বাংলার জন্য ক্লিক করুন
   বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর 2020 | ,২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৭
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ইসলাম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
আখেরি মোনাজাত: যান চলাচল বন্ধ থাকছে যেসব সড়কে

গাজীপুর:

 বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে রোববার (১২ জানুয়ারি) ভোর থেকে গাজীপুরে কয়েকটি সড়কে যানচলাচল বন্ধ থাকবে। 

 

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন জানান, বিশ্ব ইজতেমায় ময়দানে কয়েক লাখ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। এদিকে আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে রোববার ভোর থেকে টঙ্গীর তুরাগ তীরে ইজতেমা ময়দানমুখী মুসল্লিদের চাপ বাড়বে। এজন্য আলাদা ট্রাফিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি সড়কে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ভোর ৪টা থেকে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকবে। এদিকে কামারপাড়া সড়ক, টঙ্গী ব্রিজ, কামারপাড়া ব্রিজ, ভোগড়া বাইপাস, মীরেরবাজার এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে ইজতেমা সংলগ্ন এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হবে। আখেরী মোনাজাত শেষে মুসল্লিদের চাপ কমে গেলে বিকেলে যান চলাচল আবার উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। 

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বাদ মাগরিব আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। আমবয়ান শুরু করেন ভারতীয় মওলানা আহম্মেদ ইব্রাহীম দেওলা। এরপর শুক্রবার বাদ ফজর আমবয়ান শুরু করেন পাকিস্তানের মওলানা ওবায়দুল্লাহ খুরশিদ।

রোববার (১২ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার এ পর্ব। এরপর ১৭ থেকে ১৯ জানুয়ারি হবে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা অংশ নেবেন দ্বিতীয় পর্বে।

আখেরি মোনাজাত: যান চলাচল বন্ধ থাকছে যেসব সড়কে
                                  

গাজীপুর:

 বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে রোববার (১২ জানুয়ারি) ভোর থেকে গাজীপুরে কয়েকটি সড়কে যানচলাচল বন্ধ থাকবে। 

 

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন জানান, বিশ্ব ইজতেমায় ময়দানে কয়েক লাখ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। এদিকে আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে রোববার ভোর থেকে টঙ্গীর তুরাগ তীরে ইজতেমা ময়দানমুখী মুসল্লিদের চাপ বাড়বে। এজন্য আলাদা ট্রাফিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি সড়কে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ভোর ৪টা থেকে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকবে। এদিকে কামারপাড়া সড়ক, টঙ্গী ব্রিজ, কামারপাড়া ব্রিজ, ভোগড়া বাইপাস, মীরেরবাজার এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে ইজতেমা সংলগ্ন এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হবে। আখেরী মোনাজাত শেষে মুসল্লিদের চাপ কমে গেলে বিকেলে যান চলাচল আবার উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। 

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বাদ মাগরিব আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। আমবয়ান শুরু করেন ভারতীয় মওলানা আহম্মেদ ইব্রাহীম দেওলা। এরপর শুক্রবার বাদ ফজর আমবয়ান শুরু করেন পাকিস্তানের মওলানা ওবায়দুল্লাহ খুরশিদ।

রোববার (১২ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার এ পর্ব। এরপর ১৭ থেকে ১৯ জানুয়ারি হবে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা অংশ নেবেন দ্বিতীয় পর্বে।

ইজতেমা ময়দানে লাখো মুসল্লির জুমার নামাজ আদায়
                                  

গাজীপুর:

 গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমায় শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) লাখো মুসল্লি একসঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেছেন।

 

এতে দেশের বিভিন্ন এলাকার কয়েক লাখ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। এছাড়া জুমার নামাজে বিদেশি মুসল্লিরাও অংশ নেন। এতে ইমামতি করেন বাংলাদেশের মাওলানা জোবায়ের। 

ইজতেমার মুরুব্বি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মেজবাহ্ উদ্দিন আহম্মেদ বাংলানিউজকে জানান, বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুক্রবার জুমার নামাজে অংশ নিতে ভোর থেকে মুসল্লিদের স্রোতে পরিণত হয় ইজতেমা ময়দান। এতে ইমামতি করেন বাংলাদেশের মাওলানা জোবায়ের। ইজতেমা ও জুমার নামাজে শরিক হতে দেশ-বিদেশের কয়েক লাখ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। সকাল থেকে ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার এবং আশপাশের জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি জুমার নামাজে শরিক হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) ভারতের মাওলানা আহম্মেদ ইব্রাহীম দেওলার আম বয়ানের মধ্য দিয়ে এবার বিশ্ব ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আগামী রোববার (১২ জানুয়ারি) জোহরের আগে ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত শেষ হবে।

আয়োজকরা জানান, এবারের বিশ্ব ইজতেমা ৫৫তম। জুমার নামাজে অংশ নিতে অনেক মুসল্লি টঙ্গী ও আশপাশের এলাকার মসজিদ এবং আত্মীয় স্বজনের বাসায় অবস্থান নেন। ময়দানে জায়গা না হওয়ায় ইজতেমা ময়দানের আশপাশের বিভিন্ন সড়ক, ফুটপাত ও খালি জায়গায় অবস্থান নিয়ে মুসল্লিরা জুমার নামাজ আদায় করেন। এছাড়া অনেকেই বাড়ির ছাদ, নৌকা, গাড়ির ছাদে জুমার নামাজ আদায় করেছেন। এর আগে সকাল থেকে ইজতেমামুখী মানুষের স্রোত নামে টঙ্গীর তুরাগ তীরে। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মুসল্লিরা জুমার নামাজে শরিক হন। 

প্রথম পর্বের পর চারদিন বিরতি দিয়ে আগামী ১৭ জানুয়ারি শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। পরে একইভাবে আগামী ১৯ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা। প্রথম পর্বের ইজতেমা পরিচালনা করছেন জোবায়ের পন্থিরা এবং দ্বিতীয় পর্ব পরিচালনা করবেন সাদ পন্থিরা। বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বেই দেশের ৬৪ জেলার মুসল্লিরা অংশ নিতে পারবেন। 

ধর্ষণের শাস্তি ইসলামে ও অন্যখানে
                                  

ধর্ষণের ব্যাপকতা ও ভয়াবহতার মাত্রা সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। প্রায়ই পত্রিকায় প্রধান শিরোনাম হিসেবে উঠে আসে ধর্ষণের পাশবিক ও নিষ্ঠুর খবর। ধর্ষণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না কোমলমতি শিশুরাও। ধর্ষণের এ ভয়াবহ চিত্র আঁতকে ওঠার মতো। বিচারহীনতা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবে ধর্ষণের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। কাজেই ধর্ষকদের অতি দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ধর্ষণ বন্ধে এর কোনো বিকল্প নেই। আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে থেকে ইসলাম সে কাজটিই করেছে। ধর্ষকদের কোনোভাবেই আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া চলবে না। ক্ষমতাবান বা প্রভাবশালী বলে কোনো ধর্ষক যেন পার পাওয়ার সুযোগ না পায়, তা সুনিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারা ৯-তে বলা হয়েছে : ‘যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ-ে দ-িত হবেন এবং অতিরিক্ত অর্থদ-েও দ-িত হবেন।’ আর ধর্ষণের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো পুরুষ বিবাহবন্ধন ব্যতীত ষোল বৎসরের অধিক বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তাহার সম্মতি আদায় করিয়া, অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সের কোনো নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌনসঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।’ ইসলামের সঙ্গে এ সংজ্ঞার তেমন কোনো বিরোধ না থাকলেও কিছুটা অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। ইসলাম সম্মতি-অসম্মতি উভয় ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের বিবাহবহির্ভূত দৈহিক সম্পর্ককে দ-নীয় অপরাধ সাব্যস্ত করেছে। কিন্তু আমাদের দেশীয় এ আইনে শুধু অসম্মতির ক্ষেত্রে অপরাধ বলা হয়েছে। দেশীয় আইনে ধর্ষণের কারণে মৃত্যু না হলে তার মৃত্যুদ- নেই। শুধু যাবজ্জীবন কারাদ- ও অর্থদ- রয়েছে। পক্ষান্তরে ইসলামে ব্যভিচারের শাস্তি ১০০টি বেত্রাঘাত ও মৃত্যুদ-। আর ধর্ষণের কারণে মৃত্যু হলে, প্রথমে ধর্ষক ব্যভিচারের শাস্তি পেয়ে পরে হত্যার শাস্তি পাবে। 

দরকার ব্যভিচারে ঘৃণাবোধ তৈরি
জেনা-ব্যভিচার, কদর্য ও নিকৃষ্ট অনাচার। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা জেনা-ব্যভিচারের কাছেও যেও না, নিশ্চয়ই এটি অশ্লীল ও মন্দ পথ।’ (সূরা বনি ইসরাইল : ৩২)।  প্রচলিত আইনে ব্যভিচারের প্রতি ঘৃণাবোধ সৃষ্টি করা গেলে ধর্ষণও বন্ধ হবে। ব্যভিচার চালু রেখে ধর্ষণ বন্ধ করা যাবে না। প্রখ্যাত তাফসিরবিদ ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, ‘ব্যভিচার করো না’ এর চেয়ে ‘ব্যভিচারের কাছেও যেও না’ এটি অনেক বেশি কঠোর ও প্রতিরোধমূলক বাক্য। এর অর্থ হলো, যেসব বিষয় ব্যভিচার উসকে দেয় ও ব্যভিচারের দিকে ধাবিত করে সেগুলোও হারাম। ইসলামের নির্দেশনা মতে, কোনো ব্যক্তি শুধু ব্যভিচার থেকে দূরে থেকেই ক্ষান্ত হবে না, বরং এ পথে ধাবিতকারী বিষয় থেকেও দূরে থাকবে। 
ইসলামে ধর্ষিতা দায়মুক্ত
ধর্ষণ ব্যভিচার থেকেও এক ভয়াবহ পাপ। ধর্ষণের ক্ষেত্রে একপক্ষে  জেনা সংঘটিত হয়। আর অন্যপক্ষ হয় মজলুম বা নির্যাতিতা। তাই শুধু জালেম বা ধর্ষকের শাস্তি হবে। রাসুল (সা.) এর যুগে এক মহিলাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) মহিলাকে কোনোরূপ শাস্তি দেননি, তবে ধর্ষককে হদ বা শরিয়ত নির্ধারিত শাস্তি প্রদান করেন।’ (ইবনে মাজাহ : ২৫৯৮)।

ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি 
ধর্ষণের ক্ষেত্রে তিনটি অপরাধ সংঘটিত হয়। এক. ব্যভিচার। দুই. বল প্রয়োগ। তিন. সম্ভ্রম লুণ্ঠন। ইসলামে ব্যভিচারের শাস্তি ব্যক্তিভেদে একটু ভিন্ন। এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, ‘ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে ১০০ করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকরকরণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।’ (সূরা নূর : ২)। হাদিসে এসেছে, ‘অবিবাহিতের ক্ষেত্রে শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য দেশান্তর। আর বিবাহিত পুরুষ-নারীর ক্ষেত্রে ১০০ বেত্রাঘাত ও রজম বা পাথর মেরে মৃত্যুদ-।’ (মুসলিম : ৪৫১১)। এ হাদিস থেকে জানা গেল ব্যভিচারী যদি বিবাহিত হয়, তাহলে তাকে পাথর মেরে মৃত্যুদ- দেওয়া হবে। কিন্তু সে বিবাহিত না হলে তাকে ১০০ বেত্রাঘাতের পাশাপাশি বিচারক চাইলে দেশান্তর করতে পারেন। 
ধর্ষণের অপরাধে ব্যভিচারের শাস্তির পাশাপাশি মুহারাবার শাস্তি প্রয়োগ করা হবে। মুহারাবা হলো পৃথিবীতে গোলযোগ ও অশান্তি সৃষ্টি, ডাকাতি-লুণ্ঠন, নিরাপত্তা বিঘিœতকরণ, ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা ইত্যাদি। এতে শুধু সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া হতে পারে, আবার হত্যা করা হতে পারে। আবার দুটিই হতে পারে। মুহারাবার শাস্তি ঘোষণা করতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে, তাদের হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা তাদের হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কেটে দেওয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হলো তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।’ (সূরা মায়িদা : ৩৩)। এ আয়াত থেকে বিখ্যাত মালেকি ফকিহ ইবনুল আরাবি ধর্ষণের শাস্তিতে মুহারাবার শাস্তি প্রয়োগের মত ব্যক্ত করেছেন। ধর্ষণ একটি পাশবিকতার নামান্তর। তাই ধর্ষণকে ব্যভিচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করে সন্ত্রাস বা বিপর্যয় সৃষ্টিকারী কারণগুলোর সঙ্গে বিবেচনা করার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। ডাকাতি বা ছিনতাই করার সময় যেমন নিরীহ মানুষের সম্পদ লুণ্ঠন করা হয়; তেমনি জোরপূর্বক নারীর সতীত্ব হরণ বা লুণ্ঠন করা হলো ধর্ষণ। সমাজে এখন ধর্ষণ মহামারির আকার ধারণ করেছে। তাই সমাজ থেকে ধর্ষণ সমূলে নির্মূল করার লক্ষ্যে ইসলাম কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি প্রয়োগ করা জরুরি। কারণ ধর্ষণের বিরুদ্ধে আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত শাস্তি। এজন্য যেসব দেশে ব্যভিচারের অপরাধে ইসলামি আইন প্রয়োগ হয় সেখানে ধর্ষণপ্রবণতা অনেক কম। পরিসংখ্যান তাই বলে।

বিভিন্ন দেশে ধর্ষণের শাস্তি
ইরানে ধর্ষণের শাস্তি হয় ফাঁসি, না হয় গুলি করে মারা হয়। আফগানিস্তানে ধর্ষণ করে কেউ ধরা পড়লে সোজা মাথায় গুলি করে মারা হয়। সৌদি আরবেও ধর্ষণের সাজা জনসম্মুখে শিরñেদ করে মৃত্যুদ-। মধ্যপ্রাচ্য ও আরব দুনিয়ায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত পাথর ছুড়ে ও ফাঁসি কার্যকর করে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়। আর তাই এসব দেশে ধর্ষণের সংখ্যা অনেকটাই কম। ধর্ষণ প্রতিরোধে অনেক অমুসলিম দেশেও ইসলামি আইনের মতো কঠোর শাস্তির বিধান চালু করেছে। যেমনÑ চীন ও উত্তর কোরিয়াÑ এ দেশ দুটিতেও ধর্ষণের সাজা এখন মৃত্যুদ-। পোল্যান্ডে হিংস্র বুনো শূয়োরের খাঁচায় ফেলে মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয় এবং আমেরিকা ও ফ্রান্সে ধর্ষিতার বয়স ও ধর্ষণের মাত্রা দেখে ৩০ বছর পর্যন্ত কারাদ-ের শাস্তি দেওয়া হয়।

ইসলামের শাস্তি অমানবিক নয়
ইসলামে ব্যভিচারের শাস্তি বা রজমের বিধানকে অনেকে বাড়াবাড়ি মনে করেন। আসলে ব্যভিচার ও ধর্ষণ ক্যান্সারের মতো একটি সংক্রামক ব্যাধি। কোনো অঙ্গে ক্যান্সার হলে অন্য অঙ্গ সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে সে আক্রান্ত অঙ্গ যেমন অপসারণ করা হয়, ঠিক ব্যভিচারী ও ধর্ষককে কঠিন শাস্তি দিয়ে সমাজ নামক দেহটিকে সুস্থ রাখার জন্য আল্লাহ তায়ালা ব্যভিচারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন। এখানে অপরাধীর প্রতি কোনো দয়া ও অনুকম্পা দেখাতে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ তাতে অনেকের নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ইসলামে প্রতিবন্ধীর সম্মান সমাদর
                                  

আল্লাহ তায়ালা আমাদের অসংখ্য ও অবর্ণনীয় নেয়ামতের মাঝে ডুবিয়ে রেখেছেন। তিনি আমাদের সুস্থ রেখেছেন। অথচ অনেক ভাই আছেন অসুস্থ। অনেকে আছেন, যারা মসজিদে আসতে খুব আকাক্সক্ষী; কিন্তু অসুস্থতা হেতু আসতে পারেন না। এ জন্য আমাদের হৃদয়ে আল্লাহর শুকরিয়া থাকা উচিত। যখন একজন মানুষের সবগুলো অঙ্গ সুস্থ থাকে, আমরা তাকে বলি সুস্থ লোক। পক্ষান্তরে আমরা দেখি আল্লাহর প্রজ্ঞাপূর্ণ সিদ্ধান্তে কিছু মানুষ মায়ের গর্ভ থেকে এমনভাবে দুনিয়ায় আসে হয়তো তাদের দুটি চোখই অন্ধ থাকে, কথা বলার ক্ষমতা থাকে না, হাত-পা নাড়াচাড়া করতে পারে না। মোটকথা কেউ কেউ নানা অসুস্থতা নিয়ে দুনিয়ায় আসেন অথবা দুনিয়ায় সুস্থ অবস্থায় আসার পর অসুস্থ হয়েছেন।  

নোয়াখালীর এক যুবক অফিসে ফোন করে আমার মোবাইল নম্বর নিয়েছেন। যখন তার জীবনে হতাশা নেমে আসে, আমাকে ফেন দেন। তার দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যে পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যাবেন। অথচ একসময় তিনি সুস্থ ছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তিনি ধীরে ধীরে অন্ধত্বের দিকে চলে যাবেন। ছয় মাসের মধ্যে যা দেখার তা যেন দেখে নেন। প্রচ- হতাশায় তার মাঝেমধ্যেই সুইসাইড করতে ইচ্ছে করে। সৌভাগ্যক্রমে যুবক ভাইটি নামাজি। তার ভেতরে ঈমান আছে। 
তিনি আমাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করেন, ‘আমার জন্য কি আত্মহত্যা বৈধ হবে? ডাক্তার বলেছে আমি অন্ধ হয়ে যাব, চাকরি করতে পারব না।’ আমি তাকে বলি, ‘আপনাকে এর মাধ্যমে আল্লাহ পরীক্ষা করছেন। আমি প্রত্যেকবারই একজন ব্যক্তির কথা তাকে বলেছি। তিনি বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। যার সব ধরনের প্রতিবন্ধকতাই ছিল। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। শারীরিক বাধা অতিক্রম করে তিনিই এমনসব গবেষণা উপহার দিয়েছেন, যা অসংখ্য সুস্থ মানুষ পারেনি।’ 
তো এ অসুস্থতাগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে অক্ষম বানান না। তাদের অন্য জায়গায় বিশেষ ক্ষমতা দান করেন। মানুষ যদি এ ক্ষমতা কাজে লাগায়, আল্লাহর ফয়সালায় ধৈর্যধারণ করে, তবে তিনি বাধা জয় করতে পারেন। আর পরকালে তো আল্লাহ তার বিনিময় নির্ধারণ করেছেনই।
আজকাল সমাজে একশ্রেণির অসুস্থকে প্রতিবন্ধী বলা হয়। ‘প্রতিবন্ধী’ একটি নেতিবাচক শব্দ। আধুনিক দুনিয়ায় বলা হয় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন। অর্থাৎ এ লোকটির জন্য বাধা আছে। বস্তুত পৃথিবীর কোনো মানুষের সঙ্গে কোনো মানুষের মিল নেই। আল্লাহ একেজনকে একেকভাবে সৃষ্টি করেছেন। কাউকে ডান হাতে শক্তি বেশি দিয়ছেন, কাউকে বাঁ হাতে। কেউ বাঁ হাতে বোলিং করেন এটা কি তার দোষ? না, এটি আল্লাহর সৃষ্টিবৈচিত্র্য। যাকে আল্লাহ একদিকে কম দেন, অন্য দিকে তা পুষিয়ে দেন। দেখবেন ‘প্রতিবন্ধীরা’ বিশেষ প্রতিভাবান হয়। 
আমি জীবনে প্রথমবার অন্ধ দেখি যখন মাদ্রাসায় পড়তাম। তিনি নিজে নিম গাছে উঠে মিসওয়াকের ডাল পেড়ে আনতেন। আমাদের মাদ্রাসা গেটে বসে মিসওয়াক আর আতর বিক্রি করতেন। এর দ্বারা তার জীবিকা নির্বাহ হতো। তিনি মানুষের কাছে হাত পাততেন না। 
সৌদি আরবের একটি অন্ধ বালকের কথা বলি। যে সাত বা আট বছর বয়সে কোরআনের হাফেজ হয় আর এগারো বছর বয়সে হাদিসের প্রসিদ্ধ ছয় গ্রন্থেরও হাফেজ হয়ে যায়! গত বছর হজের সফরে মসজিদে হারামে আমি তাকে দেখেছি। কী চমৎকার তার চেহারা। তার সঙ্গে মোসাফাহা করেছিলাম। ইউটিউবে তার এক টিভি সাক্ষাৎকার দেখেছি। উপস্থাপক কোরআনের আয়াতের অংশ বললে সে তা বলে দেয়। সূরার নাম, নম্বর ও পৃষ্ঠা ও পৃষ্ঠার লাইনও বলে দেয়! তার ওস্তাদ তাকে হাদিসের এক অংশ থেকে বলেন আর সে বর্ণনাকারীর নাম দেয়!
আমাদের দেশে কোনো অন্ধ হাফেজ হলে আমরা তাকে ভিক্ষুক বানাই। তাকে উপরে ওঠার পথ না দেখিয়ে পরমুখাপেক্ষী বানিয়ে দেই। এখন প্রতিবন্ধীদের নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। ৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস পালন করা হয়। রাষ্ট্র থেকে প্রতিবন্ধীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা হয়। প্রতিবন্ধী বিষয়ে আমাদের কয়েকটি পয়েন্ট আমাদের মনে রাখা উচিত।
যার যে অঙ্গ নেই, তার সে অঙ্গ সম্পর্কে অন্তরে একটা কষ্ট আছে। আপনার আমার ভাবতে হবে, আল্লাহ আমার এই অঙ্গগুলো সুস্থ রেখেছেন। আমি আমার সেই অঙ্গ কোন কাজে লাগাচ্ছি? আল্লাহ আমাদের দৃষ্টিশক্তি দিয়েছেন, আমি সেটা কোথায় কাজে লাগাচ্ছি? আমি আমার দৃষ্টিশক্তি কাজে লাগিয়ে পৃথিবীর সবকিছুই শিখলাম; কিন্তু কোরআনই শিখলাম না। আল্লাহ আমাকে শ্রবণশক্তি দিয়েছেন, আমি কী শুনছি? আমরা একে কাজে লাগাচ্ছি অবৈধ গান, অশ্লীল কথা ও পরনিন্দা শোনায়। সফরে-যানবাহনে একান্ত জিকিরের সময়ও কানে এয়ারফোন লাগিয়ে শুনছি অবৈধ কিছু! 
আল্লাহ আমাদের ইচ্ছে করলে দৃষ্টিহীন, বাকহীন তথা প্রতিবন্ধী বানাতে পারতেন। আমরা কি কখনও এর জন্য শোকর করেছি। আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামত গণনা করো, শেষ করতে পারবে না।’ (সূরা নাহল : ১৮)। তিনি আরও বলেন, ‘নিশ্চয় কান, চোখ ও অন্তঃকরণÑ এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে।’ (সূরা বনি ইসরাইল : ৩৬)। আমরা আমাদের শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিকে ইতিবাচক ও কাম্য কাজে কতটুকু ব্যবহার করছি?
আল্লাহর মনোনীত দ্বীন প্রতিবন্ধীদের হক নিশ্চিত করেছে। তাদের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করতে হবে তা শিক্ষা  দিয়েছে। কোরআন-হাদিসের সাগরে চোখ দিলে আমরা এ সংক্রান্ত অনেক উপাত্ত দেখতে পাই। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ বলেন, ‘আমি যার দুই প্রিয় জিনিস (দুই চোখ) নিয়ে নিয়েছি, তার জন্য জান্নাত রেখে দিয়েছি।’ (বাইহাকি : ৫৩৬৭)। 
আমাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে আল্লাহ আমাদের সুষ্ঠু করলেন ওদের কেন অসুস্থ করলেন? উত্তরে বলা হবে, দুনিয়া হচ্ছে পরীক্ষার জায়গা। আল্লাহ যে ব্যক্তিকে বিশেষ অসুস্থ করেছেন তা তার জন্য পরীক্ষা। তার বাবা-মায়ের জন্যও পরীক্ষা। আমাদের জন্যও পরীক্ষা। আল্লাহ ওই ব্যক্তিকে বিশেষ মর্যাদা দিতে চান। দয়াময় আল্লাহর ভাষ্য।
আমি যার দুই প্রিয়তম অঙ্গ নিয়ে নিয়েছি। তারপর সে এই দৃষ্টিহীনতার ওপর সবর করেছে। আল্লাহর কাছে সওয়াব প্রত্যাশা করেছে। আমি তাকে কোনো সওয়াব দিয়েই তৃপ্ত হতে পারব না। আমি তাকে সরাসরি জান্নাত দেব। যদি কোনো ব্যক্তি অন্ধ হন বা অঙ্গহীন হন আর তিনি ঈমান নিয়ে কবরে যেতে পারেন, আল্লাহর ওপর অসন্তুষ্ট না হন, আল্লাহ তাকে কোনো সওয়াব দিয়েই তৃপ্ত হবেন না। আল্লাহ তাকে জান্নাত দেবেন। এ হাদিসটি শোনার পর কারও আর অসুস্থতার জন্য মন খারাপ থাকতে পারে না। এসব রোগকে আমরা কখনও বিপদ ভাবব না। কেউ শারীরিক প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত হলে এমন বলা বৈধ নয়Ñ সে বা তার বাবা-মা এই দোষ করেছে তাই আল্লাহ এমন করেছেন। যে বাচ্চাটি পাবিহীন অবস্থায় জন্ম নিল, তার কোনো অপরাধ নেই। তেমনি অসুস্থ বাচ্চাকে কষ্ট করে লালন-পালনের বিনিময়ে আল্লাহ তাকে ও তার বাবা-মাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
পৃথিবীতে প্রতিবন্ধীদের কথা আল্লাহর ও রাসুল (সা.) এর মতো করে আর কেউ বলেননি। পবিত্র কোরআনের একটি সূরার নাম সূরা আবাসা। আবাসা অর্থ কপাল ভাজ করা। এ সূরার প্রথম কয়েকটি আয়াত এক অন্ধ সাহাবিকে কেন্দ্র করে নাজিল হয়। নবী (সা.) মক্কার কয়েকজন বড় বড় নেতাকে নিয়ে ইসলাম বিষয়ে কথা বলছিলেন। নবীজি (সা.) চাইছিলেন তাদের অন্তরে ইসলাম নিয়ে যেসব প্রশ্ন ও সংশয় আছে যদি তা দূর করে ওরা মুসলিম হোক। তারা ইসলাম গ্রহণ করলে তাদের দেখাদেখি আরও অনেক লোক ইসলাম কবুল করবে। নবী (সা.) তাদের দিকে অনেক মনোযোগী ছিলেন, তিনি চাচ্ছিলেন তারা ঈমান আনুক। এ সময় অন্ধ সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.) এসে উপস্থিত হন। তিনি রাসুলকে নানা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে লাগলেন। নবী (সা.) মক্কার নেতাদের প্রতি অতি মনোযোগী হওয়ায় কথায় বিঘœ ঘটছিল। কথার মাঝখানে কথা বলায় তিনি কিছুটা বিব্রত ও বিরক্তবোধ করছিলেন। এমন নয় যে, লোকটা অন্ধ, গরিব তাই আল্লাহর রাসুল তাকে গুরুত্বহীন ভাবছেন। বরং তিনি চাইছিলেন উম্মে মাকতুম তো ইসলাম গ্রহণ করেছেই। আমি পরেও তার উত্তর দিতে পারব। এখন কাফের নেতাদের কাছে মনোযোগ দিলে ইসলামের খেদমত বেশি হবে। 
তথাপি রাসুল (সা.) এর এ কাজ আল্লাহর পছন্দ হয়নি। আল্লাহ আয়াত নাজিল করে নবীজিকে শুধরে দিয়েছেন। আল্লাহ বলছেন, ‘তিনি ভ্রুকুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন। কারণ, তাঁর কাছে এক অন্ধ আগমন করল। আপনি কি জানেন, সে হয়তো পরিশুদ্ধ হতো অথবা উপদেশ গ্রহণ করত এবং উপদেশে তার উপকার হতো। পরন্তু যে বেপরোয়া, আপনি তার চিন্তায় মশগুল। সে শুদ্ধ না হলে আপনার কোন দোষ নেই। যে আপনার কাছে দৌড়ে এলো এমতাবস্থায় যে, সে ভয় করে, আপনি তাকে অবজ্ঞা করলেন। কখনও এরূপ করবেন না, এটা উপদেশবাণী।’ (সূরা আবাসা : ১-১১)।  

টঙ্গীর আন-নূর মসজিদে প্রদত্ত জুমার আলোচনা থেকে 
অনুলিখন মেহেদি হাসান সাকিব

শব-ই-কদরের ছুটি ১৩ জুন
                                  

আসন্ন লাইলাতুল কদর বা শব-ই-কদরের ছুটি পুনঃনির্ধারণ করে ১২ জুন মঙ্গলবারের পরিবর্তে ১৩ জুন বুধবার নির্ধারণ করেছে সরকার। আজ মঙ্গলবার সরকারের নির্বাহী আদেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই ছুটির তারিখ পুনঃনির্ধারণ করে আদেশ জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, দ্য নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট- ১৮৮১ এর ২৫ ধারার বিশ্লেষণে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্বাহী আদেশে শব-ই-কদরের ছুটি পুনঃনির্ধারণ করা হল। আদেশে বলা হয়, যে সকল অফিসের সময় সূচি ও ছুটি তাদের নিজস্ব আইন-কানুন দ্বারা নির্ধারিত হয়ে থাকে সে সকল অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের চাকরি সরকার কর্তৃক অত্যাবশ্যক চাকরি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান নিজস্ব আইন-কানুন অনুযায়ী জনস্বার্থ বিবেচনা করে এ ছুটি ঘোষণা করবে।
২০১৮ সালের ছুটির বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, ১৭ মে থেকে রোজা শুরু হবে এমনটা ধরে ১২ জুন নির্বাহী আদেশে শব-ই-কদরের সরকারি ছুটি নির্ধারিত ছিল। কিন্তু গত ১৮ মে থেকে রোজা শুরু হওয়ায় ১২ জুন শব-ই-কদরের রাতে ইবাদত-বন্দেগী করবেন ধর্মপ্রাণ মসুলমানরা। এজন্য শব-ই-কদরের ছুটি পুনঃনির্ধারণ করে ১৩ জুন করা হয়েছে। আগামী ১৫, ১৬, ১৭ জুন রোজার ঈদের ছুটি নির্ধারণ করা আছে। তবে রোজা ৩০টি হলে ১৮ জুনও ঈদের ছুটি থাকবে।

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ)
                                  

আজ গোটা জগতের মুসলমানদের আবেগঅনুরাগ আর উচ্ছ্বাসে একাকার হওয়া প্রাণমন আকুল করা দিন। আজ উৎসবের রোশনাইঘেরা বারোই রবিউল আউয়াল। আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (.)। বিশ্বমানবতার মুক্তির দিশারী রহমাতুল্লিল আলামিন সাইয়েদুল মুরসালিন খাতামুন্নাবিয়ীন তাজদারে মদীনা জগত কুল শিরোমণি সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ আহমদ মুজতাবা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহী ওয়া সাল্লামের জন্ম ও ওফাত দিবস। আবেগ মথিত কবির ভাষায়– ‘তিনি আলোর মিনার নূর মদিনার জান্নাতি বুলবুল/তিনি যষ্টি মুকুল বৃষ্টি বকুল বৃষ্টি ভেজা ফুল/নিখিলের চির সুন্দর সৃষ্টি মুহাম্মদ রাসুল।’

আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার পূর্বে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে এ দিনে সুবহে সাদেকের সময় মক্কা নগরীর সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে মা আমেনার কোল আলো করে তিনি আসেন এই ধরায়। জন্মের পূর্বেই পিতৃহারা হন এবং জন্মের অল্পকাল পরই বঞ্চিত হন মাতৃস্নেহ থেকে। অনেক দুঃখকষ্ট আর অসীম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে চাচা আবু তালিবের আশ্রয়ে বড় হয়ে ওঠেন। চল্লিশ বছর বয়সে উপনীত হওয়ার পর তিনি মহান রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে নবুওয়তের মহান দায়িত্ব লাভ করেন। অসভ্য বর্বর ও পথহারা মানব জাতিকে সত্যের সংবাদ দিতে তিনি তাদের কাছে তুলে ধরেন মহান রাব্বুল আলামীনের তাওহীদের বাণী। কিন্তু অসভ্যবর্বর আরব জাতি তাঁর দাওয়াত গ্রহণ না করে রাসুলের (.) উপর নির্যাতন শুরু করে। বিভিন্নমুখী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করতে থাকে একের পর এক। আল্লাহর সাহায্যের ওপর ভরসা করে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন বাজি রেখে সংগ্রাম চালিয়ে যান তিনি। ধীরে ধীরে সত্যান্বেষী মানুষ তাঁর সাথী হতে থাকে। অন্যদিকে কাফেরদের ষড়যন্ত্রও প্রবল আকার ধারণ করে। এমনকি একপর্যায়ে তারা রাসুল (.) কে হত্যার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। রাসুল (.) আল্লাহর নির্দেশে জন্মভূমি ত্যাগ করে মদীনায় হিজরত করেন। মদীনায় তিনি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন করেন এবং মদীনা সনদ নামে একটি লিখিত সংবিধান প্রণয়ন করেন। মদীনা সনদ বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান হিসাবে খ্যাত। এ সংবিধানে ইহুদীখ্রিস্টানমুসলমানসহ সকলের অধিকার স্বীকৃত হয় সমান্তরালে।

২৩ বছর শ্রম সাধনায় অবশেষে রাসুলে পাক (.) দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিজয় অর্জন করেন। মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে তা পূর্ণতা লাভ করে। বিদায় হজের ভাষণে তিনি আল্লাহর বাণী শুনিয়েছেন মানবজাতিকে; ‘আজ থেকে তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন তথা জীবনব্যবস্থাকে পরিপূর্ণ করে দেয়া হলো। তোমাদের জন্য দ্বীন তথা জীবন ব্যবস্থা হিসাবে একমাত্র ইসলামকে মনোনীত করা হয়েছে। হযরত মুহাম্মদ (.) ইতিহাসের অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব। অন্য ধর্মাবলম্বীরাও তাঁকে মানবজাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারক ব্যক্তিত্ব হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

প্রতি বছর ১২ রবিউল আউয়ালকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসাবে উদযাপন করে সারা মুসলিম বিশ্ব। এ উপলক্ষে সারাদেশে আয়োজন করা হয় জশনে জুলুস। জুলুস ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মীয় সংস্থাসংগঠনমহল্লা কমিটির আয়োজনে নবীজীর জীবনী আলোচনামিলাদ মাহফিলওরশ মাহফিলকাঙালি ভোজসহ নানা আয়োজন করে থাকে। মিষ্টিখাবার প্রভৃতি তৈরি করে বিতরণ করে। রাসুল প্রেমিকরা ভক্তিভরে দরুদ পাঠে মশগুল থাকেন। প্রাণের আবেগ মেখে পড়েনবালাগাল উলা বিকামালিহিকাশাফাত দুজা বিজামালিহিহাসুনাত জামিঊ খিসালিহিসাল্ল আলাইহি ওয়ালিহি . . .

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (.) উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা মুসলমান ভাইবোনদের প্রতি শুভেচ্ছা জানান এবং রাসুল (.)-এর আদর্শ নিজেদের জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (.) উপলক্ষে আজ শনিবার সকাল ৮টায় আনজুমানরহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টচট্টগ্রাম’র ব্যবস্থাপনায় জশনে জুলুস বের করা হবে। জুলুসে নেতৃত্ব দেবেন আওলাদে রাসূল হযরতুলহাজ আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্‌(মাজিআ)। প্রধান মেহমান আওলাদে রাসূলহযরতুলহাজ্ব শাহাজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্‌ (মাজিআও প্রধান বক্তা আওলাদে রাসূলশাহাজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ হামেদ শাহ্‌ (মাজিআঅংশগ্রহণ করবেন। জুলুস ষোলশহরস্থ আলমগীর খানকা একাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া হতে আরম্ভ হয়ে বিবিরহাটমুরাদপুরমির্জারপুলকাতালগঞ্জ হয়ে অলিখাঁ মসজিদ চকবাজারপ্যারেড ময়দানের পূর্ব পার্শ্বচন্দনপুরাসিরাজুদ্দৌলাহ রোডদিদার মার্কেটদেওয়ান বাজারআন্দরকিল্লামোমিন রোডকদম মোবারকচেরাগী পাহাড়জামালখানপ্রেস ক্লাবখাস্তগীর স্কুলগণি বেকারীচট্টগ্রাম কলেজপ্যারেড ময়দানের পশ্চিম পার্শ্ব হয়ে পুনরায় অলিখাঁ মসজিদ চকবাজারকাতালগঞ্জমির্জারপুলমুরাদপুরবিবিরহাট প্রদক্ষিণ পূর্বক জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্‌রাসা প্রাঙ্গণে প্রত্যাবর্তন করে জামেয়া ময়দানে জমায়েত এবং মাহফিল দুপুর ১২টায়। শেষে নামাজে যোহর ও দো’য়া অনুষ্ঠিত হবে।

সাতবাড়িয়া শাহ আমানত (.) সিনিয়র মাদ্রাসাসাতবাড়িয়া শাহ আমানত (.) সিনিয়র মাদ্রাসা ও এতিমখানার উদ্যোগে মাদ্রাসা প্রাঙ্গন থেকে জশনে জুলুস আজ সকাল ৮টায় বের করা হবে। পরে মাদ্রাসা ময়দানে মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। জুলুসে ছদারত করবেন শাহসুফি আলহাজ সৈয়দ মোবেলায়েত উল্লাহ আল হাসানী (মজিআ)

হজযাত্রীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করবে সৌদি আরব
                                  

সৌদি আরব হজযাত্রীদর জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী হজ মৌসুম থেকে এটি কার্যকর করা হবে। ধর্মমন্ত্রণালয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য জানান। এ কর্মকর্তা বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে হজযাত্রীরা পবিত্র হজব্রত পালরে উদ্দেশে জেদ্দা ও মদিনা গমনের জন্য বাংলাদেশের বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের জন্য প্রি-ক্লিয়ারেন্স পাবেন।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিসুর রহমান বাসসকে বলেন, ‘এর ফলে হজযাত্রীদের সৌদি
বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পয়েন্টগুলোতে দীর্র্ঘ লাইন দিয়ে অপেক্ষার জামেলা পোহাতে হবে না।’
তিনি বলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন বিমান বন্দরে প্রি-ক্লিয়ারেন্স চালু করার উপায় খুঁজে বের করতে শিগিগির সৌদি আরবের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা আসবে।
তিনি বলেন, সৌদি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা ফিরে যাওয়ার আগেই এখানে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। আনিসুর রহমান বলেন, সরকার সৌদি কর্তৃপক্ষকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট দেশের এই তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ক’টিতে প্রি-ক্লিয়ারেন্স চালুর অনুরোধ জানাবে।
হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সভাপতি শাহাদাত হোসেন তাসলিম সৌদি কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন এটি হজ ব্যবস্থাপনাকে সহজ করে তুলবে। আমাদের দেশের হজযাত্রীরা সৌদি বিমান বন্দরে নেমে সোজা লাগেজ এরিয়ায় চলে যেতে পারবেন।
সৌদি আরবের কোটা অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০১৮ সালে এক লাখ ২৭ হাজার হজযাত্রী পাঠাতে পারবে। এ পর্যন্ত দুই লাখের বেশি হজ গমনেচ্ছু ব্যক্তি আগামী বছরের জন্য নাম নিবন্ধন করেছেন।
তিনি জানান সৌদি হজ ও ওমরা মন্ত্রণালয় চলতি বছর হজ মৌসুমে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে প্রি-ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়ন করেছে।

পরিবারের ভরণ-পোষণে কার দায়িত্ব কতটুকু? মুফতি মাহমুদ হাসান
                                  

ইসলাম মানবসমাজের ইহকাল ও পরকালের সফলতা এবং উন্নতির পথ বাতলে দিয়েছে। আর ইসলাম হচ্ছে দায়িত্ব পালনের নাম, অর্থাৎ যার যার অধিকার তাকে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়াই হলো একজন মুসলিমের কাজ।

এই অধিকার দুই ধরনের—এক. আল্লাহর হক বা অধিকার, দ্বিতীয় হলো বান্দার হক। এই দুটি হক বা অধিকার সঠিকভাবে তার প্রাপ্যকে পৌঁছে দেওয়াই হলো ইসলাম ও শরিয়ত।

 

আমরা এখানে বান্দার হকবিষয়ক একটি শাখার আলোচনা করব, তা হচ্ছে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের হক এবং অধিকারবিষয়ক। বিশেষ করে বর্তমানে নিকটাত্মীয়দের ভরণ-পোষণ ও ব্যয়ভারের অধিকার ও দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ও তাদের দেখভাল করা আল্লাহ তাআলার একটি মহান বিধান। কোরআন-হাদিসে এর অনেক গুরুত্ব রয়েছে।

আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যার অসিলা দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে আত্মীয়তার অধিকার প্রার্থনা করো। ’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে, ‘আর আত্মীয়-স্বজনরা একে অন্যের তুলনায় অগ্রগণ্য, আল্লাহর কিতাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে মহাজ্ঞানী।

’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ৭৫)

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি তার রিজিকের প্রশস্ততা ও হায়াত বৃদ্ধি চায়, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে। (বুখারি : হাদিস ২০৬৭)

অন্য একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। ’ (বুখারি : হাদিস ৫৯৮৪)

পরিবারের জন্য ব্যয় করার ফজিলত

নিজের ও পরিবারের ভরণ-পোষণ খরচ বহনের বিষয়টি আমাদের কাছে শুধু একটি পার্থিব বিষয় মনে হলেও এটি একটি মহান দ্বিনি দায়িত্ব ও কর্তব্য। কোরআন ও হাদিস অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগির চেয়ে এ অধ্যায়টিকে কোনো দিক দিয়ে কম গুরুত্ব দেয়নি। নিজের ও পরিবারের জন্য বৈধ রিজিকের সন্ধান করাও একজন মুসলিমের ফরজ দায়িত্ব। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘হালাল রিজিকের সন্ধান করা অন্যান্য ফরজ ইবাদতের পর অন্যতম একটি ফরজ। ’ (আল মুজামুল কাবির, হাদিস : ৯৯৯৩) অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘মানুষের সর্বোত্তম মুদ্রা সেটি, যা সে তার পরিবারের খরচে ব্যয় করে। ’ (মুসলিম : হাদিস ৯৯৪) অন্য একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কোনো ব্যক্তি তার পরিবারে যে খরচ করে তা-ও সদকাস্বরূপ, অর্থাৎ এতেও সে সদকার সওয়াব পাবে। ’ (বুখারি : হাদিস ৪০০৬)

ভরণ-পোষণের দায়িত্ব যেভাবে বর্তায়

ভরণ-পোষণের ব্যয়ভার দুটি কারণে বর্তায় : এক. বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে, দুই. আত্মীয়তার সম্পর্কে। শরিয়ত বিবাহের পর থেকেই স্বামীর ওপর স্ত্রীর জন্য যেসব অধিকার সাব্যস্ত করেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো স্ত্রীর ব্যয়ভার গ্রহণ করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সন্তানের পিতার ওপর সন্তানের মায়ের জন্য অন্ন-বস্ত্রের উত্তম পন্থায় ব্যবস্থা করা একান্ত দায়িত্ব। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৩৩)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা স্ত্রীদের জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী নিজেদের ঘরে বাসস্থানের ব্যবস্থা করো। ’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ৬)

হাদিস শরিফে স্ত্রীদের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) পুরুষদের নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তুমি যখন খাবে তাকেও খাওয়াবে এবং তুমি যখন পরবে তাকেও পরাবে। চেহারায় কখনো প্রহার করবে না, অসদাচরণ করবে না। ’ (আবু দাউদ : হাদিস ২১৪২)

স্ত্রীর ভরণ-পোষণের পরিমাণ

ভরণ-পোষণের ব্যাপারে ইসলামী শরিয়ত পরিমাণ নির্ধারিত করে দেয়নি। বরং শরিয়তের ভাষায় স্ত্রীকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ভরণ-পোষণ দেওয়া স্বামীর কর্তব্য। এই পরিমাণ পরিবেশ-পরিস্থিতি ও স্বামীর সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করে। (আলমুহিতুল বুরহানি : ৩/৫২৯-৫৩০, ফাতহুল কাদির : ৩/১৯৪) কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা স্ত্রীদের জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী নিজেদের ঘরে বাসস্থানের ব্যবস্থা করো। ’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ৬)

মহানবী (সা.) বিদায় হজের ভাষণে দীর্ঘ বয়ানের একপর্যায়ে বলেছিলেন—‘অতএব, তোমরা স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করো, কেননা তোমরা তাদের আল্লাহর আমানত ও প্রতিশ্রুতির ওপর গ্রহণ করেছ এবং তোমরা আল্লাহর হুকুমেই তাদের লজ্জাস্থান হালাল হিসেবে পেয়েছ। তাদের ওপর তোমাদের অধিকার হলো, তারা তোমাদের অপছন্দ হয় এমন লোককে তোমাদের বিছানায় আসতে দেবে না। যদি তারা এ অন্যায় কাজ করে, তাহলে তাদের হালকা প্রহার করতে পারবে, যাতে শরীরে কোনো জখম বা আঘাত না হয়। আর তোমাদের ওপর তাদের অধিকার হলো, তাদের জন্য প্রয়োজন অনুপাতে খাবার ও পোশাকের ব্যবস্থা করো। ’ (সহিহ মুসলিম : হাদিস ১২১৮)

স্বামী প্রয়োজনীয় খরচ না দিলে করণীয়

স্বামী যদি বিহিত কোনো কারণ ছাড়া স্ত্রী-সন্তানের তথা সাংসারিক জরুরি খরচ না দেয়, তাহলে স্ত্রী স্বামীর অনুমতি ছাড়াও স্বামীর সম্পদ থেকে প্রয়োজনমতো অপচয় না করে খরচ করতে পারবে। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘সাহাবিয়া হিন্দ বিনতে উতবা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! (আমার স্বামী) আবু সুফিয়ান সংসারের খরচে সংকীর্ণতাকারী, সে আমার ও আমার সন্তানের প্রয়োজনীয় পরিমাণে খরচ দেয় না, তবে আমি তার অগোচরে তার থেকে কিছু নিয়ে থাকি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হ্যাঁ, তুমি তোমার ও তোমার সন্তানের প্রয়োজন পরিমাণ তার অগোচরে তার থেকে নিতে পারবে। ’ (বুখারি : হাদিস ৫২৬৪, বাদায়েউস সানায়ে  : ২/২৭)

তবে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মালিকানা ভিন্ন হওয়ায় অনুমতি ছাড়া একে অন্যের সম্পদ ব্যয় করা অবৈধ। স্বামী যদি নিয়মমাফিক ভরণ-পোষণ ও স্বাভাবিক হাত খরচের প্রয়োজন পূরণ করে থাকে, তাহলে তার কাছ থেকে তার অগোচরে টাকা-পয়সা নিয়ে নেওয়া এবং তাকে না জানিয়ে বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা বৈধ হবে না। (আলবাহরুর রায়েক : ৪/১৭৭)

স্ত্রীর বাসস্থান

স্ত্রী যদি উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়ে হয়, তাহলে সে যদি স্বামীর যৌথ পরিবার থেকে ভিন্ন ঘরের দাবি করে, তাহলে স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে ভিন্ন ঘরের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। স্বামীর মা-বাবার সঙ্গে যৌথভাবে থাকতে স্ত্রী বাধ্য নয়। আর মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে হলে তাকে স্বামীর পরিবারের সঙ্গে এক ঘরে রাখা গেলেও তার পৃথক কক্ষ, টয়লেট, গোসলখানা, রান্নাঘরসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় জিনিস ভিন্ন করারও দাবি করতে পারবে। এ ক্ষেত্রেও স্বামীর পরিবারের সঙ্গে যৌথভাবে থাকতে স্ত্রীকে বাধ্য করা যাবে না। আর নিম্নবিত্ত পরিবারের হলে টয়লেট, গোসলখানা, পাকের ঘর ইত্যাদি ভিন্ন দিতে বাধ্য না হলেও তার জন্য একটি পৃথক কক্ষের ব্যবস্থা অবশ্যই করতে হবে, যার হস্তক্ষেপ স্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ করতে পারবে না। ওই কক্ষে স্বামীর মা-বাবা, ভাই-বোন বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করতে পারবে না। স্ত্রীর এমন সংরক্ষিত কক্ষ দাবি করার অধিকার আছে। (বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২৩, রদ্দুল মুহতার : ৩/৬০১)

আত্মীয়তার সম্পর্কে ব্যয়ভার

আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে যারা ভরণ-পোষণের খরচ পেতে পারে, এককথায় শরিয়তের ভাষায় তারা হলো, রক্তের সম্পর্কের মাহরাম আত্মীয়-স্বজন। এরা হলেন চার ধরনের আত্মীয়-স্বজন : ১. মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি ও তাদের ঊর্ধ্বতন। ২. ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি ও তাদের অধস্তন। ৩. ভাই-বোন ও তাদের সন্তান। ৪. চাচা, ফুফু, মামা, খালা। তবে একসঙ্গে সবার খরচ চালানো এক পক্ষের ওপর ওয়াজিব নয়, বরং এ ক্ষেত্রে শরিয়ত নিকটবর্তী ও দূরবর্তীদের মধ্যে তারতিব নির্ধারণ করে দিয়েছেন, প্রত্যেক পক্ষের নিকটবর্তী আত্মীয়ের উপস্থিতি ও সামর্থ্য অবস্থায় দূরবর্তীদের ওপর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব বর্তাবে না। হ্যাঁ, নিকটবর্তীর অনুপস্থিতি ও অসামর্থ্যতায় দূরবর্তীদের ওপরও ভরণ-পোষণের দায়িত্ব বর্তাবে। (তাবঈনুল হাকায়েক : ৩/৬৩)

মা-বাবা ও ঊর্ধ্বতন আত্মীয়ের ব্যয়ভারের শর্ত

মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি—এ ধরনের ঊর্ধ্বতন আত্মীয়রা ভরণ-পোষণের অধিকারী হওয়ার জন্য শর্ত হলো দুটি—এক. তাঁরা এমন দরিদ্র হতে হবে যে তাঁরা নিজের মালিকানার সম্পদে চলতে অক্ষম। এখন কথা হলো, যদি তাঁরা উপার্জনের শক্তি রাখে, তাহলেও তাঁদের সন্তানদের ভরণ-পোষণ দিতে হবে কি না? এ ক্ষেত্রে বিধান হলো, তাঁদের উপার্জনের শক্তি থাকলেও যদি তাঁদের কাছে চলার মতো নগদ টাকাকড়ি না থাকে, তাঁদের সন্তানদের ভরণ-পোষণ দিতে হবে। তাদের সন্তানরা এ কথা বলতে পারবে না যে আপনি তো উপার্জনে সক্ষম, আপনি নিজে উপার্জন করে চলুন। তবে যদি তাঁরা ধনী হন, তথা তাঁদের মালিকানায় নগদ এমন সম্পত্তি থাকে, যা দ্বারা তাঁরা শান্তিতে কালাতিপাত করতে পারেন, তাহলে সন্তানদের ওপর তাঁদের ভরণ-পোষণ দেওয়া ওয়াজিব নয়।

দুই. সন্তান-সন্ততি সামর্থ্যবান ও উপার্জনে সক্ষম হতে হবে। তাদের সামর্থ্যবান হওয়ার পরিমাণ হলো, তাদের মালিকানার সম্পত্তি বা উপার্জনকৃত আয়ের দ্বারা নিজের ও নিজের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততির স্বাভাবিক ভরণ-পোষণের পর অতিরিক্ত সম্পদ থাকতে হবে। অন্যথায় তাদের উপার্জনকৃত আয়ের মধ্য থেকে যদি তার নিজের ও স্ত্রী বা সন্তান-সন্ততির ভরণ-পোষণের অতিরিক্ত সম্পদ না থাকে, তাহলে মা-বাবা ও ঊর্ধ্বতন আত্মীয়ের ভরণ-পোষণ দেওয়া ওয়াজিব নয়। যদিও এ ক্ষেত্রে উত্তম হলো, কষ্ট হলেও যথাসাধ্য মা-বাবারও ভরণ-পোষণের খরচ চালিয়ে যাবে। (তাবঈনুল হাকায়েক : ৩/৬৪, রদ্দুল মুহতার : ২/৬৭৮)

এ ব্যাপারে হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘খরচের ব্যাপারে তুমি আগে নিজের প্রয়োজনীয় খরচের দায়িত্বশীল, তারপর তোমার স্ত্রীর, তারপর সামর্থ্য হলে তোমার নিকটাত্মীয়ের খরচ তোমার ওপর বর্তাবে। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৯৭)

দরিদ্র ও উপার্জনে সক্ষম ছেলে অসমর্থ মা-বাবাকে নিয়ে একসঙ্গে খাবে

সন্তান তার উপার্জনকৃত আয় থেকে নিজের, স্ত্রীর ও সন্তান-সন্ততির ভরণ-পোষণের পর অতিরিক্ত সম্পদ না থাকলে যদিও মা-বাবাকে ভিন্নভাবে ভরণ-পোষণ দেওয়া ওয়াজিব নয়, কিন্তু অভাবগ্রস্ত ও উপার্জনে অক্ষম মা-বাবাকে ছেলে নিজের দারিদ্র্য সত্ত্বেও নিজের সংসারের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে এবং কষ্ট হলেও যথাসাধ্য মা-বাবারও ভরণ-পোষণ চালিয়ে যাবে। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/৪৬৫)

সমর্থ থাকা সত্ত্বেও অভাবগ্রস্ত মা-বাবার খরচ না দিলে গুনাহগার হবে

সমর্থ থাকা সত্ত্বেও সন্তানরা অভাবগ্রস্ত মা-বাবার খরচ না দিলে গুনাহগার হবে। এ ক্ষেত্রে সন্তানরা স্বেচ্ছায় না দিলে অভাবগ্রস্ত মাতা-পিতা ছেলে-মেয়ের সম্পদ থেকে প্রয়োজন পরিমাণ তাদের অনুমতি ছাড়াও নিতে পারবেন। তবে মা-বাবা বিত্তবান হলে অনুমতি ছাড়া ছেলে-মেয়ের সম্পদ থেকে নেওয়া বৈধ হবে না। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/৫৬৪)

পিতার একাধিক স্ত্রী থাকলে করণীয়

পিতার একাধিক স্ত্রী থাকলে ছেলের ওপর তার বাবা ও বাবার এক স্ত্রীর খরচ দেওয়া তার ওপর ওয়াজিব হবে, অতঃপর বাবা ওই খরচ তার উভয় স্ত্রীকে ভাগ করে দেবেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর খরচ দেওয়া ছেলের দায়িত্বে নয়। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/৪৬৫)

মা-বাবার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব  কার কার ওপর?

মা-বাবার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব উপরোক্ত দুই শর্তে সব ছেলে-মেয়ের ওপর ওয়াজিব। এ দায়িত্ব সব সাবালক সামর্থ্যবান ছেলে-মেয়ের ওপর সমভাবে বর্তাবে। এ ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, তাই কোনো মেয়ে যদি সামর্থ্যবান ও বিত্তবান হয়, তাহলে ছেলেদের মতো সমভাবে তার ওপরও মা-বাবার খরচের দায়িত্ব বর্তাবে। কেননা মা-বাবার জীবিত অবস্থায় সন্তানের জন্য খরচ ও উপহারে মেয়েরাও তাদের ভাইদের মতো সমঅধিকারী, তাই মা-বাবার খরচ বহনে তারাও সামর্থ্যের শর্তে তাদের ভাইদের সমদায়িত্বশীল হবে। ছেলে-মেয়ে না থাকলে তারপর সিরিয়াল আসবে নাতি-নাতনিদের। অতএব, তাদের ওপর সমভাবে এ দায়িত্ব বর্তাবে। (ফাতহুল কাদির : ৪/৪১৭)

আখেরী চাহার সোম্বা ১৫ নভেম্বর
                                  

গামী ১৫ নভেম্বর পবিত্র আখেরী চাহার সোম্বা। হিজরী সনের সফর মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আজ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক সভায় আগামী ১৫ নভেম্বর (২৫ সফর ১৪৩৯ হিজরী) ‘আখেরী চাহার সোম্বা’র বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য্য ও মর্যাদায় আখেরী চাহার সোম্বা পালন করা হবে বলেও কমিটির সদস্যরা নিশ্চিত করেন।
বাংলাদেশের আকাশে আজ ১৪৩৯ হিজরি সনের পবিত্র সফর মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামীকাল ২১ অক্টোবর পবিত্র মুহাররম মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং আগামী ২২ অক্টোবর রোববার থেকে পবিত্র সফর মাস গণনা শুরু হবে।
আজ সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমান।
সভায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. হাফিজুর রহমান, তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মিজান-উল- আলম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল, অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপ-সচিব মো. শাফায়াত মাহবুব চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ১৪৩৯ হিজরি সনের পবিত্র সফর মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সকল জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান হতে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করে উপরোক্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

স্বামীর প্রতি স্ত্রীর হক
                                  

স্বামীর ওপর স্ত্রীর যেমন হক আছে, স্ত্রীর ওপরও স্বামীর কিছু হক রয়েছে। ইসলামই সে বিধান দিয়েছে। স্ত্রী যেমন স্বামীর কাছ থেকে কিছু বিষয় প্রত্যাশা করে, স্বামীরও কিছু প্রত্যাশা আছে তার স্ত্রীর কাছে। স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্বের সঙ্গে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর দায়িত্ব পরিপূরক। তাদের একের দায়িত্বকে বাদ দিয়ে দাম্পত্য, তথা সংসারজীবন কখনোই পরিপূর্ণ অথবা সুখী হতে পারে না। এটাই ইসলামের নির্দেশ। 
হাদিসে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মুসলিম শরিফে বর্ণিত আছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পৃথিবীর সবকিছু পার্থিব সম্পদের মধ্যে উৎকৃষ্ট হলো সাধ্বী স্ত্রী।’ এ সাধ্বী স্ত্রী বলতে কী বোঝায়, বিভিন্ন হাদিসে তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তবে স্বামীর সন্তুষ্টি বিধান ছাড়া সাধ্বী স্ত্রী হওয়া কঠিনতর, এটা মিথ্যা নয়। বিশেষ করে এ হাদিসটিতে ‘সাধ্বী স্ত্রী’র কথাই বলা হয়েছে, ‘সাধ্বী রমণী’র কথা বলা হয়নি। অর্থাৎ সাধ্বী স্ত্রী হচ্ছে স্বামীর জন্য উৎকৃষ্ট সম্পদ। তাই স্বামীর উৎকৃষ্ট সম্পদে রূপায়িত হওয়ার জন্য স্ত্রীর বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। এ দায়িত্বই স্বামীর প্রতি স্ত্রীর দায়িত্ব। আর সেটাই স্ত্রীর প্রতি স্বামীর হক। 
স্বামীর সব সম্পদের সংরক্ষণ করা স্ত্রীর দায়িত্ব। আর সে সংরক্ষণ এমনিভাবে করতে হবে, যা স্বামীর জ্ঞাত থাকবে। স্বামীর অজ্ঞাতে সংসারের কোনো সম্পদ ব্যয় করা বৈধ নয়। এ প্রসঙ্গে তিরমিজি শরিফে উল্লেখ আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো স্ত্রী তার স্বামীর অনুমতি ব্যতীত স্বামীগৃহ থেকে সামান্য পরিমাণের মালও ব্যয় করবে না।’ এখানে স্বীয় সম্পদের হেফাজতকারী হিসেবে স্ত্রীর ওপর স্বামীর হকের কথা নির্দেশিত হয়েছে। 
স্বামীর অনুমতি ব্যতীত কোনো সম্পদের, এমনকি দানও পুরোপুরি বৈধ নয়। এ ধরনের দানে সম্পূর্ণ সওয়াব অর্জিত হয় না। দানের অর্ধেক সওয়াব নষ্ট হয়ে যায়। বোখারি শরিফে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো স্ত্রী তার স্বামীর অনুমতি ব্যতীত তার স্বামীর অর্জিত ধন ব্যয় করে, সে (স্ত্রী) তার অর্জিত সওয়াবের অর্ধেক পাবে।’
স্বামীর প্রতি অনুগত থাকার জন্য ইসলাম নারী জাতির প্রতি বিশেষভাবে নির্দেশ প্রদান করেছে। এ নির্দেশকে নামাজ-রোজার মতো ফরজ কাজের সমতুল্য বলে বর্ণনা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘স্ত্রীলোক যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজান মাসে রোজা রাখে, লজ্জাস্থানকে অন্যায় অপবিত্র থেকে রক্ষা করে এবং স্বামীর বাধ্য হয়ে চলে, তা হলে সে যে কোনো দরজা দিয়ে বেহেশতে প্রবেশ করবে।’ (অর্থাৎ বেহেশতে প্রবেশের সব দরজা তার জন্য উন্মুক্ত থাকবে)। (আবু নুয়াইম)। অন্য কথায়, স্বামীর অবাধ্যতা কঠিন পাপের সমতুল্য এবং তার পরণতিও ভয়াবহ। এ প্রসঙ্গে একটি বর্ণনায় আছে, মেরাজ থেকে প্রত্যাবর্তনের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন, ‘আমি দোজখে গিয়ে দেখলাম, দোজখিদের মধ্যে অধিকাংশই নারী।’ উপস্থিত নারীরা প্রশ্ন করল, ‘এর কারণ কী ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)?’ তিনি বললেন, ‘এর কারণ তাদের অত্যধিক লানত করা বা কথায় কথায় অভিশাপ দেয়া এবং জীবনযাপনে স্বামীর অবাধ্যতা।’
উত্তম স্ত্রী স্বামীর জন্য শ্রেষ্ঠতম পার্থিব সম্পদ। কিন্তু উত্তম স্ত্রী বলতে কী বোঝায়? রাসুলুল্লাহকে (সা.) জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘কোন স্ত্রী সর্বাপেক্ষা উত্তম?’ তিনি বললেন, ‘স্বামী তার স্ত্রীর দিকে তাকালে যে স্ত্রী তার স্বামীকে আনন্দ দান করে, স্বামী আদেশ করলে তা মানে এবং নিজের ও নিজের মাল সম্পর্কে স্বামী যা পছন্দ করে না, এমন কোনো আচরণ করে নাÑ এমন স্ত্রীই উত্তম।’ (নাসায়ি)। 
স্বামীর প্রতি সদ্ব্যবহার এবং স্বামীকে সম্মানের জন্য স্ত্রীর প্রতি ইসলামের কঠোর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ রয়েছে। সাবলীলভাবে তা পালন করার জন্য কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন স্থানে বলা হয়েছে। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘যদি আমি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সেজদা করার আদেশ দিতাম, তা হলে স্ত্রীকে আদেশ দিতাম স্বামীকে সেজদা করার জন্য।’ (তিরমিজি)। অন্য একটি হাদিসে আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে স্ত্রী তার স্বামীর অসন্তুষ্টি নিয়ে মারা যায়, সে বেহেশতে প্রবেশ করবে না।’ এ হাদিসটি দ্বারা অন্যভাবে একথাও বোঝানো হয়েছে, স্বামীর সন্তুষ্টি লাভ স্ত্রীর জন্য বেহেশত প্রাপ্তির পথ সুগম করে। স্ত্রীর উচিত, স্বামীর আর্থিক সামর্থ্যে সন্তুষ্ট ও সহানুভূতিশীল থাকা। এর অন্যথা স্ত্রীর জন্য পাপাচারের শামিল। আসমা বিনতে ইয়াজিদ আনসারিয়া (রা.) বলেন, একদিন আমি আমার সমবয়সী কিছু মেয়ের সঙ্গে বসে ছিলাম। ওই সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি আমাদের সালাম দিলেন এবং বললেন, ‘তোমরা তোমাদের সদ্ব্যবহারকারী অনুগ্রহশীল স্বামীদের প্রতি অকৃতজ্ঞতা ও না-শুকরি করা থেকে নিজদের রক্ষা করার চেষ্টা করো।’

স্ত্রীর প্রতি স্বামীর হক
                                  

রাসুলে পাক (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম, যে তার স্ত্রীর প্রতি ব্যবহারে উত্তম।’ অবশ্য স্ত্রী কখনও যদি ভুল পথে গমন করে, তখন তাকে সৎ উপদেশ দ্বারা সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা স্বামীর দায়িত্ব। কিন্তু এক্ষেত্রে অধিকতর কঠোরতার বদলে কৌশলী হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কারণ পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি আবেগপ্রবণ পৃথিবীতে স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন মানবজীবনের এক পবিত্রতম সম্পর্ক। এ বন্ধন আল্লাহ রব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানব জাতির প্রতি অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। রক্তসম্পর্কহীন সম্পূর্ণ অজানা-অচেনা দুইটি মানব-মানবীর মধ্যে অকৃত্রিম আন্তরিকতা, প্রেম-ভালোবাসা স্থাপনের মাধ্যমে আমৃত্যু একাত্মতায় বসবাসের আনন্দময় জীবনযাপন, একটি অলৌকিকতাতুল্য ব্যাপার হলেও তা পরম প্রাপ্তির সৌভাগ্যময় বাস্তবতা। একমাত্র পরম করুণাময়ের অপার নেয়ামতেই এটি সম্ভব হয়েছে। যেহেতু স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক একটি পবিত্র বন্ধন, তাই উভয়ের মধ্যে সুসম্পর্ক সৃষ্টি করা এবং তা বজায় রাখার জন্য আল কোরআনে বহু স্থানে আল্লাহ পাক নির্দেশ প্রদান করেছেন। উভয়ের মধ্যে সুসম্পর্কে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন। অপরপক্ষে অশান্তিময় সম্পর্ক তাঁর অসন্তুষ্টির কারণ হয়।
স্বামী-স্ত্রী, অর্থাৎ দাম্পত্য জীবনকে সুখময় করার জন্য উভয়েরই দায়িত্ব রয়েছে। রয়েছে একজনের ওপর অন্যজনের অধিকার, যা তাদের ন্যায্য পাওনা বলা যেতে পারে, যাকে বলা হয় হক। স্বামীর ওপর স্ত্রীর রয়েছে কিছু কিছু হক। স্ত্রীর ওপর স্বামীরও রয়েছে কিছু কিছু হক। 
প্রথমে আলোচনা করা যাক স্বামীর ওপর স্ত্রীর হক সম্পর্কে। স্ত্রীর প্রতি কোমল ব্যবহারের জন্য আল্লাহ নির্দেশ করেছেন স্বামীর প্রতি। আল কোরআনের সুরা আরাফের ১৮৯ আয়াতে পুরুষ, তথা স্বামীকে উদ্দেশ করে আল্লাহ বলেন- ‘তিনিই তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার সঙ্গিনী সৃষ্টি করেন, যাতে সে তার কাছে শান্তি পায়।’ অর্থাৎ পুরুষের সঙ্গিনী হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে স্ত্রীকে। তাই স্ত্রীর জন্য শান্তি বিধান করা স্বামীর কর্তব্য। এ শান্তি এক পক্ষের জন্য নয়; সঙ্গিনী হিসেবে স্বামীর সুশান্তি বিধানের দায়িত্বও স্ত্রীর ওপর। 
উল্লেখিত আয়াতের বিশ্লেষণে তা পরিষ্কার বোঝা যায়। অনুরূপ আরও একটি নির্দেশনা রয়েছে সুরা বাকারার ১৮৭তম আয়াতে। বলা হয়েছে- ‘তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক।’ অর্থাৎ পোশাক শরীরের সৌন্দর্য বর্ধন করে। তেমনি স্বামী-স্ত্রী উভয়ই একে অপরের সৌন্দর্যবর্ধক। আর এটি হতে পারে একে অপরের প্রতি তাদের সুমার্জিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে। 
স্ত্রীর প্রতি সদ্ব্যবহারের জন্য স্বামীকে বারবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পাক কোরআনের বিভিন্ন স্থানে। সুরা নিসার ২০তম আয়াতে স্ত্রীদের প্রতি ব্যবহার সম্পর্কে স্বামীদের লক্ষ্য করে আল্লাহ পাক বলেন- ‘তাদর সঙ্গে সৎভাবে জীবনযাপন করবে। তোমরা যদি তাদের ঘৃণা কর তবে এমন হতে পারে, আল্লাহ যার মধ্যে প্রভূত কল্যাণ রেখেছেন, তোমরা তাকে ঘৃণা করছ।’ উল্লেখিত আয়াত থেকে এটা বুঝতে পারা যায়, স্ত্রীর প্রতি সদ্ব্যবহারের মধ্যে আল্লাহ প্রদত্ত কল্যাণ রয়েছে এবং তার বিপরীত অর্থাৎ অসদ্ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে অকল্যাণ।
স্ত্রীর প্রতি সুন্দর ব্যবহার করার জন্য, সৎ অথবা বৈধ উপায়ে স্ত্রীকে খুশি করার জন্য নবী করিম (সা.) নির্দেশ প্রদান করেছেন। স্ত্রীর নিষ্পাপ মনোরঞ্জনের জন্য কোনো অর্থ ব্যয়ে সওয়াব লাভ হয়। 
এ প্রসঙ্গে বোখারি শরিফে উল্লেখ আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো মুসলমান সওয়াব লাভের আশায় তার স্ত্রীর জন্য কিছু ব্যয় করে, সেটি তার জন্য একটি দান হিসেবে বিবেচিত হয়।’ স্ত্রীর প্রতি সদ্ব্যবহার প্রসঙ্গে তিরমিজি শরিফে বলা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করে।’ অবশ্য এ উত্তম ব্যবহার প্রাপ্তির জন্য স্ত্রীর যোগ্যতাও আবশ্যক। স্ত্রী যদি বিশ্বাসিনী এবং সদাচারিণী হয়, সে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। আর এ ধরনের স্ত্রীর কিছু কিছু দোষ অবশ্যই অধর্তব্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো বিশ্বাসী স্বামী কোনো বিশ্বাসিনী স্ত্রীকে ঘৃণা করবে না। তার একটি দোষ পেলে অন্য গুণের কারণে তাকে ভালোবাসবে।’ (মুসলিম)। 
ভালোবাসার অন্যতম প্রতিফলন সদ্ব্যবহার। অন্যভাবে বলা যেতে পারে, সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে ভালোবাসা প্রতিষ্ঠা হয়। তাই স্ত্রীর প্রতি ভালো ব্যবহারের জন্য হাদিস পাকে নির্দেশ আছে। এ ব্যাপারে মেশকাত শরিফে বর্ণিত আছে, রাসুলে পাক (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম, যে তার স্ত্রীর প্রতি ব্যবহারে উত্তম।’ অবশ্য স্ত্রী কখনও যদি ভুল পথে গমন করে, তখন তাকে সৎ উপদেশ দ্বারা সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা স্বামীর দায়িত্ব। কিন্তু এক্ষেত্রে অধিকতর কঠোরতার বদলে কৌশলী হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কারণ পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি আবেগপ্রবণ। তাদের কঠোরভাবে শাসন করতে গেলে এমন কোনো পরিবেশ অথবা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, যার ফল তিক্ত। এ ব্যাপারে উদাহরণ সহকারে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘স্ত্রীদের সৎ উপদেশ প্রদান করবে, কেননা তারা পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্ট। পাঁজরের হাড়ের মধ্যে উপরের হাড় সর্বাপেক্ষা বক্র। যদি তাকে সোজা করতে চাও, তবে তা ভেঙে যাবে। যদি ছেড়ে দাও, তবে তা আারও বক্র হবে। সুতরাং স্ত্রীদের উপদেশ দিতেই থাকবে।’ (বোখারি)। 
কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হলো, সার্বিক ব্যাপারে, সর্বক্ষেত্রে, সর্বসময়ে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর সহানুভূতিশীল আর সহমর্মী হওয়া। সব সুখ-দুঃখে, সব অবস্থায় অংশীদার হওয়া। এ ব্যাপারে স্বামীর দায়িত্ব বেশি। এ প্রসঙ্গে হজরত হাকিম বিন মাবিয়া থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমার বাবা রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে জিজ্ঞেস করলেন, ‘পুরুষের ওপর স্ত্রীর কী কী হক আছে?’ উত্তরে তিনি বললেন, ‘যখন সে নিজে খায়, তাকে খাওয়াবে এবং যখন সে নিজে পরে, তাকে পরাবে এবং তার মুখম-লে কোনো আঘাত করবে না। মৃদু শাস্তি ছাড়া প্রহার করবে না। নিজের শয়নঘর ছাড়া অন্য ঘরে তাকে পরিত্যাগ করবে না।’ (আবু দাউদ, ইবনে মাযাহ)। 

আশুরার মহান শিক্ষা নিয়ে সকল অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান : প্রধানমন্ত্রী
                                  

 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশুরার মহান শিক্ষা নিয়ে সকল অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় জীবনে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আশুরার মহান শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে আমি সকলের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেয়া আজ এক বাণীতে তিনি এ আহবান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, পবিত্র আশুরা মানব ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এ দিনটি বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র।
হিজরি ৬১ সালের ১০ মহররম মহানবী হযরত মুহম্মদ (স.) এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) ও তাঁর পরিবারবর্গ কারবালা প্রান্তরে শাহাদতবরণ করেন। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তাঁদের এ আত্মত্যাগ মুসলিম উম্মাহর জন্য এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

৮৮ হাজারেরও বেশি হজ যাত্রী দেশে ফিরেছেন
                                  

পবিত্র হজ পালন শেষে আজ পর্যন্ত ৮৮ হাজারেরও বেশি হজ যাত্রী সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন।
আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে সব হাজী বাংলাদেশে ফিরবেন বলে হজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আজ এক বুলেটিনে জানায়, আজ পর্যন্ত ৮৮ হাজার ২১৪ জন হজ যাত্রী সৌদি আরব হতে দেশে ফিরছেন। এবারের হজ পালন করতে বাংলাদেশ থেকে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ২২৯ জন সৌদি আরব গেছেন। এরমধ্যে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৪৯ হজ যাত্রী ইন্তেকাল করেছেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ হজ অফিস ঢাকা এবং সৌদি আরব থেকে প্রাপ্ত তথ্যে আরো জানা যায়, এ পর্যন্ত গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ বিমান ও সৌদি এয়ার লাইন্স ২৫৬ ফিরতি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করে। এরমধ্যে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১২০টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স ১৩৬টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করে বলে হজ অফিস সুত্রে জানা যায়। মোট ৩৭০টি হজ ফ্লাইটের মধ্যে বাংলাদেশ বিমান ১৯১টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স ১৭৯টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
চলতি বছর সৌদি আরবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৬১ হাজার ৮৮ জন হজ যাত্রীর মেডিক্যাল প্রোফাইল এন্ট্রি করেছে। এছাড়া ৯৪ হাজার ১৩৮ জনকে চিকিৎসা সেবা ও ৬৭ হাজার ৮৪২ জনকে চিকিৎসার ব্যবস্থা পত্র দেয়া হয়েছে। এছাড়া আইটি হেল্প ডেক্স হতে মোট ৬৫ হাজার ২৯৫ জনকে আইটি সেবা প্রদান করা হয়েছে।
এবছর সৌদি আরবে বাংলাদেশের ১৪৯ জন হজ যাত্রী মারা যান। এর মধ্যে মক্কায় ১০৫, মদিনায় ২২, জেদ্দায় ৬ ও মিনায় ১৬ জন।

প্রথম ফিরতি হজ ফ্লাইট ঢাকায়
                                  

৪১৯ জন হাজি নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। নির্ধারিত সময়ের ২ ঘণ্টা পর আজ বুধবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০১২ ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করেছে। প্রতিদিনের সংবাদকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ। একই সঙ্গে আজ রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে বিমানের আরো একটি হজ ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করবে বলেও জানান তিনি। 
জানা গেছে, আজ বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই ফিরতি হজ ফ্লাইট চলবে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ২৪৭ জন হজযাত্রী হজ পালনে সৌদি আরবে যায়। শাকিল মেরাজ বলেন, আজ সৌদি আরবের জেদ্দা বিমান বন্দরে হাজিদের অনেক চাপ থাকার কারণে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স পেতে দেরি হয়েছে। এজন্য প্রথম ফ্লাইট ঢাকায় আসতে দেরি হয়েছে।

আগামীকাল থেকে ফিরতি হজফ্লাইট শুরু
                                  

 চলতি বছরের ফিরতি হজফ্লাইটের কার্যক্রম আগামীকাল থেকে শুরু হবে এবং তা ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স হজযাত্রীদের ফিরিয়ে আনতে জেদ্দা থেকে ঢাকায় ১৬৯টি ফিরতি হজফ্লাইট, ১৪৯টি ডেডিকেটেড এবং ৩০টি সিডিউলড ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
বিমানের মুখপাত্র শাকিল মেরাজ আজ বাসস’কে বলেন, ‘দীর্ঘকায় বোয়িং-৭৭৭ বিমানের মাধ্যমে ফিরতি হজফ্লাইট সমূহ পরিচালনার জন্য আমরা সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।’
ইকোনোমিক ক্লাসের যাত্রীরা সর্বোচ্চ ৪৬ কেজি এবং বিজনেস ক্লাসের যাত্রীরা ৫৬ কেজি পণ্য বিনা শুল্কে বহন করতে পারবেন।
বাংলাদেশ হজ কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে হজযাত্রীদের জন্য পবিত্র জমজমের পানি আনবে। হজযাত্রীরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রতিজনকে ৫ লিটার করে জমজমের পানি দেয়া হবে।
এ বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ২২৯ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে হজব্রত পালন করেন। তাদে মধ্যে অর্ধেক বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে এবং বাকি অর্ধেক সৌদি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে দেশে ফিরবেন।

ঈদ জামাতে বন্যার্ত ও রোহিঙ্গাদের জন্য দোয়া
                                  

বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেই জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাতে হাজারো মানুষের ঢল নেমেছিল।

শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল আটটায় রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত শেষে মোনাজাতে দোয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা কবলিত মানুষকে বিপদ থেকে উদ্ধারে আল্লাহর করুণা প্রার্থনা করা হয়েছে। দুর্যোগ-দুর্বিপাক থেকে মুক্তি, শান্তি আর কল্যাণ কামনায় স্রষ্টার কাছে হাত তুলেছেন সবাই।

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের প্রথম জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মুফতি মো. মিজানুর রহমান।

নামাজ শেষে মোনাজাতে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের হেফাজত করতে মহান আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা করাসহ দেশ ও দশের শান্তি সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া চা্ওয়া হয়। 

এ সময় রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের হায়াত বৃদ্ধি চেয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন মাওলানা মুফতি মো. মিজানুর রহমান। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। এ ছাড়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এবং মেয়র সাঈদ খোকনের বাবা ঢাকার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফের জন্য দোয়া চাওয়া হয়।

বর্তমানে দেশের উন্নয়ন তরান্বিত হচ্ছে উল্লেখ করে এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানানো হয় প্রধান জামাত থেকে। সেইসঙ্গে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দেশবাসীকে হেফাজত করতে সৃষ্টিকর্তার কাছে সাহায্য চাওয়া হয়।

প্রধান ঈদ জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদসহ দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এর আগে সকাল থেকেই ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে আসতে শুরু করেন নানা বয়সী মানুষ। এজন্য তাদের কয়েকস্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হতে হয়।


   Page 1 of 4
     ইসলাম
আখেরি মোনাজাত: যান চলাচল বন্ধ থাকছে যেসব সড়কে
.............................................................................................
ইজতেমা ময়দানে লাখো মুসল্লির জুমার নামাজ আদায়
.............................................................................................
ধর্ষণের শাস্তি ইসলামে ও অন্যখানে
.............................................................................................
ইসলামে প্রতিবন্ধীর সম্মান সমাদর
.............................................................................................
শব-ই-কদরের ছুটি ১৩ জুন
.............................................................................................
আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ)
.............................................................................................
হজযাত্রীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করবে সৌদি আরব
.............................................................................................
পরিবারের ভরণ-পোষণে কার দায়িত্ব কতটুকু? মুফতি মাহমুদ হাসান
.............................................................................................
আখেরী চাহার সোম্বা ১৫ নভেম্বর
.............................................................................................
স্বামীর প্রতি স্ত্রীর হক
.............................................................................................
স্ত্রীর প্রতি স্বামীর হক
.............................................................................................
আশুরার মহান শিক্ষা নিয়ে সকল অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান : প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
৮৮ হাজারেরও বেশি হজ যাত্রী দেশে ফিরেছেন
.............................................................................................
প্রথম ফিরতি হজ ফ্লাইট ঢাকায়
.............................................................................................
আগামীকাল থেকে ফিরতি হজফ্লাইট শুরু
.............................................................................................
ঈদ জামাতে বন্যার্ত ও রোহিঙ্গাদের জন্য দোয়া
.............................................................................................
ত্যাগের মহিমায় ঈদুল আজহা উদযাপন
.............................................................................................
‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ময়দান
.............................................................................................
হজ ফ্লাইট শেষ : ভিসাপ্রাপ্ত সকল হজযাত্রীর দেশ ত্যাগ
.............................................................................................
কোরবানীর হাটে অসুস্থ ও রুগ্ন পশু আনলে কঠোর ব্যবস্থা : ডিএসসিসি মেয়র
.............................................................................................
সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের সকল হজযাত্রীকে ভিসা প্রদান করেছে
.............................................................................................
রোজা ভঙ্গ হয় যেসব কারণে
.............................................................................................
রোববার শুরু পবিত্র মাহে রমজান
.............................................................................................
দেশের সব ‘মূর্তি’ অপসারণের দাবি হেফাজতের
.............................................................................................
সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
.............................................................................................
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
.............................................................................................
ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি ১৩ ডিসেম্বর
.............................................................................................
আগামীকাল টঙ্গিতে জোড় ইজতেমা বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি
.............................................................................................
সোনার হরফে কোরান লিখে ইতিহাস গড়লেন এক নারী শিল্পী
.............................................................................................
ইসলামে শিষ্টাচার
.............................................................................................
রাজধানীতে পবিত্র আশুরা পালিত
.............................................................................................
তাজিয়া মিছিল ঘিরে থাকবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা
.............................................................................................
আশুরা ১২ অক্টোবর
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রী কোরবানির গোস্তের যা করেন
.............................................................................................
জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা
.............................................................................................
বিদায় হজ্জের খুৎবা : বিশ্ব-শান্তির আলোকবর্তিকা
.............................................................................................
‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির’
.............................................................................................
জমে উঠেছে গাবতলী পশুর হাট
.............................................................................................
চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদুল আজহা ১৩ সেপ্টেম্বর
.............................................................................................
মক্কায় নবীদের স্মৃতিবিজড়িত স্থান
.............................................................................................
সৌদি আরবে পৌঁছে এ পর্যন্ত ৮ বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু
.............................................................................................
জুমার খুতবার বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ
.............................................................................................
জাকির নায়েক আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের শিক্ষাগুরু
.............................................................................................
ভারতে জাকির নায়েকের পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ
.............................................................................................
জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ৬৫ টাকা
.............................................................................................
রোজা কেন কখন এবং কীভাবে রাখবেন! গোলাম মাওলা রনি
.............................................................................................
রমজান উপলক্ষে ব্যাংকের নতুন সময়সূচি
.............................................................................................
আজ পবিত্র শবে মেরাজ
.............................................................................................
৪ মে পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ শনিবার ,
.............................................................................................

সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আবদুল মালেক, যুগ্ন সম্পাদক: নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া । সম্পাদক র্কতৃক ২৪৪ ( প্রথম তলা ) ৪ নং জাতীয় স্টেডিয়াম, কমলাপুর, ঢাকা -১২১৪ থেকে প্রকাশিত এবং স্যানমিক প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজেস, ৫২/২ টয়েনবি র্সাকুলার রোড, ঢাকা -১০০০ থেকে মুদ্রিত । ফোন:- ০২-৭২৭৩৪৯৩, মোবাইল: ০১৭৪১-৭৪৯৮২৪, E-mail: info@dailynoboalo.com, noboalo24@gmail.com Design Developed By : Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD