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ‘স্মার্টকার্ডের মাধ্যমে গভীর নলকূপ ব্যবহার ও বিদ্যুৎ পরিমাপ ব্যবস্থা’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এই কার্ড প্রবর্তন করে।

গত ২০১৪ সালের মার্চ থেকে তিনবছর মেয়াদী প্রকল্পটি ১৯ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ২৫টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

বিএমডিএ এর নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী আবদুর রশিদ বলেন, চাষিদের চাহিদা অনুযায়ী আবাদি জমিতে সেচের পানি সরবরাহে আধুনিক পদ্ধতির আগাম পরিশোধ ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নকালে এবং প্রকল্প শেষে এর মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের শ্রমিক ও চাষিদের অতিরিক্ত কাজের সুযোগ হবে। প্রি-পেইড ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুতের চুরি রোধ ও মিটার জালিয়াতি করা যাবে না। ইতিমধ্যে ৩ হাজার ৯শ গভীর নলকূপে প্রি-পেইড ব্যবস্থা স্থাপিত হয়েছে।

এছাড়া জুন পর্যন্ত চাষিদের মাঝে ৮২ হাজার স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
সেচ ব্যবস্থায় প্রি-পেইড কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে ৩০ শতাংশ সেচ ব্যয় হ্রাস পেয়েছে এবং ভূগর্ভস্ত পানির ৪০ শতাংশ অপব্যবহার হ্রাস পেয়েছে।

প্রি-পেইড কার্ডের মাধ্যমে গভীর নলকূপে সেচের প্রয়োজনীয় পানি পাওয়ায় ফসলের উৎপাদন বেড়েছে, চাষিরা উপকৃত হচ্ছে এবং পরিবেশের উপর প্রভাব সামান্যই পড়ছে।
প্রকৌশলী রশিদ বলেন, আমরা শতভাগ গভীর নলকূপকে প্রি-পেইড কার্ডের আওতায় আনার জন্য কাজ করছি। রাজশাহী বিভাগের বরেন্দ্র অঞ্চলে চারটি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা অন্তর্ভুক্ত।

এ অঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় বছরজুড়ে বৃষ্টিসহিষ্ণু এক ফসলী আমন ধান চাষ করা হয়। কিন্তু এই অঞ্চলে শতাধিক গভীর নলকূপ স্থাপন করার ফলে এ অঞ্চরের ফসল ফলানোর ধরণ সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তিত হয়ে গেছে।

১৪ হাজার ৬শ ৪২টি বৈদ্যুতিক গভীর নলকূপ স্থাপন করায় দেশের উত্তরাঞ্চলে ৭ লাখ ৯২ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে ২ লাখ ৯৭ হাজার ইরি-বোরো জমি সেচের আওতায় এসেছে।
সেচের মাধ্যমে বরেন্দ্র অঞ্চলের ফসল ফলনের সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে ৩৪ লাখ ৩২ হাজারের মধ্যে ২৬ লাখ ৭৬ হাজার টন অতিরিক্ত ফলন পাওয়া যাচ্ছে।

প্রকৌশলী রশিদ জানান, এ অঞ্চলে ফসল ফলানোর ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি খাল ও পুকুর খনন করে পানি সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি জানান, বার্ষিক শষ্যের ফলন ৭ লাখ ৫৬ হাজার থেকে ৩৪ লাখ ৩২ হাজার থেকে বৃদ্ধি পেছে এবং শষ্যের ফলন ১১৭ শতাংশ থেকে ২২৬ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে। আর বৃষ্টিপাত ৫৪ দশমিক ৯৯ ইঞ্চি থেকে বেড়ে ৬৪ ইঞ্চিতে উন্নীত হয়েছে।

চলনবিলে হাঁসের খামার
                                  

নোবো আলো:দেশের সর্ববৃহৎ বিল চলনবিলের অধীন নাটোরের সিংড়ায় বদলে গেছে সাধারণ মানুষের জীবনধারা। এ অঞ্চলের মানুষ বছরে চার মাস কাজ আর একটিমাত্র ফসলের ওপর নির্ভরশীল। তাই তাদের সংসার চালানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়তো।

একসময় পরিবারের মাংস ও ডিমের চাহিদা মেটানোর জন্য ঘরেই নারীদের হাঁস পালন করতে দেখা যেত। বিলে উচ্ছিষ্ট বোরো ধান ও শামুক হাঁসের প্রধান খাদ্য। বিল অঞ্চল হিসেবে বিলে উচ্ছিষ্ট বোরো ধান ও শামুক খাওয়ার কারণে হাঁসগুলোকে আলাদা করে খাদ্য দিতে হয় না।

প্রাকৃতিকভাবে খাবার মেটানো যায় বলে খরচ কম হয়। আর অল্প টাকা বিনিয়োগে ব্যবসা সফল হওয়ায় বর্তমানে পুরুষরাই বিকল্প পেশা ও বেকারত্বের সমস্যা দূর করার জন্য কর্মসংস্থান হিসেবে অস্থায়ী খামার গড়ে হাঁস পালনের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। এতে অনেকেই পেয়েছেন সচ্ছলতা। সিংড়া উপজেলায় উৎপাদিত ডিম রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।

ডিমের আড়তদাররা প্রতিদিন এ অঞ্চলের অস্থায়ী খামার থেকে কয়েক হাজার ডিম কেনেন এবং তা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন। এ উপজেলায় ৮০টি হাঁসের খামার রয়েছে। বছরে ডিম উৎপাদন হয় ১ কোটি ১৩ লাখ। সারা বছর রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, তীব্র শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে চলনবিল এলাকায় অস্থায়ী খামারে হাঁস পালন করে এখানকার অর্ধশতাধিক পরিবারে লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া।

চলনবিলে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি হাঁসের খামার। এসব খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে কয়েকশ’ লোকের। বছরের পুরো সময় অস্থায়ী খামার গড়ে হাঁস পালনের জন্য সমিতি থেকে ঋণ নেওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে। শুধু হাঁসের ডিম বিক্রি করেই সংসারের খরচপাতিসহ চলছে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা। অন্যদিকে কমছে ঋণের বোঝাও। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ ধরনের খামার থেকে এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে।

উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার অদূরে প্রায় আড়াই কিলোমিটার কর্দমাক্ত পথ পেরোলে স্থানীয় কলম ইউনিয়নের কালিনগর গ্রাম। এ গ্রামে আলেক হোসেন গত ১৫ বছর ধরে হাঁস পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তার উপার্জনেই সংসার চলে। এটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা।

বর্তমানে তার অস্থায়ী খামারে ৭শ’রও বেশি হাঁস রয়েছে। হাঁসগুলো প্রতিদিন ৩শ’ থেকে ৪শ’টি ডিম দেয়। এসব ডিম তিনি ৯শ’ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

একই ইউনিয়নের নাছিয়ারকান্দি গ্রামের আমজাদ হোসেন প্রায় ৭ বছর ধরে এ পেশায় জড়িত। তার অস্থায়ী খামারে হাঁসের সংখ্যা প্রায় ৬শ’। বলিয়াবাড়ী গ্রামের আ. মালেক সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে হাঁস পালন করছেন। অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা এসব খামারের হাঁস মূলত বিলের শামুক খেয়ে বেঁচে থাকে। এসব হাঁসের রোগ-বালাইয়ে শুধু মাঝে মধ্যে ভ্যাকসিন দিতে হয়।


মুকুলে ছেয়ে গেছে লিচু গাছ
                                  

নব আলো:লিচুর জন্য বিখ্যাত দিনাজপুর। এখানকার লিচু সুস্বাদু ও মিষ্টি। লিচু হলো বিশ্বের সবচেয়ে রোমান্টিক ফল। প্রায় দুই হাজার বছর ধরে ফলটি এ মর্যাদা পেয়ে আসছে। বিশ্বে প্রথম ফল চাষের বই লেখা হয়েছিল ১০৫৬ সালে, সেটিও ছিল লিচুকে নিয়ে। বিশ্বের অনেক রাজা-বাদশাহ রানী-বেগমদের মন জয় করতে যুগে যুগে লিচু ফল উপহার দিয়েছেন।

অষ্টম শতকে চীনা সম্রাট হুয়ান সাংও একই কাজ করে বেগমের মন জয় করেছিলেন, দক্ষিণ চীন থেকে লিচু বয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন সুদূর উত্তর চীনে। মৌসুমের শুরুতেই দিনাজপুরে থোকা থোকা মুকুলে ছেয়ে গেছে লিচু গাছ। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার লিচু গাছগুলোতে অনেক বেশি মুকুল এসেছে। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলনের আশা করছেন লিচু চাষিরা। বাম্পার ফলনের আশা নিয়ে গাছের পরিচর্যা শুরু করেছেন তাঁরা।

দিনাজপুরের লিচু দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে সুস্বাদু ও মিষ্টি, তাই দেশব্যাপী এর চাহিদা বেশি। বিজ্ঞানীরা নানা জাতের লিচু উদ্ভাবন করেছেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বের করেছে লিচুর তিনটি জাত। এ দেশে যেসব জাতের লিচু পাওয়া যায় সেগুলো হলো- বোম্বাই, মাদ্রাজি, চায়না-৩, মঙ্গলবাড়ি, মোজাফ্ফরপুরী, বেদানা লিচু, বারি লিচু-১, বারি লিচু-২, বারি লিচু-৩ ইত্যাদি। বোম্বাই লিচু টকটকে লাল, মাদ্রাজি আগাম জাত, সবচেয়ে ভালো জাত চায়না-৩।

এই জাতের গাছে প্রতি বছরই ভালো ফল ধরে। বেদানা নাবী জাত। বারি লিচু-১ আগাম জাত, বারি লিচু-৩ মাঝ মৌসুমি জাত। কিন্তু বারি লিচু-২ নাবী জাত। লাগানোর জন্য এসব জাত থেকে যে কোনো জাত নির্বাচন করা যেতে পারে। সাধারণত লিচু গাছে তিন থেকে ছয় বছর পর ফল ধরে। তবে ২০-৩০ বছর বয়স পর্যন্ত লিচু গাছে ফলন বাড়তে থাকে। সাধারণত প্রতিটি গাছ থেকে বছরে ৮০-১৫০ কেজি বা ৩২০০-৬০০০টি লিচু পাওয়া যায়। তবে এর তারতম্যও দেখা যায়। দিনাজপুর জেলায় বেদেনা, বোম্বাই ও মাদ্রাজি লিচুর চাষ বেশি হলেও বিচি ছোট ও শাঁস বেশি হওয়ায় বর্তমানে চায়না থ্রি জাতের লিচুর চাষ বাড়ছে।

গোলাপের সুঘ্রাণ বিশিষ্ট অপেক্ষাকৃত বড় আকারের ফল উৎপাদনকারী বারি লিচু-৩। এ জাতটি বসতবাড়ীর বাগানের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ফলের শাঁস মাংসল রসালো ও মিষ্টি। বারি লিচু-৪-এর ফলের বীজ খুব ছোট ও ফল মাংসল। ফল খুব মিষ্টি, রসালো ও সুগন্ধযুক্ত। জাতটি বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য উপযোগী। ফল পাকার সময় বাঁদুর পাকা ফলের ব্যাপক ক্ষতি করে থাকে। এ জন্য জাল দিয়ে পাকা ফল সমেত গাছ ঢেকে দেওয়া হয়। সারা রাত্রি ঢোল বা টিন পিটিয়ে বাঁদুর তাড়ানো হয়।

কোথাও কোথাও দুই সারি গাছের মাঝে বড় বড় খোপযুক্ত নাইলনের জাল টানিয়ে দিয়ে বাঁদুর তাড়ানো হয়। দিনাজপুর জেলা সদরের আউলিয়াপুর, মাসিমপুর পুলহাট, সিকদারগঞ্জ ও মহব্বতপুরে বেদেনা লিচু চাষ হয়। এ এলাকার মাটির কারণে বেদেনা লিচু সুস্বাদু ও উন্নতমানের। এছাড়াও হাইব্রিড জাতের চায়না-টু, চায়না-থ্রি ও চায়না-ফোর জাতের লিচুর চাষ হচ্ছে। লিচু গন্ধ ও স্বাদের জন্য দেশ-বিদেশ বেশ জনপ্রিয়। বাংলাদেশে বৃহত্তর রাজশাহী, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম জেলায় বেশি পরিমাণে লিচু উৎপন্ন হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়। মোট উৎপাদন প্রায় ১৩ হাজার টন।

কিন্তু তা আমাদের চাহিদার মাত্র ১/৪ অংশ পূরণ করে। দিনাজপুর সদর উপজেলার মাসিমপুর এলাকায় এবার গাছে ব্যাপক হারে মুকুল ধরেছে। মুকুল গাছে আসার ১৫ দিন পর থেকেই কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। গাছের গোড়া খনন করে পানি দেওয়া হচ্ছে। ২০০৯ সালে জেলায় লিচু চাষের জমির পরিমাণ ছিল ১৫০০ হেক্টর জমিতে। ২০১০ সালে তা দাঁড়ায় ১৭৮০ হেক্টরে। এরপর ২০১১ সালে ১৯৬৫ হেক্টর, ২০১২ সালে ২৫০০ হেক্টর, ২০১৩ সালে ২৭০০ হেক্টর, ২০১৪ সালে ৩৫০০ হেক্টর, ২০১৫ সালে ৩৮০০ হেক্টরে এসে দাঁড়ায়।

চলতি মৌসুমে লিচু চাষে জমির পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৪১৩৮ হেক্টর। এবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ হাজার ৮২৮ টন লিচু। আর্দ্র আবহাওয়ায় লিচুর বৃদ্ধি ভালো হয়। পানি নিষ্কাশনের সুবিধা থাকলে লিচু গাছ সব ধরনের মাটিতেই জন্মাতে পারে। তবে উর্বর বেলে দোঁআশ মাটি লিচুর জন্য ভালো। বোলতা, বিছে কামড়ালে এর পাতার রস ব্যবহার করা যায়। কাঁশি, পেটব্যথা, টিউমার  বৃদ্ধি দমনে লিচু অত্যন্ত কার্যকর। লিচুতে ভিটামিন-বি, সি, খনিজ লবণ ও ক্যাসিয়াম প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।

   Page 1 of 1
     কৃষি
নতুন সুগন্ধি আমন মন কেড়েছে চাষিদের
.............................................................................................
সাতক্ষীরায় মৎস্য ঘেরে মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষে বিপ্লব ঘটেছে
.............................................................................................
তরমুজ ফুলের মৌ
.............................................................................................
৩৪ টাকায় চাল, ২৪ টাকায় ধান কিনবে সরকার
.............................................................................................
বরেন্দ্র অঞ্চলে মাল্টা চাষে সফলতা
.............................................................................................
শস্যের বহুমুখীকরণে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে এক সঙ্গে কাজ করার আহ্বান : মতিয়া চৌধুরী
.............................................................................................
বর্তমান সরকার ৪২৫ কোটি টাকার ঋণের সুদ মওকুফ করেছে
.............................................................................................
নরসিংদীতে অমৃতসাগর কলা চাষের ওপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে পেঁপে, থাই পেয়ারা ও তেজপাতা মিশ্র বাগান করে সফল হয়েছেন শরবত আলী
.............................................................................................
ধানক্ষেতে আম বাগান তৈরী হিড়িক
.............................................................................................
প্রি-পেইড সেচকার্ড প্রবর্তন, খুশি রাজশাহীর চাষীরা
.............................................................................................
চলনবিলে হাঁসের খামার
.............................................................................................
মুকুলে ছেয়ে গেছে লিচু গাছ
.............................................................................................

সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আবদুল মালেক, যুগ্ন সম্পাদক: নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া । সম্পাদক র্কতৃক ২৪৪ ( প্রথম তলা ) ৪ নং জাতীয় স্টেডিয়াম, কমলাপুর, ঢাকা -১২১৪ থেকে প্রকাশিত এবং স্যানমিক প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজেস, ৫২/২ টয়েনবি র্সাকুলার রোড, ঢাকা -১০০০ থেকে মুদ্রিত । ফোন:- ০২-৭২৭৩৪৯৩, মোবাইল: ০১৭৪১-৭৪৯৮২৪, E-mail: info@dailynoboalo.com, noboalo24@gmail.com Design Developed By : Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD